শিক্ষা ক্যাডারে মোহেববুল্লাহর নিয়োগ অবৈধ - কলেজ - Dainikshiksha

শিক্ষা ক্যাডারে মোহেববুল্লাহর নিয়োগ অবৈধ

রুম্মান তূর্য |

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের নিয়োগ অবৈধ। সরকারি কর্মকমিশন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ শতাংশ কোটায় সরাসরি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে সত্যতা মেলে। গত ১৮ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয় অধিদপ্তরে। 

জানা গেছে, মোহেববুল্লাহ খান ১০ শতাংশ কোটায় পূর্বের অভিজ্ঞতা প্রদর্শনপূর্বক পিএসসি’র মাধ্যমে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক পদে ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ পদে প্রেষণে কর্মরত আছেন। 

কলেজটির অপর এক প্রভাষক জানান, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান সরকারি কর্মকমিশন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইতিহাস বিভাগে ১০ শতাংশ কোটায় সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। পূর্বের যে অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন, সে চাকরিতে তার নিয়োগ অবৈধ ছিলো।


 
অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ১৯৯৮ খিস্টাব্দের ৩০ জুলাই গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজে ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করেন। সে প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর তাকে সাময়িক নিয়োগ দেয়া হয়। যথাসময়ে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেয়া হবে বলে সাময়িক নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মার্চ তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়। একই বছরের ২২ মার্চ প্রভাষক পদে যোগদান করেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই নিয়োগ পরীক্ষায় দুইবার নিয়োগপত্র দেয়ার কোনো বিধি প্রচলিত নেই। 

পরবর্তীতে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ তারিখের নিয়োগের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল এবং একই বছর ৩০ মার্চ দেয়া নিয়োগ
পত্রের ভিত্তিতে মোহম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল কলেজটিতে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি ২০০০ খ্রিস্টাব্দে প্রভাষক পদে এবং পরে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে মে মাসে উপাধ্যক্ষ হিসেবে প্রথম এমপিওভুক্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উপাধ্যক্ষ পদ না থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।  

তদন্ত প্রতিবেদন আরও বলা হয়, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট শীটে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে চাঁদপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবু তাহেরের যে স্বাক্ষর রয়েছে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া মহাপরিচালকের প্রতিনিধি নিয়োগের কোনো চিঠি নেই। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফলাফল শীটে বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রনব কান্তি চৌধুরীর যে স্বাক্ষর রয়েছে তা কোনোভাবেই সত্য নয়। কারণ, ওই সময়ে চাঁদপুর মহিলা কলেজে প্রনব কান্তি চৌধুরী নামের কোনো সহকারী অধ্যাপক কর্মরত ছিলেন না মর্মে কলেজে কর্তৃপক্ষ তদন্তদলকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তাই বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরটি যথাযথ নয়। এছাড়া তদন্তে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির স্বাক্ষর ও সিল নেই। অর্থাৎ সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে একমত নন।

তদন্ত প্রতিবেদন বলেছে, যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট শিটে ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষরে গড়মিল রয়েছে। বিষয় বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষর সঠিক নয় এবং গভর্নিং বডির সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর নেই। তাই মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ সঠিক নয়। যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের নিয়োগ সঠিক নয় তাই ওই প্রতিষ্ঠানে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ শতাংশ কোটায় সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে তার নিয়োগ বৈধ হতে পারে না।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ২য় শ্রেণিতে দাখিল পাস করেন। দাখিলের সনদে তার জন্ম তারিখ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি। সে হিসেবে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে আলিম পাস করেছেন তিনি। কিন্তু অভিযোগকারীর দেয়া সনদ অনুসারে মোহেববুল্লাহর জন্ম তারিখ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর। তিনি গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে ২য় বিভাগে এসএসসি পাস করেন। কিন্তু চাকরি জীবনে কোথাও এসএসসি সনদটি ব্যবহার করেননি তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে আলিম ও ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে এসএসসি পাসের বিষয়টি একই সেশনের আওতায় হওয়ায় পরপর দুই বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে দুটি সনদ অর্জন করা সম্ভব নয়। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ফাজিল পাস করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি তথ্য গোপন করে দুইটি ভিন্ন ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ অর্জন করায় কাঙ্খিত সময়ের কম সময়ে সনদ অর্জন করেছেন তিনি। 

জানা গেছে, এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তখন তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়।  শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানকে ভোলা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর তাকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজে বদলি করা হয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অনত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সুপারিশ করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব। কিন্তু বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান, সরকারের বদলির আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসারে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজে কর্মরত আছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মামলা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।  
         
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, পূর্বে নিয়োগের সময় আমি কলেজ কর্তৃপক্ষের কেউ ছিলাম না। তাই নিয়োগের রেজাল্ট শীটে কার কী স্বাক্ষর রয়েছে তা আমি বলতে পারিনা। তদন্ত করে দেখুন, আমাকে এ জিজ্ঞেসা করছেন কেনো? তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এ তথ্য জানালে তিনি কোন মন্তব্য না করে ফোন কলটি কেটে দেন।   

আসছে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ সুপারিশ - dainik shiksha আসছে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ সুপারিশ স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ১৪ মার্চ - dainik shiksha স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ১৪ মার্চ এনটিআরসিএর ভুল, আমি পরিপত্র মানি না.. (ভিডিও) - dainik shiksha এনটিআরসিএর ভুল, আমি পরিপত্র মানি না.. (ভিডিও) এমপিওভুক্তির নামে প্রতারণা, মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এমপিওভুক্তির নামে প্রতারণা, মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি শিক্ষকদের কোচিং করাতে দেয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষকদের কোচিং করাতে দেয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী জারির অপেক্ষায় অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ যোগ্যতার সংশোধনী - dainik shiksha জারির অপেক্ষায় অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ যোগ্যতার সংশোধনী ৬০ বছরেই ছাড়তে হবে দায়িত্ব - dainik shiksha ৬০ বছরেই ছাড়তে হবে দায়িত্ব ফল পরিবর্তনের চার ‘গ্যারান্টিদাতা’ গ্রেফতার - dainik shiksha ফল পরিবর্তনের চার ‘গ্যারান্টিদাতা’ গ্রেফতার নকলের সুযোগ না দেয়ায় শিক্ষিকাকে জুতাপেটা - dainik shiksha নকলের সুযোগ না দেয়ায় শিক্ষিকাকে জুতাপেটা প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা - dainik shiksha প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website