সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীরা, সমাধানে সাড়া নেই - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীরা, সমাধানে সাড়া নেই

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

দীর্ঘ ২৮ বছর পর সচল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ছিল অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে, ডাকসু সচল হলে পরিবহন খাতের লাগামহীন সমস্যার সমাধান হবে। এই আশা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা।  সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আবদুল্লাহ আল জোবায়ের।

শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত এসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রশাসনকে বললেও কাজ হচ্ছে না, তাই অনেকটাই চুপসে গেছেন। শিক্ষার্থীরা পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ডাকসুর পরিবহন সম্পাদককে সমস্যা সমাধানে কার্যত ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।

ডাকসু সচল হওয়ার সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যেও নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহারের বাস্তবায়ন করতে পারেনি অধিকাংশ ছাত্র নেতা। সীমাহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাস্তবায়নে ‘পিছিয়ে’ থাকাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক হওয়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামস-ই-নোমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ডাকসু সচল হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ‘সমস্যা সমাধানে সাড়া না দেয়ার অভিযোগ করে আসছেন।

ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচনের ইশতেহারে বলা আছে যে, ‘অনাবাসিক শিক্ষার্থী পরিবহনে রুট ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ এবং বাস ছাড়ার সর্বশেষ সময়সীমা রাত ৯টা নির্ধারণ করতে হবে। ট্রিপ, ট্রিপের সময়সূচি ও বাসের অবস্থান তথ্য অনলাইনে পাওয়ার জন্য ‘অ্যাপ’ ব্যবস্থা চালু করা।’ এছাড়াও ইশতেহারে ধারাবাহিকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের সাড়ে পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সে ইশতেহার পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নের লাল বাসে নেই ফিটনেস ও দক্ষ চালক।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই দেশের সেরা মেধাবীরা যাতায়াত করছে দিনের পর দিন। বৃষ্টি হলে বাসের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তাছাড়া পর্যাপ্ত বাস ও রুট না থাকার পাশাপাশি অভাব রয়েছে সিট ও ফ্যানেরও। বৃষ্টির সময় অনেক বাসের সামনের কাচ পরিষ্কার করতে নেই কোন ওয়াইপার। এ বিষয়ে কোন ভ্রƒক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবহনের বেহাল দশা হলেও শিক্ষকদের জন্য নতুন অত্যাধুনিক বাস কেনা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার পর থেকে বেশিরভাগ রুটের ট্রিপে যে পরিমাণ অসহনীয় ভিড় হয়, ঢাকার কোন থার্ড ক্লাস লোকাল বাসেও এমন ভিড় হয় না। এত ভিড়ের মধ্যেও বাসে পর্যাপ্ত ফ্যান পর্যন্ত থাকে না। যে পরিমাণ বাস ট্রিপ দেয় তার সংখ্যা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। প্রচুর ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায়ই যাতায়াত করে দেশে সর্বোচ্চ মেধাবীরা। কিছু কিছু বাসের সিটের অবস্থা তো যাচ্ছে তাই। এছাড়া বাসে প্রতিদিন ৫-৭ জন স্টাফ যাওয়া আসা করে, যদিও তাদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা আছে।

এসবের দিকে প্রশাসন তো নজর দেয় না। এমনকি এসব বিষয়ে ডাকসুও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শিক্ষার্থীরা বলেন, লাল বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে আবার লাল বাসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। বিআরটিসির বাসের কোন স্বতন্ত্রতা নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের স্টিকার লাগিয়ে যখন লোকালে বাস চালানো হয়, তখন আমরা বিব্রত হই। শিক্ষার্থীরা বাস ছাড়ার সর্বশেষ সময়সীমা রাত ৮টা করার দাবি জানান। তারা বলেন, শেষ বাসের সময় বাড়ানো হোক এটা সবারই দাবি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ বাস ৮টায় ছাড়ে। আমাদের শেষ বাসও ৮টার পর ছাড়া হোক। আর ফিরতি পথে যেভাবে লোকাল ট্রিপ দেয়, সেটা বন্ধ হোক।

আরিফ আল আমিন নামে চৈতালি বাসে যাতায়াতকারী এক ছাত্র বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদকের কাছে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাসে ফ্যানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আর ডাকসু পরিবহন সেবায় অভিযোগ সেন্টার খোলার দাবি জানাচ্ছে, যাতে আমরা ভালো মানের সেবা পেতে পারি।

তুরাব ইসলাম চয়ন নামে কিঞ্চিৎ বাসে যাতায়াতকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, সবচেয়ে ভাঙা বাস এই রুটে। ফ্যান থাকার কথা তো ভাবতেও পারি না। দেড়টা আর ৩টা ১০ মিনিটের মাঝে আরেকটা ট্রিপ থাকলে ভালো হয়। এছাড়া বিকেল ৫ টার বাসে অনেক ভিড়। একটা বাড়তি বাস না হলেই নয়।

নিশাত জাহান নামে উল্লাস বাসে যাতায়াতকারী একজন ছাত্রী বলেন, উল্লাস বাসের অধিকাংশ সিট ভাঙা। একটা বাসে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কয়েকটা ফ্যান নষ্ট হয়ে আছে। এছাড়া বাকিগুলোতে ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। বাসের নাম উল্লাস হলেও অনেক সময় অন্য নামের বাসগুলো দিয়েও ট্রিপ দেয়া হয়। এর ফলে আমরা স্টিকার বিভ্রাটে পড়ি। অনেকের ক্লাস শেষ হয় সাড়ে ৫টায়, কিন্তু ৫টা ১৫ মিনিটে দুইটি বাস একসঙ্গে ছাড়ে। তাই সাড়ে ৫টায় বাস থাকলে ভালো হয়।

এসব বিষয়ে অবহিত করলে বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, আমাদের নিজস্ব বাসগুলোর (লাল বাস) মধ্যে যেগুলোতে ফ্যান বৃদ্ধি করা দরকার, তার অর্থের জন্য একটা নোট আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়েছি। কিছুদিন আগেই টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেগুলো দিয়ে আমরা ফ্যানের ব্যবস্থা করব। তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে গাড়ি কেনার জন্য।

কী ধরনের বাস কেনা হবে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা হলো ৩০-৪০ সিটের দুইটা বাস কেনা হোক। তার মধ্যে একটা যাবে লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে, আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শাটল ট্রিপ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বাকি টাকা দিয়ে শিক্ষকদের জন্য গাড়ি কেনা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের বাজেট দিয়ে দূরবর্তী ট্রিপের জন্য কোন বাস কেনার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক শামস-ই-নোমান বলেন, এটা তো আর আমার একার হাতে না। তারপরও আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website