সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন : সরকার গণমাধ্যম ও জনগণ - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন : সরকার গণমাধ্যম ও জনগণ

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বাধীনতার পরপর প্রকাশিত আমার এতদসংক্রান্ত কিছু লেখার সার কথা ছিল, ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত ফল হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের যে কয়েকটি বড় ধাপ আমরা উতরিয়েছি- যেমন ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শরীফ শিক্ষা রিপোর্টবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং সর্বশেষ ’৭১-এর ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণের পর বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম- তন্মধ্যে শুরুটা কিন্তু মহান ভাষা আন্দোলনকে দিয়েই।

এখন ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু আমাদের মাতৃভাষা দিবসই নয়, শুধু আমাদের শহীদ দিবসই নয়- এটা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও। ভাষার জন্য যেমন আমরা রক্ত দিয়েছি, তেমনি স্বাধীনতার জন্যও এত রক্ত আর কোনো দেশ দেয়নি।

ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এলো, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সসম্মানে পালিতও হচ্ছে, স্বাধীনতার সুফলও আমরা ভোগ করছি; কিন্তু বাংলা ভাষার প্রচলনের কি আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে? এর উত্তর পাওয়ার জন্য সুনিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।

তবে আমরা অনুভব করছি, বাংলা প্রচলন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এখনও পৌঁছেনি। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বেশ কিছুটা হলেও অগ্রসর হয়েছে; কিন্তু বাস্তবায়নের গতি খুব ধীর। এ জন্য সরকার ও জনগণ উভয়পক্ষের জোরালো সম্মিলিত প্রয়াস বড় প্রত্যাশিত।

কিন্তু সে সমন্বিত প্রত্যাশার কার্যকর বাস্তবায়ন-গতি আশাপ্রদ নয়। বিশেষত রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা প্রচলনে আইনি দৃঢ়তার বাস্তবায়ন হতাশাব্যঞ্জক। ১৯৭২ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে আমি ‘বাংলা প্রচলন : সরকার ও জনগণ’ শিরোনামে যে লেখাটা লিখি তাতে সরকার ও জনগণের করণীয় নিয়ে আলোকপাত করেছি।

সরকারের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, বাংলার শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ, ইংরেজি নামের বাংলা অনুবাদ করা, হুবহু আক্ষরিক বা শাব্দিক অনুবাদ শ্রুতিমধুর বা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে মূল অর্থ/ভাবার্থ ঠিক রেখে পরিভাষার উন্নয়ন, অফিস-আদালতসহ রাষ্ট্রীয় সর্বকর্মে দ্রুত বাংলা ব্যবহারে কঠোর হওয়া, বই-পুস্তকের বাংলা অনুবাদ বাড়ানো, বাংলায় নতুন নতুন বই লেখায় উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আর জনগণের পক্ষে বাংলা ব্যবহারে আগ্রহী হওয়া, মানসিকতার পরিবর্তন করে ইংরেজি যথাসম্ভব পরিহার করা, নিজেদের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদিতে বাংলা নামকরণ এবং বাংলা ব্যবহারে উদ্যোগী হওয়া উল্লেখ্য।

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ মিনারে বাংলা ব্যবহারের একটা বড় অর্জন আমরা লক্ষ করলাম। বাংলায় নতুন নতুন স্লোগান, গাড়ির নম্বর প্লেট ইংরেজির পরিবর্তে বাংলায় লেখার জন্য রাস্তায় ছাত্রদের অনুরোধ, দোকানপাটের ইংরেজি সাইনবোর্ড সরানোর চাপ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইংরেজি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা ইত্যাদি কার্যক্রম এক নতুন মাত্রা যোগ করে। দেখা গেল, এতে বেশ কাজ হয়েছে।

গাড়ির নম্বর প্লেটের ইংরেজি এ, বি ইত্যাদি সিরিয়াল বাংলায় ক, খ ইত্যাদিতে পরিবর্তন হল, দেয়াল-লিখনীতে বাংলায় প্রচলন বাড়ল, দোকানপাটের নাম বাংলা হতে শুরু করল, নতুন নতুন বাংলা নামের ব্যবহার বাড়তে থাকল।

স্বাধীনতার পর শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলার প্রচলন বাড়ল, বঙ্গবন্ধুর সময়ে মন্ত্রিসভায় কার্যবিবরণী বাংলায় লেখা চালু হল, নথিতে নোটও কিছু কিছু বাংলায় শুরু হল, জিয়ার সময় অবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের কার্যবিবরণী ইংরেজিতে লেখা হতে থাকল, ’৮০-এর শেষের দিকে অবশ্য জিয়াও কার্যবিবরণী বাংলায় লেখার নির্দেশ দিলেন।

আমরা প্রথম সরকারি চাকরিতে ঢুকে ইংরেজিতে ‘পিইউসি মে কাইন্ডলি বি সিন’ (Puc may kindly be seen) দিয়ে ইংরেজিতে নোট লেখা শুরু করলাম। আমার পরিষ্কার মনে পড়ছে, আমরা তখন পুরো নোট ও চিঠিপত্র ইংরেজিতে লিখতাম। তবে আমাদের কারও কারও ইংরেজির দৌড় নিয়ে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুটি মজার ঘটনা উল্লেখের লোভ সামলাতে পারছি না। এক. আমাদের এক ব্যাচমেট নোটে মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইজ রিকোয়েস্টেড... লেখার পর তার ঊর্ধ্বতন কর্তা ‘ইজ’কে কেটে ‘আর’ (are) করে দিয়ে পাঠালেন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তখন আমাদের ব্যাচমেট ডেস্ক অফিসারকে ডেকে ‘ইজ’কে ‘আর’ কেন লিখল তজ্জন্য ধমকালেন। ডেস্ক অফিসার জবাবে বললেন, স্যার, আমি তো মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইজ (Ministry of Foreign Affairs is) লিখেছিলাম, আমার উপরের স্যার হয়তো অ্যাফেয়ার্স বহুবচন দেখে ‘ইজ’ কেটে ‘আর’ করে দিয়েছেন।

দুই. এক বিদেশিনী কর্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আমাদের এক কর্তা তার কুশলাদি বিনিময়ের সময় ‘হাউ ইজ ইওর বডি’ দিয়ে তার শরীর কেমন আছে, অর্থাৎ তিনি কেমন আছেন বোঝাতে চেয়ে সম্ভাষণ করার সঙ্গে সঙ্গে বেচারি তার খোলামেলা পোশাকের টানাটানি শুরু করে দিলেন।

কর্তাব্যক্তির কনিষ্ঠজন বেচারির বেগতিক অবস্থা টের পেয়ে তাড়াতাড়ি বললেন, স্যার ওয়ানটেড টু নো হাউ ইউ আর। বেচারি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন; বললেন, ওহ ইয়েস। আই অ্যাম ফাইন, আই এম ফাইন। মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলে হয়তো এমন দৈন্য ফুটে উঠত না।

আমার ’৭২-এর লেখায় আইন করে বাংলা প্রচলনে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপেরও পরামর্শ ছিল। মন্ত্রণালয়গুলোর নাম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নামও বাংলায় করানোর পরামর্শ ছিল। কিন্তু সরকার মন্ত্রণালয় / বিভাগগুলোর নাম বাংলায় প্রচলন করে নিলেও রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সব নাম কিন্তু এখনও বাংলায় প্রচলন করাতে পারেনি।

তবে বাংলা ব্যবহারের উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়। ইংরেজিতে কমবেশি প্রায় রাজনৈতিক দলের, প্রতিষ্ঠানের নামই সংক্ষেপে উচ্চারিত ও লিখিত হয়; কিন্তু বাংলায় বেশকিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বাংলা নাম প্রচলন দেখা যায় না।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইংরেজি সংক্ষিপ্ত নামকেই বাংলায় বানান করে চালানো হচ্ছে। অনেকের যুক্তি, ওসব ক্ষেত্রে বাংলায় সংক্ষিপ্ত নাম উচ্চারণ নাকি সহজ বা শ্রুতিমধুর হয় না। এ যুক্তি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা ভাষার সামর্থ্য বাড়াতে আমরা অবশ্যই অন্য ভাষার অনেক শব্দকে হজম করে নিয়েছি, ধারণ করে চলছি; কিন্তু বাংলা প্রচলন করলে তা-ও ব্যবহারজনিত কারণে সহজ ও শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে। মূল বিষয়টা হচ্ছে মানসিকতার পরিবর্তন-সম্পর্কিত।

জাসদ, বাসদ, ডিআইটি থেকে রাজউক, ওয়াসা, বিডব্লিউডিবি থেকে এখন পাউবো, বিউবো ইত্যাদি যদি চলতে পারে এবং মানুষও গ্রহণ করে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বাংলায় সংক্ষেপে বাজাদ, আওয়ামী লীগকে আলী, ছাত্রলীগকে ছালী, যুবলীগকে যুলী, শ্রমিক লগিকে শ্রলী, জাতীয়তাবাদী যুবদলকে জাযুদ, ছাত্রদলকে ছাদ ইত্যাদি বললে, লিখলে, চালু করলে অসুবিধা কোথায়? আমার আগের অনেক লেখায় আলী, বাজাদ, ছালী, যুলী, শ্রলী ইত্যাদি পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে এবং পাঠকও গ্রহণ করেছে।

কই, ওসব সংগঠন থেকে তো এ নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। মূলত বাংলা প্রচলনে সরকার ও জনগণের সঙ্গে মিডিয়ারও একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রচারেই প্রসার- এর কার্যকারিতা মিডিয়ার ওপরই বেশি নির্ভরশীল।

আমাদের পুলিশ সম্পর্কে একটা কথা চালু রয়েছে, তারা পুরুষকে মহিলা এবং মহিলাকে পুরুষ বানানো ছাড়া বাকি সবই করতে পারে। তেমনি আমাদের মিডিয়াগুলো সম্পর্কেও একটা ধারণা চালু আছে, এরা কাউকে ডোবাতে বা ওঠাতে বড় পারঙ্গম।

তবে অনেক মিডিয়া ক্ষমতার পূজারি যেমন স্বার্থে ও ভয়ে বেশি হয়, তেমনি ক্ষমতায় না থাকলে কাউকে তেমন পাত্তা না দিতেও তারা ওস্তাদ। উপায় নেই গোলাম হোসেন, টিকে থাকার জন্য তাদেরও তো সময় বুঝে শক্তের ভক্ত এবং নরমের যম হতে হয়! অনেক মিডিয়ার অতীত-বর্তমানের কীর্তিকলাপে আজ বড় করে মনে পড়ে- কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে / ভাই বলে ডাক যদি দেব গলা টিপে / হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা / কেরোসিন শিখা বলে, এসো মোর দাদা।

আমার চাকরিকালীন অভিজ্ঞতা মিডিয়া সম্পর্কে আমাকে ঋদ্ধ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মিডিয়াগুলো বাংলা প্রচলনে এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘নয়শ’ আর ‘নৈশ’ বিদালয়ের উচ্চারণগত সে বিজ্ঞাপন কত চমৎকার! ‘বিশ্বকবি নজরুল’ শুনতে রসাত্মক হলেও শেখার জন্য নতুনত্ব এনে দিয়েছে।

গত প্রায় পঞ্চাশ বছরে বাংলা প্রচলনে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছুটা হলেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি। বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেয়ার সাহস, বঙ্গবন্ধুকন্যার বাংলা প্রচলনে আগ্রহ আমাদের আপ্লুত করে। সরকার, মিডিয়া ও জনগণ একজোটে বাংলা প্রচলনে আরও বেশি আগ্রহী হলে আমরাও আরও দ্রুত এগোতে পারব।

বাংলা পরিভাষা উন্নয়নে আরও জোর দেয়া প্রয়োজন। গবেষণা প্রয়োজন, আমরা নিজেদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য কত কত বিদেশি শব্দকে বাংলায় ধারণ করে নেব। বিজ্ঞানের বই, চিকিৎসার বই, আইনের বই কত দ্রুত বাংলায় অনুবাদ করতে বা নতুনভাবে লিখতে পারব, আমাদের নিজেদের ব্যবহৃত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের শব্দাবলি, রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের, ব্যক্তি মালিকানাধীন অফিস, প্রতিষ্ঠানের নাম ও কার্যাদি কত বেশি বাংলায় চালাতে পারব, বিচারকার্যে বাংলা আইনের বই অনুবাদেই হোক আর নতুন প্রণয়নেই হোক, কত বাড়াতে পারব এবং বিচারের রায় কত বেশি বাংলায় দেয়া সম্ভব করতে পারব।

অতি সম্প্রতি বাংলায় প্রদত্ত এক বড় রায় আমাদের প্রত্যাশায় নতুন সংযোজন বটে। আমরা ঢাবি, জাবি, জবি, চবি, শেকৃবি, ঢামেক ইত্যাদি যদি চালু করতে পারি, তাহলে কেন ডাকসুকে ঢাবিকেছাস, চকসুকে চবিকেছাসরূপে ঢালু করতে পারব না?

চালু করলেই চলে; বলতে বলতেই বলা হয়, লিখতে লিখতেই লিখা হয়। সরকার আইনের প্রয়োগ করবে, সমর্থন জোগাবে, মিডিয়া সফলভাবে প্রচার করবে এবং জনগণ ব্যবহার করবে- তবেই দেখা যাবে যে, বাংলা প্রচলন দ্রুত ও সহজ হচ্ছে।

অবশ্যই আমরা বহির্বিশ্বে আমাদের সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষাও আয়ত্তে রাখায় সচেষ্ট হব। উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলায়, অন্তত অসম্ভব ক্ষেত্রে বাংলা-ইংরেজির সমন্বয়ে বই জোগান দিতে পারলে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা প্রচলনের আরেক ধাপ এগোতে পারব।

বাংলা প্রচলনে কিছু ছোট ছোট বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হতে হবে। যেমন আমরা পত্রিকায় অনেক সময় দেখে থাকি, অমুককে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী করা হল। পূর্ণমন্ত্রী কেমনতরো বাংলা? মন্ত্রী তো মন্ত্রীই, সংবিধানেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী উল্লেখিত।

তাহলে শুধু মন্ত্রী বললে কি পূর্ণমন্ত্রী বোঝায় না? হাস্যরসের লেখায় বা ঠাট্টা-মশকরার জন্য আমরা হয়তো প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীকে আধুলি-সিকি বলে থাকি; কিন্তু সংবাদভাষ্যে বা আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় সঠিক পদবি ব্যবহারই সর্বোত্তম। মন্ত্রিসভা আর মন্ত্রিপরিষদ- এ দুয়ের পার্থক্যও আমরা হারিয়ে ফেলি। প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হলে কেবিনেট অর্থাৎ মন্ত্রিসভা, আর রাষ্ট্রপতি সরকারপ্রধান হলে কাউন্সিল অব মিনিস্টারস অর্থাৎ মন্ত্রিপরিষদ- এটা অনেক গুণীজনও দেখি মাঝে মাঝে গুলিয়ে ফেলেন।

ণত্ব বিধান আর ষত্ব বিধান, বানান, বিরামচিহ্ন- বড় ঝামেলা করে, আমারও কষ্ট হয়, তবু আমরা সতর্ক থাকায় সচেষ্ট হব। শব্দের পরিমিতি, গরুর খাঁটি দুধ, না খাঁটি গরুর দুধ, বিশেষণের সঠিক ব্যবহার- এ ধরনের বিষয়গুলোয় আমাদের সবার আরও কষ্ট করতে হবে বটে।

বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।

বৈশ্বিক সুসম্পর্ক-সহযোগিতায় করোনা মোকাবেলা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha বৈশ্বিক সুসম্পর্ক-সহযোগিতায় করোনা মোকাবেলা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী অনলাইন ক্লাস তদারকি: স্কুল-কলেজ আকস্মিক পরিদর্শন করবেন কর্মকর্তারা - dainik shiksha অনলাইন ক্লাস তদারকি: স্কুল-কলেজ আকস্মিক পরিদর্শন করবেন কর্মকর্তারা ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল - dainik shiksha ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল জাল নিবন্ধন সনদধারী স্ত্রীকে নিয়োগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু - dainik shiksha জাল নিবন্ধন সনদধারী স্ত্রীকে নিয়োগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ভর্তি নিয়ে সেন্ট যোসেফের খামখেয়ালী, বোর্ডের শোকজ - dainik shiksha ভর্তি নিয়ে সেন্ট যোসেফের খামখেয়ালী, বোর্ডের শোকজ হাটহাজারী মাদরাসায় পরীক্ষা : নির্দেশ অমান্য করার পর মন্ত্রণালয়ের অনুমতি! - dainik shiksha হাটহাজারী মাদরাসায় পরীক্ষা : নির্দেশ অমান্য করার পর মন্ত্রণালয়ের অনুমতি! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না please click here to view dainikshiksha website