সাইবার নিরাপত্তা বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হোক - মতামত - Dainikshiksha

সাইবার নিরাপত্তা বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হোক

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বাংলাদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তার মধ্যে তিনটি পরিস্থিতিকে এই নিবন্ধের জন্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে। প্রথমত, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শিশু। শিশু অর্থ ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষ। ২০১০ সালেই বাংলাপিডিয়া প্রকাশ করেছে, এ দেশে শিশুর সংখ্যা ছয় কোটি ৩০ লাখ। বিজ্ঞজনরা অনুমিত হিসাবের ভিত্তিতে জানাচ্ছেন, বর্তমানে সাত কোটি শিশু দেশে রয়েছে। শনিবার (২৫ মে) দৈনিক সমকালের নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়। নিবন্ধনটি লিখেছেন নূরুননবী শান্ত।

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই কোটি ৭৫ লাখ। অবশ্য এই সংখ্যার মধ্যে কওমি মাদ্রাসা, বিদেশি পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মাধ্যম পড়ূয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত নয়। কাজেই ধরে নিচ্ছি, আমাদের শিক্ষার্থী আছে তিন কোটিরও বেশি। শিক্ষার্থীদের বাইরে, শিক্ষা প্রক্রিয়া থেকে ঝরেপড়া শিশুদের সংখ্যাও অনুমান করা যায়।

দ্বিতীয়ত, দেশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এই ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যে আছে তা জোর দিয়েই বলা যায়। কেননা, স্কুল-কলেজের টেক্সট বই অনলাইনে দেওয়া হয়েছে ব্যবহার করার জন্য। অনলাইনে আছে আয়মান সাদিকের জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ১০ মিনিট স্কুল। আরও বহুবিধ শিখন উৎস। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটির জরিপ থেকে জানা যায়, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

তবে এই শিশুদের ৮৩ শতাংশই থাকে আসলে ফেসবুক, ভাইবার, ইমো, মেসেঞ্জার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শিক্ষা প্রক্রিয়া থেকে ঝরেপড়া শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে বিনোদনের জন্য, ইন্টারনেট ব্যবহার করার প্রবণতা দৃশ্যমান। অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের প্রবেশ প্রতিদিনই বাড়ছে। যেমনটা বাড়ছে প্রাপ্তবয়স্কদের। তৃতীয়ত, দেশে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ জনপদে দ্রুত নগরায়ণ ঘটে চলেছে। এ ঘটনাও ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য প্রবাহ এবং যোগাযোগ ইত্যাদি প্রসারে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।

আমরা জানি, ইন্টারনেটে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের পাশাপাশি ভয়ঙ্কর সব ভয়ও লুকিয়ে রয়েছে। কয়েকদিন আগে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার মোসলেম মাটিডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়ে। মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে তার বন্ধু তানভীর, কাইয়ুম প্রমুখ একটি নগ্ন ছবির সঙ্গে তার ছবি জুড়ে দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে। এই ছবি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। অপমানিতবোধ থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

শিশুদের প্রতি এ রকম সাইবার সহিংসতা প্রতিদিনই ঘটছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং টিডিএইচ নেদারল্যান্ডসের একটি মতবিনিময় সভার বরাত দিয়ে একটি পত্রিকা ২০ মে প্রকাশ করেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ শিশু সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্নীল, অপমানজনক মন্তব্য করা, কোনো মেয়ের ছবি তার অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া, ছবি বিকৃত করে বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত (গোপন) ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, পর্নোগ্রাফি বা অশ্নীল কোনো পোস্ট ট্যাগ করে দেওয়া, এ রকম ঘটনা ঘটানোর হুমকি দিয়ে কোনো অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা বা হাসিল করা, ভুয়া আইডি থেকে বাজে মেসেজ বা ভিডিও শেয়ার করা ইত্যাদি সব বয়সী নারীসহ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।

প্রায়শ ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোনো কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাকে অশালীন কথাবার্তা, ছবি কিংবা ভিডিও পাঠানো, আবেগীয় সম্পর্ক স্থাপন করে যৌন সম্পর্কে উৎসাহিত করা, কারও কারও বিবিধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিংবা অর্থ বা কোনো উপহার প্রদানের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর ঘটনা বেড়েই চলেছে। অধিকাংশ সময় অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা এ রকম অনলাইন যৌন হয়রানি সংঘটিত হলেও পরিচিতজনরাও এরূপ হয়রানি করে থাকে এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের স্থিরচিত্র কিংবা ভিডিও ধারণ করে অনলাইন জগতে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে শিশুদের জীবন। এ ধরনের ভিডিও বাণিজ্যিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধালাভের উদাহরণও সৃষ্টি হচ্ছে। 

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধপ্রবণতার ওপর গবেষণা পরিচালনা করে। তাতে দেখা যায়, মাত্র সাত শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করার জন্য আইনের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। সাইবার অপরাধে আক্রান্তদের ৫৪ শতাংশই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিতে নারাজ। এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মনে করে, আইনি প্রক্রিয়ায় সাইবার অপরাধীর শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিছুদিন আগে মোহাম্মদপুর থানায় একজন সাইবার অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে অপরাধের শিকার কিশোরীকেই অবমাননাকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

বেসরকারি সংগঠন ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের একজন সদস্যের সহায়তার পরে পুলিশ এই মামলা গ্রহণে বাধ্য হয়। এমনকি মা-বাবাও এ ধরনের অপরাধে আক্রান্ত শিশুর পাশে না দাঁড়িয়ে তাকেই দোষ দিতে থাকে অব্যাহতভাবে। অন্যদিকে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত ২৩ শতাংশ নারী ও শিশু পুনরায় যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় আইনের দ্বারস্থ হতে ভয় পায়। 'এ রকম প্রতিকারহীন পরিস্থিতি শিশু তো বটেই, প্রাপ্তবয়স্কদেরও সামাজিকভাবে অসুস্থ করে দেয়। ফলে এদের অনেকেই আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠে'- বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহজাবিন হক।

সবচেয়ে বড় অসহায়ত্ব এই যে, সাইবার অপরাধ ঘটানো যতটা সহজ, প্রতিকার ব্যবস্থা আমাদের কাছে ততটাই অন্ধকারের মতো। ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে, ব্যবহারকারীর ওপর বলপূর্বক চেপে বসে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রমোশনাল পোস্ট। তাতে ক্লিক করার আগে ব্যবহারকারী বেশিরভাগ সময় সেগুলোর কনটেন্ট সম্পর্কে অনুমানও করতে পারে না। এগুলো যেমন ক্ষতিকর ভাইরাস হয়ে থাকে, তেমনি পর্নো সাইটের লিংক হতে পারে।

সরকার হাজার হাজার পর্নো সাইট বন্ধ করে দিলেও লাখ লাখ পর্নো সাইট প্রতিদিন বিশ্বে তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সাইবার অ্যান্ড লিগ্যাল সেন্টারের আইনজীবী মাহফুজ বলেন, আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা জানেই না, ডিভাইসের ক্যামেরা ব্যবহার করে বহু মাইল দূর থেকে তার ভিডিও ধারণ করতে পারে যে কোনো সাইবার অপরাধী! আর সবাই চান আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেই এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়তে। অথচ সে জন্য যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা দরকার তা প্রায় শূন্য!

প্রিয় পাঠক, আমাদের প্রাত্যহিকতার অনেকখানি আজ অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছে। বেসরকারি ফোন কোম্পানিগুলোর গ্রাহকসংখ্যা ও মোবাইল ডাটা ব্যবহারের হার বিবেচনা করলেই বোঝা যায়, আমরা কতটা বাস্তব জগতে থাকি আর কতটা অনলাইনের স্বপ্নের জগতে। আমাদের শিশুরা জন্মেই হয়ে উঠছে অনলাইন জগতের বাসিন্দা। অনলাইনের অনিবার্যতা এড়িয়ে আর হয়তো জীবনযাপনই সম্ভব নয়। ঢাকার মতো খেলাধুলার সুযোগহীন যানজটের শহরে তো অনলাইন ছাড়া অসম্ভব। শিশুদের ওপর সাইবার সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা আশকারা পেয়ে লাগামহীন হয়ে উঠছে। কেবল আইন দিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা অসম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে সবার জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। 

প্রতি বছর ব্যাপক একটি আলোচিত বিষয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিষয় ও শুদ্ধতা। অনেক ভারী ভারী বিষয় আর ভুলে ভরা বই-পুস্তকের বাহুল্য শিশুদের জীবনের ওপর নির্যাতনের শামিল হিসেবে সর্বমহলে বিবেচিত হচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। সরকার ভাবছে, বইয়ের বদলে ট্যাব দেওয়া যায় কিনা শিশুদের হাতে। আজকাল অফলাইনেও উঁকি মারতে শুরু করেছে সাইবার অপরাধীরা। অথচ সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিশুদের সচেতন ও দক্ষ করে তোলার ব্যবস্থা আমাদের পাঠ্যক্রমে নেই। বরাবরই আমরা শিক্ষাকে প্রাসঙ্গিক করতে ব্যর্থ হয়েছি। শিক্ষার সঙ্গে অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছি। 

বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সাতটি বিভাগের ৪০টি স্কুল ও কলেজের প্রায় ১০ হাজার ২২০ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ পরিচালনার পর আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেছিলেন, সাইবার অপরাধ বিষয়ে সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

পাঠ্যক্রম পরিশোধন ও পরিবর্তনের বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে। আমরা মনে করি, প্রাসঙ্গিক শিক্ষা শিশুদের অধিকার। যেহেতু যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা ইন্টারনেট দুনিয়ায় বসবাস শুরু করেছি, অন্তত নতুন প্রজন্মকে অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে আবশ্যিক শিক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জানতে হবে মা-বাবাদেরও। তরুণ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই কাজটি করতে হবে।

কথাসাহিত্যিক, টিম লিডার, শিশু অধিকার কর্মসূচি আইন ও সালিশ কেন্দ্র

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website