শিক্ষক জানেন না তাঁর প্রকৃত বাবা কে! - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষক জানেন না তাঁর প্রকৃত বাবা কে!

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর একজন শিক্ষকের শিক্ষা সনদে বাবার নাম লেখা আহমুদুর রহমান ফারুকী। কিন্তু তাঁর নিয়োগপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম লেখা মাহমুদুর রহমান ফারুকী। ১০ বছর ধরে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে কর্মরত। এই শিক্ষক হলেন বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি মকছুদা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছৈয়দা মোবারেকা সোলতানা। শনিবার (১৯ অক্টোবর) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানতে চাইলে এই শিক্ষক বলেন, ‘আমার প্রকৃত বাবা কে আমি এখনো জানি না। আমার মা রাহেনা বেগম বলেছেন, আমার প্রকৃত বাবা আহমুদুর রহমান ফারুকী। আমি তাঁকে বাবা বলে ডাকি। সেই হিসেবে মাদরাসার প্রতিটি সার্টিফিকেটে আমার বাবার নাম আহমুদুর রহমান ফারুকী। শিক্ষক নিয়োগপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রে কীভাবে বাবার নাম মাহমুদুর রহমান ফারুকী হলো তা জানি না।’

জানা গেছে, আহমুদুর রহমান ফারুকী ও মাহমুদুর রহমান ফারুকী আপন ভাই। আহমুদুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে তাঁর ভাই মাহমুদুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

সম্প্রতি দাখিল সনদে বাবার নাম পরিবর্তন করে মাহমুদুর রহমান ফারুকী করার জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসার অধ্যক্ষের মাধ্যমে ঢাকা মাদরাসা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছৈয়দা মোবারেকা সোলতানা ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। তিনি ছনুয়া তোতকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বদলি হয়ে পুঁইছড়ি মকছুদা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

সোলতানা ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে ছনুয়া খুদুকখালী হোসাইনিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। মাদরাসার প্রতিটি সনদে তাঁর বাবার নাম রয়েছে আহমুদুর রহমান ফারুকী। মাদরাসার শিক্ষকরাও জানেন তিনি আহমুদুর রহমান ফারুকীর মেয়ে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক পদে নিয়োগপত্রে তাঁর বাবার নাম লেখা হয়েছে চাচা মাহমুদুর রহমান ফারুকীর। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে করা তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানায় উল্লেখ আছে—বাবা : মাহমুদুর রহমান ফারুকী, মাতা : রাহেনা বেগম, হাজি অলি মিয়া সিকদারপাড়া, খুদুকখালী, ছনুয়া, বাঁশখালী। নম্বর-১৫২৭৭৩২০৪১৬৯।

জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান ফারুকী বলেন, ‘সোলতানা আমার মেয়ে। আমি একজন স্কুলশিক্ষক। জেলা শিক্ষা অফিস ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে শিক্ষক নিয়োগপত্রে পিতার জায়গায় আমার নামটি বসিয়েছি। সার্টিফিকেটেও নাম পরিবর্তনের জন্য মাদরাসা অধ্যক্ষকে ম্যানেজ করে ঢাকা মাদরাসা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন হয়ে আসবে। আমার সার্টিফিকেটেও এ রকম জটিলতা ছিল। সব কিছু ম্যানেজ করে আমি অবসরে গিয়ে পেনশন উত্তোলন করেছি। এটা কোনো সমস্যা নয়।’

কিন্তু আহমুদুর রহমান ফারুকী বলেন, ‘এটা বড় ধরনের জালিয়াতি। শিক্ষিকা ছৈয়দা মোবারেকা সোলতানা আমার মেয়ে। আমার ভাই জালিয়াতি করে নিয়োগপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম বসিয়েছে।’

বাঁশখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতির বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার দেখার বিষয় না। তার পরও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

করোনায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩ হাজার ২০১ - dainik shiksha করোনায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩ হাজার ২০১ প্রাথমিকে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আসছে - dainik shiksha প্রাথমিকে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আসছে গার্ডেনিং করতে ৫ হাজার করে টাকা পাবে ১০ হাজার স্কুল - dainik shiksha গার্ডেনিং করতে ৫ হাজার করে টাকা পাবে ১০ হাজার স্কুল কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের নতুন সচিব আমিনুল ইসলাম - dainik shiksha কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের নতুন সচিব আমিনুল ইসলাম চলতি মাসেই স্থায়ী হচ্ছেন প্রাথমিকের অস্থায়ী প্রধান শিক্ষকরা - dainik shiksha চলতি মাসেই স্থায়ী হচ্ছেন প্রাথমিকের অস্থায়ী প্রধান শিক্ষকরা সৌদি আরবে থেকেও নিয়মিত হাজিরা, এমপিওভুক্তি! - dainik shiksha সৌদি আরবে থেকেও নিয়মিত হাজিরা, এমপিওভুক্তি! শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান - dainik shiksha শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে টেসলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ - dainik shiksha শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে টেসলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণ শুরু ৭ জুলাই - dainik shiksha সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণ শুরু ৭ জুলাই অটোপাস দিতে পারবে স্কুল-কলেজগুলো - dainik shiksha অটোপাস দিতে পারবে স্কুল-কলেজগুলো বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক - dainik shiksha বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে - dainik shiksha শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website