please click here to view dainikshiksha website

প্রধান সমস্যা আবাসন

শিক্ষার্থী হারাচ্ছে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

চাঁদপুর প্রতিনিধি | জানুয়ারি ৭, ২০১৭ - ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

নাম চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। তবে এর অবস্থান চাঁদপুর শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে, কচুয়া উপজেলায়। কচুয়া বাইপাস সড়কের পাশে প্রায় নির্জন স্থানে।

ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নেই। আশপাশেও আবাসনের তেমন সুযোগ নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বললেন, আবাসনসংকটই এই ইনস্টিটিউটের প্রধান সমস্যা। শুধু এ সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত আসন কোনো বছরই পূরণ হচ্ছে না। আবার যাঁরা ভর্তি হচ্ছেন, তাঁরাও পরে চলে যাচ্ছেন; বিশেষ করে ছাত্রীরা।

ইনস্টিটিউট সূত্র বলেছে, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল চাঁদপুর শহরের টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন একটি জায়গায়। এ জন্য সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ ভবন তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্নও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের নিজ নির্বাচনী এলাকা কচুয়া উপজেলায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।

গত ২০ ডিসেম্বর এই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যেতে চাঁদপুর শহর থেকে বাসে উঠতে হলো। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে শাহরাস্তির কালিয়াপাড়ায় বাস থেকে নামতে হলো। ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। পরের ১৫ কিলোমিটার যাওয়ার জন্য উঠতে হলো সিএনজিচালিত অটোরিকশায়, ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা। কচুয়া বাইপাস লাগোয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এর আশপাশের কয়েক শ গজের মধ্যে কোনো বসতি ও দোকানপাট নেই।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এ এম এম নাজমুল হকের কক্ষে কথা হয় তিনিসহ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে। তাঁরা বললেন, পাঁচটি বিভাগ মিলিয়ে শিক্ষার্থী থাকার কথা ২ হাজার ৩৮০ জন। কিন্তু এখন আছে দেড় হাজারের মতো। চলতি বছর নির্ধারিত ৭২০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন ৫৪১ জন শিক্ষার্থী। ছাত্রী কোটা ১২০ জন, আছেন ৬০ জনের মতো। শিক্ষক আছেন ৩২ জন, তাঁদের ৮ জন নারী।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বললেন, আবাসন সমস্যার কারণে ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থী হারাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের কচুয়া সদর, শাহরাস্তির বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে মেস করে থাকেন। কেউ কেউ চাঁদপুর শহর থেকেও আসেন। এ জন্য কষ্টের পাশাপাশি যাতায়াত খরচে অনেক টাকা যায়।

আশপাশে ভালো বাসা না থাকায় শিক্ষকদের বেশির ভাগ কুমিল্লা, চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জে বাস করেন। ইনস্টিটিউটের ভেতরে অধ্যক্ষের বাসভবনে তিনি ছাড়াও থাকেন কয়েকজন শিক্ষক।

ইনস্টিটিউটের চিফ ইনস্ট্রাক্টর হুমায়ুন কবির বলেন, বিকেলের পালার ক্লাস সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চললেও তার আগেই নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের ছেড়ে দিতে হয় নিরাপত্তার দিক চিন্তা করে। কারণ, তাঁরা দূরে থাকেন।

ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বিভাগের ইনস্ট্রাক্টর মুনমুন শান্তা কচুয়া বাজারের কাছে এক বাড়িতে কয়েকজন ছাত্রীকে নিয়ে মেস করে থাকেন। তিনি বললেন, এখানে পড়তে আসা মেয়েদের বেশির ভাগ বাইরের জেলার। স্বাভাবিক কারণেই ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এর সঙ্গে বাড়তি খরচের বিষয়টি আছে।

অধ্যক্ষ নাজমুল হকের ভাষ্য, আবাসনসংকটের কারণেই অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা পরে ভর্তি বাতিল করে চলে যান। আবাসন সমস্যার কারণে শিক্ষকেরাও থাকতে চান না। একটি ছাত্রীনিবাস করার জন্য দুই একর জায়গা নির্ধারিত আছে। তবে ছাত্রাবাস কিংবা শিক্ষকদের আবাসনের জন্য জায়গা রাখা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বললেন, ব্যাপক লোডশেডিং, খাওয়ার পানির সমস্যাসহ আরও কিছু সমস্যা আছে। ইনস্টিটিউটে জেনারেটর নেই।

জানা গেল, ২০০৫ সালে বরাদ্দ পাওয়া ৬০টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৫টিই এখন নষ্ট। যেগুলো চালু আছে, সেগুলো দিয়ে কাজ করা মুশকিল।

অধ্যক্ষ বলেন, আবাসন, জেনারেটরসহ অন্যান্য সমস্যা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি ও অন্য শিক্ষকদের দাবি, ক্যাম্পাসের নির্ধারিত জায়গায় একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনে জায়গা কিনে হলেও ছাত্র ও শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একটা খেলার মাঠেরও প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, যে প্রকল্পের আওতায় নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো করা হয়েছে, তার কোনোটিতেই ছাত্রাবাস ও শিক্ষকদের আবাসনের সুযোগ রাখা হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন: