শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা যেন ভুল বার্তা না দেয় - মতামত - Dainikshiksha

শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা যেন ভুল বার্তা না দেয়

এ কে এম শাহনাওয়াজ |

বিএনপি, জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগ যে দল যখন সরকার গঠন করেছে সেই দলের ছাত্রসংগঠন তখন সরকার বা সরকার সমর্থিতদের হুকুমবরদার হয়েছে। ছাত্রকল্যাণ ইস্যুতে ভূমিকা না রেখে লাঠিয়াল হিসেবে নিজেদের পরিচিত করিয়েছে। অস্ত্রশক্তি আর অর্থশক্তিতে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য দলের নিয়ন্ত্রকরাই সমর্থন ও সহযোগিতা জুগিয়েছেন। ফলে এসব সংগঠনের ছাত্র ও ছাত্রনেতারা ক্যাম্পাসে আর সাধারণ ছাত্রের পরিচয়ে থাকেননি বা থাকতে চাননি। তাঁরা হয়েছেন ‘অসাধারণ’ ছাত্র। ক্যাম্পাসে ‘পলিটিক্যাল’ ছাত্র পরিচয়ে অহংবোধ বজায় রাখছেন। হলগুলোতে এই অসাধারণদের ঘর বা ব্লক পলিটিক্যাল কক্ষ বা ব্লক নামেই পরিচিত হয়েছে। এখন ‘ঐতিহ্য’ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের অর্থাৎ ছাত্রলীগের আধিপত্য। দল বেশিদিন ক্ষমতায় থাকায় দেশজুড়ে ছাত্রলীগের উন্মত্ততার তালিকা নিতান্ত ছোট নয়। আর নির্বাচনী বছরে তা মাত্রা ছাড়াচ্ছে। আমরা যারা চাই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ধারণ করা ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট দল সরকার পরিচালনায় থাকুক; কিন্তু বাস্তব অবস্থা দেখে আমাদের দুশ্চিন্তার ঈশান কোণে মেঘ জমছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের কথা মনে পড়ছে। আর এসব কারণে অতি সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের হাত থেকে উপাচার্যকে উদ্ধারের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, একই সূত্রে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ইত্যাদি দেখে ভাবছিলাম, ছাত্রলীগের সম্মানিত নিয়ন্ত্রকদের কাছে প্রশ্ন রাখব, ছাত্রলীগের প্রকৃত দায়িত্ব কী? আর ওরা কী করছে? এই প্রশ্ন রেখেই কলামটি লিখব। কিন্তু দেখলাম আমার প্রশ্ন করার আগেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উত্তর দিয়ে দিলেন। আমি ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল ছাত্র দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছিল। এটি স্বাভাবিক চিত্র। এই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কারো রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্টতা ছিল, কেউ কেউ আবার দলপরিচয় ছাড়া সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপুটে ছাত্রলীগ তাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। অভিযোগ ওঠে, কোনো কোনো ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেছিল ছাত্রলীগকর্মীরা। এ সময়ের বাস্তবতায় ছাত্রলীগ যেহেতু প্রশাসনের মদদ পায় বলে প্রচলিত প্রচারণা রয়েছে এবং বাস্তবতার নিরিখে মানুষ তা অবিশ্বাসও করে না, তাই ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় আন্দোলন বড় হয়ে তা প্রশাসনবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হওয়াটা অসম্ভব কিছু ছিল না। এই পরিস্থিতিতে সংকট বাড়তে না দিয়ে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সুরাহার পথে যাওয়া জরুরি ছিল। আমি জানি না, সে পথে প্রশাসন হেঁটেছিল কি না। দৃশ্যত আমরা তা দেখিনি। এ অবস্থায় মনে হতে পারে, যেহেতু অভিযুক্তরা ছাত্রলীগকর্মী, তাই প্রশাসন নীরব থেকেছে। এমন বাস্তবতায় স্বাভাবিকভাবেই আন্দোলন প্রশাসনবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দম্ভ অরাজকতার জন্ম দেয়। অনেককেই যুক্তিহীন করে তোলে। আন্দোলনকারীরাও যুক্তি অতিক্রম করেছিল। তারা উপাচার্যের অফিস ঘেরাও করে উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্য আহ্বান করতে পারত। উপাচার্য মহোদয়ও পারতেন আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে। তা সম্ভব না হলে পারতেন শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের অকুস্থলে আসার অনুরোধ করতে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদেরও অসংযত হওয়া উচিত হয়নি। গেট ভেঙে উপাচার্যের অফিসে প্রবেশ করে অশোভন আচরণ করা (পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী) অন্যায় হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে অগত্যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ডাকা যেতে পারত। অন্তত তা ছাত্রলীগের পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেয়ে শোভন হতো। ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগকে ডেকে এনেছে’—প্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যদি ছাত্রলীগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে থাকে, তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। উপাচার্য বা প্রশাসনকে আন্দোলনকারী সতীর্থ ছাত্রদের হাত থেকে ‘রক্ষা করতে’ শক্তি প্রয়োগ করার দায়িত্ব কেউ ছাত্রলীগকে নিশ্চয় দেয়নি। এ কারণেই আমি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রকদের কাছে প্রশ্ন রাখার কথা ভাবছিলাম। বলতে চেয়েছিলাম, এভাবে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রশাসনের রক্ষক হতে গিয়ে যেভাবে সতীর্থদের ওপর চড়াও হচ্ছে, একে নিয়ন্ত্রণের কোনো চিন্তা করছেন কি না!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদের নিজে থেকেই জানিয়ে দিলেন তাঁদের বর্তমান দর্শন। তিনি যা বললেন, তার মর্মকথা সীমা লঙ্ঘনকারী আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়ে উপাচার্যকে ‘লাঞ্ছনার হাত থেকে’ রক্ষা করে বরং দায়িত্ব পালন করেছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। অর্থাৎ এভাবে শক্তি প্রয়োগের অধিকার তারা পেতেই পারে। আমাদের মনে হলো, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেল। আর এই সার্টিফিকেট পাওয়ার ফল পেতেও দেরি হলো না। ঢাকার ঘটনার প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্ররা রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করলে সেখানে উপাচার্য রক্ষার প্রশ্ন না থাকলেও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা সতীর্থদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং রক্তাক্ত করে। বিষয়টা অনেকটা এমন, ‘এমনি নাচুনে বুড়ি, তার ওপর ঢোলের বাড়ি!’ অনেক রক্ষণশীল সমালোচক বলেন, এ দেশের উজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতির ঔজ্জ্বল্য নিষ্প্রভ হওয়া শুরু হয়েছে স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকেই। এখন তা উড়িয়ে দিতে মন সায় দেয় না।

জনাব ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ নেতারা নিশ্চয় ভুলে যাননি ছাত্রলীগ শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর এই প্রথম চড়াও হয়নি। তারা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে উপাচার্যকে সাহায্য করতে গিয়ে বুয়েট আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছিল। সম্ভবত ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রবল সর্বাত্মক আন্দোলন হয়। সে সময় ছাত্রলীগও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। উপাচার্য রক্ষক হয়ে দাঁড়ানো ছাত্রলীগ সবার মুখে মুখে তখন ‘উপাচার্য লীগ’ নামে পরিচিতি পায়। সে সময় আন্দোলনকারী সংস্কৃতিকর্মীদের প্রচণ্ড মারধর করে ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপরও হামলা করে। ছাত্রলীগকর্মীদের ছোড়া ইটে শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল তখন। এসবের ফল ভালো হয়নি বলে শেষ পর্যন্ত সরকার উপাচার্য মহোদয়কে পদত্যাগ করাতে বাধ্য হয়েছিল।

সব শাসনপর্বেই আমরা লক্ষ করেছি, একপর্যায়ে এসে আমাদের ক্ষমতাবানরা কোনো সমালোচনা পছন্দ করেন না। উচ্চপর্যায়ের নেতারাও অশোভন-অরুচিকর মন্তব্য করে নিজেদের উজ্জ্বল অবস্থান নড়বড়ে করেন। আওয়ামী লীগের ভুলে যাওয়া উচিত নয় ২০০১ সালের নির্বাচনের কথা। আওয়ামী লীগ যত ব্যাখ্যাই দিক না কেন, এই দলের ৬২টি আসন পাওয়া মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। স্থূল বা সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ ছেড়ে দিলেও এই সত্য অস্বীকার করা যাবে না যে আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাস মানুষকে সে সময় ক্ষুব্ধ করেছিল। বিশেষ করে কয়েকটি অঞ্চলে কয়েকজন সন্ত্রাসী গডফাদারের কথা মানুষ ঘৃণাভরে উচ্চারণ করত। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তাদের প্রশ্রয় দিয়েই রেখেছিল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির এটি ছিল অন্যতম কারণ। আবার এখন তাদের অনেকে দলের পক্ষপুটে বহাল হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস তো চলছেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্টা ও শ্রমে যে উন্নয়নের চাকা সচল হয়েছে, এদের কারণে এর সুফল কতটা পাবে বলা মুশকিল। সৌভাগ্য এটিই, প্রতিপক্ষ বিএনপির অবস্থা তেমন সবল নয়। আর এই দলের নেতারা সময়ের উপযোগী রাজনৈতিক আচরণও করতে পারছেন না। এ কারণেই হয়তো আওয়ামী লীগ নির্বাচনে উতরে যাবে।

জটিলতার শুরু তো ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন দুর্বিপাকে ফেলে দিলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু হয়। এটি তো ছাত্রদের একান্ত নৈতিক দাবি ও আন্দোলন ছিল। ছাত্রসংগঠনগুলোর তো ছাত্রকল্যাণের জন্যই পাশে দাঁড়ানোর কথা। আমি তাহলে সবিনয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জানতে চাই, সাতটি কলেজের অসহায় ছাত্রদের পাশে কি ছাত্রলীগ দাঁড়িয়েছে? তাদের দাবির পক্ষে কি নিদেনপক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছে? আসলে জনাব ওবায়দুল কাদের যৌক্তিক কারণেই ছাত্রলীগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পাশে দাঁড়ানোর সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কারণ দলীয় উপাচার্যকে নিরাপদ রাখার দায় তো দলীয় ছাত্রদেরই থাকবে। তাঁরা জানেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো হয় দলীয় বিবেচনায়। সে কারণে এখন স্যার এ এফ রহমান, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর মতো পণ্ডিত উপাচার্যদের কথা স্মৃতি থেকেই স্মরণ করি। রাজনীতির চাপে এই ধারা আর টিকে থাকল না। এই মনীষী শিক্ষক-উপাচার্যদের আত্মরক্ষার যেমন প্রয়োজন ছিল না, তেমনি তাঁদের ছাত্র আন্দোলনের তোপ থেকে রক্ষা করার জন্য ছাত্র-লাঠিয়ালেরও প্রয়োজন ছিল না। এসব কারণে আমি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তেমন দোষ দিই না। ওদের অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের নষ্ট রাজনীতি। এইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাচারের একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী জুবায়ের হত্যার বিচারের আপিল আদালতের রায় বেরোল। পাঁচজন ছাত্রলীগকর্মী হত্যাকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। আর দুজন যাবজ্জীবন দণ্ডের সাজা পেয়েছে। এভাবে দলীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এরা যে নির্ভয় থাকে এবং দিনদুপুরে বন্ধুকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করতে পারে, এ তো অনেক দৃষ্টান্তের একটি।

তাই আমরা নির্ভাবনায় চলা নিরুত্তাপ আওয়ামী লীগ নেতাদের সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সাধারণ মানুষ কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই অসাধারণ। তারা ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে জানে। সুতরাং অন্তত নির্বাচনী বছরে এমন কথা না বলাই ভালো, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যায়।

 

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

সৌজন্যে: কালের কন্ঠ

বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি - dainik shiksha পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ  বাতিল - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website