শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও তিন বোর্ডে আড়াইশ কোটি টাকার অডিট আপত্তি - বিবিধ - Dainikshiksha

অনিয়ম দুর্নীতিশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও তিন বোর্ডে আড়াইশ কোটি টাকার অডিট আপত্তি

রাকিব উদ্দিন |

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোতে কেনাকাটা ও ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডগুলো নিয়মিত অডিট আপত্তিও নিষ্পত্তি করতে পারছে না। অনিয়ম, ব্যয়ের ভাউচারে গোঁজামিল থাকায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা বার বার বোর্ডগুলোকে তাগাদা দিলেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এজন্য বছর বছর অনিয়মের বোঝা বেড়েই চলেছে। সবমিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও তিন শিক্ষা বোর্ডে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার অডিট আপত্তির তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ঢাকা, বরিশাল ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের কেনাকাটা ও ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে আসে সরকারের অডিটে। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডেও একই চিত্র বিরাজ করছে বলে মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, পুরনো অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দু’একটি বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভুয়া ও অবাস্তব খরচের ব্যয় দেখিয়ে ভাউচার তৈরি করে ত্রিপক্ষীয় সভায় উপস্থাপন করছেন। এজন্য সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩২ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৮ টাকার অডিট আপত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। আর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে সাত কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৭৯ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার অডিট আপত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক অডিট অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমাদের অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির মধ্যে পুরনো আপত্তিই বেশি। মোট ১৭৮টি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিতে অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কাগজ-কলম ও খাতা, দাপ্তরিক প্যাড, আপ্যায়ন ভাতা, সম্মানি- এই ধরনের বিভিন্ন ব্যয়ের বিল-ভাউচার খোয়া গেছে। কিছু অনিয়ম, দুর্নীতিও থাকতে পারে। এজন্য অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।’

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০০১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির সংখ্যা ৮৩টি। এগুলোতে অর্থের পরিমাণ সাত কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬৫টি অডিট আপত্তির জের ছিল পাঁচ কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আর ২০১৫ থেকে ২০১৬ অর্থবছরে নতুন আপত্তি যোগ হয় এক কোটি ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৮০টি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণ ৩২ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৮ টাকা।

এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অডিট অফিসার আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘এই বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর কিছু কিছু অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আপত্তি ও অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি বোর্ড, অডিট অধিদফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়- এই ত্রিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে নিয়মিত আপত্তিগুলো নিষ্পত্তিও করা হচ্ছে। কিন্তু সব কেনাকাটার ডকুমেন্টস (দলিল বা প্রমাণ) সব সময় পাওয়াও যায় না। আবার কিছু কিছু ডকুমেন্টস অনেক সময় ত্রিপক্ষীয় সভা গ্রহণও করেন না। এগুলোই অডিট আপত্তি।’

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ হাজার ১৬টি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি রয়েছে। এগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণ ১২৮ কোটি ৮৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। এই অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়মিত তাগাদা দিয়ে আসছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করতে জোরালো চেষ্টা চলছে। প্রতিমাসে সভাও করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কেনাকাটা ও সাধারণ ব্যয়ের বিল-ভাউচার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ খরচের প্রমাণও দেখাতে পারছে না। এজন্য আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

সূত্র: সংবাদ

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়নের পদ্ধতি খুঁজছে এনসিটিবি - dainik shiksha তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়নের পদ্ধতি খুঁজছে এনসিটিবি নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ - dainik shiksha নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না - dainik shiksha ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে - dainik shiksha দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য - dainik shiksha সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website