শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে পচন ধরেছে - মতামত - Dainikshiksha

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে পচন ধরেছে

খন্দকার ফারজানা রহমান |

আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাসের যে সম্পর্কটা ছিল, সেটাতে আসলে কিছুটা হলেও পচন ধরেছে। আমরা যদি গত পাঁচ বছরের চিত্র দেখি, তাহলেই তা বোঝা যাবে। ২০১৭ সালে এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৯ জন শিক্ষকের দ্বারা তাদের ছাত্র বা ছাত্রী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষক। কিন্তু আমি বলছি না, মাদরাসাতেই এ ঘটনা বেশি হয়, তবে অনুসন্ধানে তা দেখা গেছে।২০০৯ সালে হাইকোর্ট একটি গাইডলাইন দিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি থাকবে। এর প্রধান অবশ্যই নারী হতে হবে। এই কমিটির একটি অভিযোগ বাক্স থাকবে, যেখানে কেউ তার নাম প্রকাশ করে বা না করে তার অভিযোগ জমা দিতে পারবে।                                                                                                                                   

এরপর ওই কমিটি সেই অভিযোগ তদন্ত করবে। কমিটি যদি অভিযোগের প্রমাণ পায়, তাহলে অভিযুক্তের চাকরি চলে যেতে পারে অথবা তার ডিমোশন হতে পারে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথায়ও এ কমিটি হয়নি। ২০১৮ সালে অ্যাকশন এইডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কমিটি যে থাকতে হবে তা ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীই জানে না। এর অর্থ, সচেতনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেই, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যেও নেই।

          

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল ওই কমিটিগুলোকে সুপারভাইজ করা। কিন্তু সেই বিষয়টিও হয়নি। এখন পর্যন্ত ইউজিসিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ব্যাপারে সুপারভাইজ করেনি। এতে আমরা বলতে পারি, শিক্ষা ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন রোধে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে যৌন নিপীড়ন কমছে না।

সচেতনতা একটি বড় বিষয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যে একটা বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক ছিল, সেটা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। এখন শিক্ষকরা অনেক সময় বৈষম্য করেন। আমরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেস দেখেছিলাম, একটি ছেলে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে, কিন্তু মাস্টার্সে তাকে বিভিন্ন কায়দায় নম্বর কম দেওয়ায় আত্মহত্যা করেছে।

শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভালো শিক্ষক, মডেল শিক্ষক খোঁজে। শিক্ষকদেরও যে জায়গায় থাকার কথা ছিল, অনেকেই সেই জায়গায় নেই। আহমেদ শরীফ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের সময়তো এই বিষয়গুলো হয়নি। কিন্তু আমাদের সময় কেন হবে? সুতরাং শিক্ষকরা তাদের যে ইমেজ সেখান থেকে সরে আসছেন। তারা খুব কমার্শিয়াল চিন্তা করছেন। শিক্ষকদের যে সম্মান দেওয়ার কথা, সে জায়গা থেকে সরে আসছে শিক্ষার্থীরাও।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অনুলিখন : শরীফুল আলম সুমন

সূত্র: কালেরকন্ঠ

বেসরকারি চাকরিজীবীরাও ফ্ল্যাট পাবে : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha বেসরকারি চাকরিজীবীরাও ফ্ল্যাট পাবে : প্রধানমন্ত্রী একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেভাবে এইচএসসির ফল সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো - dainik shiksha যেভাবে এইচএসসির ফল সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো - dainik shiksha অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো এইচএসসি পরীক্ষার ফল ১৭ জুলাই - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার ফল ১৭ জুলাই ঢাবির ভর্তির আবেদন শুরু ৫ আগস্ট, পরীক্ষা ১৩ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha ঢাবির ভর্তির আবেদন শুরু ৫ আগস্ট, পরীক্ষা ১৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website