সর্বোচ্চ ফি ৩০ হাজার: ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বাগে আনতে ফের উদ্যোগ - ইংলিশ মিডিয়াম - Dainikshiksha

সর্বোচ্চ ফি ৩০ হাজার: ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বাগে আনতে ফের উদ্যোগ

শিমুল বিশ্বাস: |

বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই যুগ যুগ যাবত চলে আসা ইংলিশ মিডিয়ামস্কুলগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে ফের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারলে অনুমোদনহীন এসব স্কুল পরিচালনার সুযোগ বন্ধ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান ও পরিবেশ রক্ষাও হবে।

তবে, যথারীতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সমিতি এর বিরোধীতা করেই চলছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সবাই নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকতে চাই। আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করলে ভালো হতো।’

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান চলে ব্যক্তি মালিকানায়। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সরকার টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার দরকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা সব সময় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকেন। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গিয়ে বেশি টিউশন ফি আদায় করার সুযোগ নেই। এটা করলে পরের বছর সে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীই পাবে না।

দৈনিকশিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায়, নীতিমালা হোক আর এসআরও হোক কোনো কিছুই মানে না ইংলিশ মিডিয়াম কর্তৃপক্ষ। তবে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা-দূর্ঘটনায় অতি প্রভাবশালী এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ বিশেষ বিশেষ বিষয়ে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

খসড়া নীতিমালায় বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা ও শিক্ষার মান বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে টিউশন ফি নাগালের মধ্যে আনারও চেষ্টা করা হয়েছে।

 ‘ক’ শ্রেণির ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে রাজধানী ঢাকায় ভর্তি ও সেশন ফি বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা যাবে। আর মহানগরী এলাকার বাইরে ‘ক’ শ্রেণির স্কুলে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি হবে ১৫ হাজার টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। প্রয়োজনীয় সংশোধনী শেষে শিগগিরই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

এ নীতিমালার মাধ্যমে সারাদেশে অনুমোদনহীন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনুমোদন নিয়ে যারা অবৈধ শাখা চালাচ্ছে, সেগুলোও বন্ধ করা হচ্ছে। স্কুলের পরিচালনা ও সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে মনিটরিং সেল, ভর্তি ফি নির্ধারণসহ আরও কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে যুগোপযোগী এ নীতিমালা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকায় পরিচালিত স্কুলগুলোকে বাণিজ্যিক এলাকায় সরে যেতেও চিঠি দেওয়া হবে।

গত ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর আবাসিক এলাকার বৈধ ও অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসিক এলাকা ছেড়ে দিতে আর অবৈধগুলোকে বন্ধ করে দিতে নীতিমালা জারির পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযান শুরু হবে।

মাউশি অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো কোন এলাকার জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা সেশন চার্জ ও বেতন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষার গুণগত মান ও অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শক্রমে টিউশন ফি নির্ধারণ করবে। তবে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা যাবে না বলে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান দৈনিকশিক্ষাকে বলেন, ‘আদেশ মোতাবেক নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত। সব পক্ষকে খুশী করা যাবে না।”

তবে স্কুল মালিকদের সংগঠন ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশন’ কয়েকটি ধারার বিরোধিতা করেছে। টিউশন ফি শিক্ষা বোর্ড থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া এবং প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টিতে তারা আপত্তি জানিয়েছে।

ফি নির্ধারণ: খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানে মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ভর্তি ও সেশন ফি নির্ধারণ করা হয়। মহানগরবহির্ভূত এলাকায় তা হবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। ‘এ’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বেতন মহানগর এলাকায় তিন হাজার ও মহানগরের বাইরে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা। ৭০০ বা তার বেশি শিক্ষার্থী এবং মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষা উপযোগী অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘এ’ শ্রেণিতে পড়বে। ‘বি’ শ্রেণির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সেশন ফি মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার এবং মহানগরের বাইরে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। বেতন মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং এর বাইরে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। ৪০০-৭০০ শিক্ষার্থী এবং মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষা উপযোগী অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধা থাকলে ‘বি’ শ্রেণি ধরা হবে। ৪০০ বা এর নিচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান ‘সি’ শ্রেণিতে পড়বে। এই শ্রেণিতে মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা ভর্তি ও সেশন ফি এবং এর বাইরের এলাকায় সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘সি’ শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ বেতন দেড় হাজার টাকা এবং বাইরের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

থাকবে ভর্তি কোটাও: খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভর্তির ক্ষেত্রে নূ্যনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে শূন্য আসনের ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। নীতিমালা কার্যকর হলেই এবারই প্রথম এসব স্কুলে কোটা চালু হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাময়িক নিবন্ধনপ্রাপ্ত একশ’র নিচে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। তবে বাংলাদেশ তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বেনবেইস) গত বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে তিন ক্যাটাগরিতে ১৬০টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর বাইরেও সাড়ে ৩০০ প্রতিষ্ঠান ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করছে।

বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি - dainik shiksha পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ  বাতিল - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website