সরকারি কলেজে শূন্যপদের ডাটাবেস হচ্ছে - এমপিও - Dainikshiksha

অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের অনুমোদনে নাখোশ মন্ত্রণালয়সরকারি কলেজে শূন্যপদের ডাটাবেস হচ্ছে

রাকিব উদ্দিন |

অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে এমন সরকারি কলেজের শূন্য পদের তালিকার ডাটাবেস করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানকারী শিক্ষকরা শূন্য পদে নিয়োগ পেয়েও বেতনভাতা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসলেও এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সম্প্রতি ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণ করা সত্ত্বেও বর্তমানে ওই ধরনের কলেজ রয়েছে ২৩৯টি।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত ও অনুমোদন ছাড়াই দেশব্যাপী বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের অনুমোদন ও শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে নাখোশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য মন্ত্রণালয় ওই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করতে অনীহা দেখাচ্ছে।

জানা গেছে, সারাদেশে বেসরকারি কলেজের মধ্যে ইন্টারমেডিয়েট ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সের পাশাপাশি অনার্স-মাস্টার্স পাঠদান চালু রয়েছে ৫১৬টিতে। কিন্তু গত তিন-চার বছরে তিন শতাধিক কলেজ জাতীয়করণ করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণ করেছে সরকার। এর ফলে বর্তমানে অনার্স-মাস্টার্স পাঠদান করা হয়, কিন্তু শিক্ষকরা এমপিও পাচ্ছেন না- এমন কলেজ রয়েছে ২৩৯টি। এই কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানকারী শিক্ষক আছেন প্রায় দুই হাজার।

এ ব্যাপারে বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেকবর হোসাইন সংবাদকে বলেন, ‘সরকার অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানকারী তিন শতাধিক কলেজ জাতীয়করণ করেছে; এটা বিশাল অর্জন। এজন্য সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে বাকি ২৩৯টি কলেজকেও জাতীয়করণ, অথবা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি চাই।’

নেকবর হোসাইন আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ঢালাওভাবে কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু ও এসব কোর্সে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য সঙ্গত কারণেই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করতে রাজি হচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এমপিওভুক্তির কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমাদের বেতনভাতা না দিলে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দেয়া হলো কেন?’

দু’জন শিক্ষক সংবাদকে বলেন, ‘সরকারি বিধি-বিধান ও যোগ্যতা অনুযায়ী শূন্য পদে নিয়োগ পেয়েছি। কিন্তু আমরা এমপিও সুবিধা পাচ্ছি না। অথচ আমাদের সহকর্মী শিক্ষকদের সবাই এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই বৈষম্যের কারণে শিক্ষার মৌলিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

ওই শিক্ষকরা আরও বলেন, ‘পত্রিকায় দেয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমরা শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করি। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত হয়, যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাউশিসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আমরা সবার কাছে যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় নিয়োগ পেয়েছি। আমরা অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছি। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলও অর্জন করছে। এখন আমরা বেতনভাতা পাব না কেন?’

জানা গেছে, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৩-৯৪ খ্রিস্টাব্দে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত জনবল কাঠামো অনুযায়ী ইন্টারমিডিয়েট একজন এবং ডিগ্রি পাস কোর্সের প্রতি বিষয়ের জন্য একজন শিক্ষক (মোট ২ জন) এমপিওভুক্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়মানুযায়ী, অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করতে প্রতি বিষয়ের জন্য কলেজে কমপক্ষে ৬/৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া আবশ্যক। সেই নিয়মানুযায়ী অধিকাংশ বেসরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা। কিন্তু অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু হওয়ার পর প্রায় ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও প্রতি বিষয়ের জন্য শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির অনুপাত বৃদ্ধি করেনি সরকার।

সরকারি কলেজে শূন্য পদের ডাটাবেস

অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে এমন সরকারি কলেজের শূন্য পদের এবং ভবিষ্যতে খালি হবে এমন শূন্য পদের তালিকার ডাটাবেস করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন কলেজে পদ সৃজনের দরকার হলে তাও প্রচলিত বিধি বিধান ও নিয়ম মেনে করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গত ১৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় শূন্য পদের তালিকার ডাটাবেস তৈরির এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রায় সব সরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কোর্স চালুর পর দেখা যাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব রয়েছে। তিনি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স খোলার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন।

এছাড়াও ইতিমধ্যে যেসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু আছে সেসব কলেজে বিষয়ভিত্তিক কতো সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে তার একটি ডাটাবেস করার নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন কলেজে পদ সৃজনের প্রয়োজন হলে তাও প্রচলিত বিধিবিধান ও নিয়ম মেনে করতে হবে।

ওই সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন আগামী ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কী সংখ্যক পদ শূন্য হবে, তার তালিকা তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, যেসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু আছে, সেসব কলেজের শূন্য পদের তালিকা করতে হবে। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে শূন্য পদের ডাটাবেস তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ ৩২৭টি সরকারি কলেজ ছিল। গত ৮ আগস্ট নতুন আরও ২৭১টি কলেজকে জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এ নিয়ে দেশে সরকারি কলেজের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮টি।

সরকারি কলেজ নেই- এমন সব উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করতে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করে সরকার। এই তালিকা থেকেই ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

সূত্র: সংবাদ 

নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ  বাতিল - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website