সাক্ষরতার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের প্রত্যয় - মতামত - Dainikshiksha

সাক্ষরতার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের প্রত্যয়

কাজী ফারুক আহমেদ |

‘সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন’- এ প্রতিপাদ্যে আজ দেশে দেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে। সাক্ষরতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন অব্যাহত ও টেকসই করতে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির অপরিহার্যতা বিবেচনায় এ প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে। এর সঙ্গে দারিদ্র্যমোচন, স্বাধীনতা অর্জন তথা সব মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। ইউনেস্কোর নতুন মহাপরিচালক অদ্রে আজুলে ২০১৮ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে উনিশ শতকের মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ক্রীতদাস ফ্রেডেরিক ডগলাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘একবার পড়া শিখতে পারলেই তুমি সারাজীবন স্বাধীন থাকবে।’

এ বক্তব্যের মর্মবাণীকে ধারণ করে ইউনেস্কো মহাপরিচালক বলেন, ‘সাক্ষরতা স্বাধীনতার পথে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধক থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ। এটা ব্যক্তি ও সমষ্টির উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাস করে, সম্পদ তৈরি করে। পুষ্টি ও গণস্বাস্থ্যের সমস্যা দূর করে।’

সাক্ষরতার হার বাড়লেও বিশ্বের ২৬০ মিলিয়নের বেশি শিশু-কিশোর স্কুলে যায় না। ৬১৭ মিলিয়নের কাছাকাছি সাক্ষরতায় ও হিসাব-নিকাশে ন্যূনতম দক্ষতা অর্জনে সক্ষম নয়। এ পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরে অদ্রে আজুলে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণে নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সনাতনী সাক্ষরতা ও হিসাব জ্ঞান কাজ পেতে, সামাজিক, আর্থিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজে আসছে না। সেজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আয়ত্তসহ নতুন দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য : দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতায় এটা এখন স্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন অর্থাৎ শৈশবের শিক্ষায় সাক্ষরতার যুগোপযোগী মান নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, কর্মরত অবস্থায় সাক্ষরতা অর্জন ও বয়স্ক মানুষের কার্যকর সাক্ষরতাও উৎপাদনশীলতায়, দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম। স্বল্প দক্ষতা ও অদক্ষতা বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে ও সম্ভাব্য অগ্রযাত্রায় কিভাবে বাধার বেষ্টনী রচনা করছে, মিডিয়ার সুবাদে তা এখন কারও জানতে বাকি নেই। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) সম্প্রতি এক

পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে, ব্যাংক খাতের অদক্ষতায় বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অন্তত ১ শতাংশ কম হয়। গত অর্থবছরের জিডিপির আকার অনুযায়ী ক্ষতির এ পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিসার্চ সেন্টারের’ তথ্যমতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বিদেশি কর্মকর্তারা পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ কোটি ডলারের বেশি নিজেদের দেশে নিয়ে গেছেন।

টাকার অংকে হিসাব করলে দাঁড়ায় ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো। এসব বিদেশি কর্মকর্তার বেশিরভাগই চীনের। তারা ২০১৬ সালে ৭ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর পরের অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া। তারা ২০১৬ সালে ২ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। মালয়েশিয়া নিয়েছে ১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, ভারত ৯৩৫ কোটি টাকা, যুক্তরাষ্ট্র ৭৬৩ কোটি টাকা।

এরপর আছে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল, থাইল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও শ্রীলংকা। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এবং মেধাবী তরুণদের সম্পৃক্ত করতে আমাদের অদক্ষতা ও সিদ্ধান্তহীনতা, সর্বোপরি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। দেশের উদ্যোক্তা তরুণ-তরুণীদের যথাযথ স্বীকৃতি দান ও মূলায়নে আমাদের অনীহা এর জন্য কম দায়ী নয়। জাপানসহ উন্নত দেশগুলো যেখানে দক্ষতা ও মেধা আমদানি করছে, আমরা সেখানে মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করছি। উপযুক্ত চাকরির অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি বছর আমাদের মেধাবীরা দেশ ছাড়ছেন।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। অর্থের পরিমাণে বছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার। তারপরও বাংলাদেশের পরিচিতি অদক্ষ শ্রমশক্তির দেশ হিসেবে। আমাদের অদক্ষ মানুষেরা বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন তাতে আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে সন্দেহ নেই।

কিন্তু তাদের যথাযথভাবে দক্ষ করে পাঠাতে পারলে তারা কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই-তিন গুণ বেশি উপার্জন করতে পারতেন। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও অনেক বৃদ্ধি পেত, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেত। আমাদের ম্যান পাওয়ার ব্যুরোর হিসাবমতে, ১৯৭৬ থেকে বর্তমান বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মরত মানুষের মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশকে দক্ষ বলা চলে।

আর মাত্র ২ শতাংশ সত্যিকার অর্থে পেশাজীবী। আমাদের অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে যে উপার্জন করেন- ভারত, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকার তুলনায় তা অর্ধেকেরও কম। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকরাও এখন বলতে শুরু করেছেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে বেশি পছন্দ করে, কারণ অদক্ষদের বেশি করে ঠকানো যায়, প্রতারিত করা সম্ভব হয়।

জনশক্তি ব্যুরোরও অভিযোগ, টিটিসিতে ট্রেনিংপ্রাপ্তদের বিদেশে পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর আগ্রহ দেখা যায় না। সুখবর এই যে, বাংলাদেশ সরকার একদিকে বিদেশে কাজ করতে আগ্রহীদের দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণের কর্মসূচি নেয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে টিটিসিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নিয়োগের এবং টিটিসির সনদের স্বীকৃতির জন্য।

টেকসই উন্নয়নের ১৭ লক্ষ্য ও বাংলাদেশ : বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য, অসাম্য ও জলবায়ু পরিবতর্নের সংকট মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বকে এগিয়ে নিতে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে। সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের মেয়াদ পূর্তিতে নেয়া উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি। ১৫০টি দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলনে এসডিজি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে অংশ নেন এবং জোরালো বক্তব্য রাখেন। এসডিজির ১৭ লক্ষ্যের মধ্যে ৪ নম্বরে আছে শিক্ষা।

এসডিজি ৪ নম্বর লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা সুযোগ নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর। বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এনজিও ও সুশীল সমাজ এসডিজি-৪ নিয়ে নানামুখী কাজ করছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করছে।

বিশ্বের দেশে দেশে শিক্ষক সংগঠনগুলো এসডিজি-৪ নিয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও শিক্ষক সংগঠনগুলো এসডিজি-৪ নিয়ে প্লাটফরমের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। আশা করা যায় ইউনেস্কোর সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গটি এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি) এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করছে।

সাক্ষরতা ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ : জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার মাধ্যমেই জাতিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ১৩ নম্বরে বর্ণিত হয়েছে : ‘শিক্ষাকে ব্যাপকভিত্তিক করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর জোর দেয়া, শ্রমের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাশীল ও আগ্রহী করে তোলা এবং শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়ার জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে সমর্থ করা’।

‘বয়স্ক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে : ‘গণশিক্ষা প্রসারের জন্য যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধতা রয়েছে তা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনে যথাযথ আইনগত কাঠামো প্রবর্তন করা হবে।’ ‘সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সামগ্রিকভাবে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি করা হবে। সব শিক্ষিত মানুষকে এ কাজে কিছু না কিছু অবদান রাখার ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ‘সাক্ষরতা আন্দোলন সফল করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলা হবে।’ ‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হবে।’

জীবনের জন্য শিক্ষা : ‘সবার জন্য শিক্ষা’ শিরোনামে ইউনেস্কো ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে, যা ‘সবার জন্য শিক্ষা : গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট নামে পরিচিত। এর মধ্যে ২০০৬ সালে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রায় পুরোটাই ছিল সাক্ষরতার ওপর। ‘জীবনের জন্য শিক্ষা’ ছিল প্রধান উপজীব্য। এতে বলা হয়, সাক্ষরতা একটি অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতা মানুষকে জীবনযাপনের জ্ঞান ও কৌশল শেখায়। সমাজে অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণে অভ্যস্ত করে।

আজকের জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে সাক্ষরতায় দক্ষতা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্ববহ। বিস্মিত না হলেও আমি অনুপ্রাণিত বোধ করি যখন দেখতে পাই, ১৯৭৪ সালেই কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে বলা হয়েছে : নিরক্ষরকে সাক্ষর করে তোলা, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে উন্নতর কলাকৌশল পদ্ধতি শিক্ষাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সঙ্গে সঙ্গে বোঝাতে হবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূল বক্তব্য কী এবং কেন আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজ জীবনে এগুলোর প্রতিষ্ঠা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

উপযুক্ত সুপরিকল্পিত গণশিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আনা সম্ভব। নিরক্ষর শ্রেণী সংসার, কর্মনির্বাহ, স্বাস্থ্যরক্ষা, সহজ বিজ্ঞান, পৌরনীতি, অর্থনীতি, নীতিকথা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় সম্বন্ধে মোটামুটিভাবে অর্জিত বিদ্যার সঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতা লাভ করতে পারলে দেশের বৃহত্তর কল্যাণের সহায়ক হবে।

বিভিন্ন কর্মসূচি : বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরক্ষরতা দূর করে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প গ্রহণ করে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদন পায়। এরপরই সম্পূর্ণ সরকারের অর্থায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষর করাসহ জীবনমুখী শিক্ষাদানের উদ্যোগ নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) আওতায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরেপড়া ২৫ লাখ শিশুকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর সমান শিক্ষা দিতে ‘দ্বিতীয় সুযোগ ও বিকল্প শিক্ষা’ নামের কর্মসূচি বাস্তবায়নে শহরের কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা (দ্বিতীয় পর্যায়ে) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মসূচির পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে পিইডিপি-৩-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয় গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার কার্যক্রমে, রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের (রস্ক) মাধ্যমে ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরেপড়া শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষাদান এবং সরকারি এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় এক হাজার বেসরকারি সংস্থার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার প্রাসঙ্গিকতায় পিইডিপি-৪ কীভাবে অগ্রসর হবে তা নিয়ে সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি শিক্ষা এনজিওগুলো কাজ করছে।

তবে যাদের যুক্ত না করে শিক্ষায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অসম্ভব, সেই শিক্ষকদের তাতে অংশগ্রহণ চোখে পড়ে না বললেই চলে। শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বের দাবিদার শিক্ষক সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে উৎসুক বা আগ্রহী বলেও মনে হয় না। অভিভাবকদের সম্পৃক্তির বিষয়টিও কমবেশি কাগজে-কলমেই সীমিত।

আজ দেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচি থেকে দক্ষতা উন্নয়নের যে প্রত্যয় উচ্চারিত হবে তা বাস্তবে রূপায়ণের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় অগ্রসরমানতা নতুন পর্যায়ে উন্নীত হোক, আন্তরিকভাবে এ কামনাই করি।

লেখক: জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য। চেয়ারম্যান, ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি)।

 

সৌজন্যে: যুগান্তর

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফল ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ - dainik shiksha এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফল ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা - dainik shiksha ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু - dainik shiksha আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি - dainik shiksha নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website