সাক্ষর মানুষ উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

সাক্ষর মানুষ উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ৮ সেপ্টেম্বর তেহরানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ১৯৬৬ সাল থেকে দেশে দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

‘বহু ভাষায় সাক্ষরতা উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা’- এ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে আজ রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ, পোস্টার-ফেস্টুনসহ শোভাযাত্রা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, গোলটেবিল বৈঠক ও টেলিভিশনে টকশো’র আয়োজন। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 

সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এমপি ও অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল-হোসেনের। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সভায় ইউনেস্কো মহাপরিচালক অদ্রে আজুলের বার্তাও পাঠ করা হবে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস সামনে রেখে ৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন- দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা, শিশুশ্রম, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি কারণে এখনও অনেক শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এসব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ৮-১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়বহির্ভূত ১০ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এখনও দেশে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নিরক্ষর। নিরক্ষরতা দূর করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলায় ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর ব্যক্তিকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩৪টি উপজেলায় শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জনকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬৭ বছর পর্যন্ত সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত বছর গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে সারা দেশে এখনও ২৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষরতামুক্ত নন।

সাক্ষরতা দিবস উদযাপনের পটভূমি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার শতকরা ৭৩ দশমিক ৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান প্রদান করা হয়েছে। সাক্ষরতা প্রসারে এ অর্জনের জন্য ইউনেস্কো বাংলাদেশকে ১৯৯৮ সালে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার ১৯৯৮’ প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। ‘সবার জন্য শিক্ষা’ কর্মসূচি ও ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ’ বাস্তবায়নে সাফল্যের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর তৎকালীন মহাসচিব ইরিনা বোকোভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘শান্তি বৃক্ষ’ পদক প্রদান করেন। ইউনেস্কো মহাপরিচালকের বাণী ও ধারণাপত্র

দিবসটি উপলক্ষে ইউনেস্কো মহাপরিচালক মিস অদ্রে আজুলে তার বাণীতে নেলসন ম্যান্ডেলার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আপনি যদি কোনো ব্যক্তির বোধগম্য ভাষায় কথা বলেন, তাহলে তা তার মাথায় ঢোকে। আর আপনি যদি তার নিজের ভাষায় কথা বলেন, তাহলে তা তার মনের মধ্যে গেঁথে যায়।’ অদ্রে আজুলে বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে একাধিক ভাষার চর্চা স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত প্রায় ৭ হাজার ভাষা স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং যোগাযোগ, জীবনব্যাপী শিক্ষা ও কর্মস্থলে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর দ্বারা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ধারণাপত্রে বলা হয়েছে- সাক্ষরতা অর্জনে সাফল্য সত্ত্বেও এখনও অনেক দেশ ও জনসংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বহুভাষার চর্চা এর প্রতিবিধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল বিস্তৃতির অভাবনীয় বিকাশের কারণে একাধিক বা বহুভাষার ব্যবহার ও চর্চা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষের গমনাগমন তথা গতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে; অব্যাহতভাবে করে চলেছে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস স্বল্প নাগরিক সুবিধা ভোগকারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, গ্রামীণ জনসমাজ, আদিবাসী মানুষ, উদ্বাস্তু, বঞ্চিত নারী ও শিশু এবং সংঘাত ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে সম্ভাবনার নতুন বার্তা বয়ে এনেছে।

সাক্ষরতার সংজ্ঞায় বিবর্তন
সাক্ষর শব্দের আভিধানিক অর্থ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি। এখন সাধারণ অর্থে সাক্ষর বলতে পড়া, লেখা ও হিসাব করায় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে মনে করা হয়। সাক্ষর ব্যক্তি যেন মাতৃভাষায় সহজে লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে, মনের ভাব শুদ্ধ ভাষায় বলতে ও লিখতে পারে; দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ করতে ও লিখে রাখতে পারে। বিগত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে সাক্ষর ও সাক্ষরতার সংজ্ঞায় নানা পরিবর্তন ও বিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে ‘সাক্ষরতা’ শব্দের প্রথম উল্লেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে আদমশুমারির সরকারি প্রতিবেদনে। তবে সাক্ষরতার সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে। যেমন- ১৯০১ সালে তা ছিল মাতৃভাষায় নাম স্বাক্ষর করতে পারার ক্ষমতা; ১৯৫১ সালে স্পষ্ট ছাপার অক্ষরে লেখা যে কোনো বাক্য পড়তে পারার ক্ষমতা; ১৯৬১ সালে যিনি বুঝে কোনো ভাষা পড়তে পারতেন, তিনিই ছিলেন সাক্ষর; ১৯৭৪-এ যে কোনো ভাষা পড়তে এবং লিখতে সক্ষম ব্যক্তিকে সাক্ষর হিসেবে গণ্য করা হতো; ১৯৮১ সালে কোনো ভাষায় চিঠি লিখতে পারার ক্ষমতা থাকলে তাকে সাক্ষর বলা হতো; ১৯৮৯ সালে তা হয় মাতৃভাষায় কথা শুনে বুঝতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে তা ব্যক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন হিসাব করা ও লিপিবদ্ধ করে রাখার ক্ষমতা লাভ। বর্তমানে সাক্ষরতার পরিধি শুধু মাতৃভাষা চর্চা ও হিসাব-নিকাশ আয়ত্ত করার মধ্যে সীমিত নেই। কম্পিউটার সাক্ষরতা, আর্থিক সাক্ষরতা, সাংস্কৃতিক সাক্ষরতার মতো বিভিন্ন নাগরিক প্রসঙ্গ; সর্বোপরি উন্নত জীবনের জন্য অপরিহার্য মানসম্মত দক্ষতা অর্জন, দেশাত্মবোধ, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরির সোপান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণভাবে সব দেশে সব সমাজে ক্রমেই এ বোধ বিস্তৃত হয়েছে ও হচ্ছে- সাক্ষর মানুষ উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে; সে সামাজিক ও মানবিক হয় বিধায় অনুসরণযোগ্য।

নিরক্ষর মানুষ কি অশিক্ষিত?

আমাদের সমাজে হীনম্মন্যতা এবং নিজেকে বড় মনে করার মানসিকতা দুটোই রয়েছে। দিনকয়েক আগে সুশাসন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- ‘শক্তিশালী ও কার্যকর সামাজিক জবাবদিহি প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ একটি কঠিন কাজ। এর কারণ বেশিরভাগ নাগরিক এখনও অশিক্ষিত বা আধাশিক্ষিত...।’ বাংলায় উপস্থাপিত এ বক্তব্যে খটকা লাগলে সেমিনারে বিতরণকৃত ইংরেজি ভাষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি- ইংরেজি ‘লিটারেট’ ও ‘সেমি-লিটারেট’-কে ‘অশিক্ষিত’ ও ‘আধা-শিক্ষিত’ হিসেবে বাংলায় ভাষান্তর করা হয়েছে। আসলে নিরক্ষর মানুষ যেমন অশিক্ষিত নন, আবার অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষও সবক্ষেত্রে সাক্ষর হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন না। গবেষক কেট মালকেহির মতে, শিক্ষিত হিসেবে সমাদৃত মানুষদেরও ২০ ধরনের নিরক্ষরতা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির উল্লেখ করা যায়; যেমন, সংখ্যাজ্ঞান নিরক্ষরতা, তথ্য নিরক্ষরতা, আর্থিক নিরক্ষরতা, সাংস্কৃতিক নিরক্ষরতা, কৃষি নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্য নিরক্ষরতা, বর্ণ বিদ্বেষের ভয়াবহতা অনুধাবনে নিরক্ষরতা ইত্যাদি। আমাদের দেশে এক সময় একটা কথা বেশ প্রচলিত ছিল- শহুরে মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ জানে না, ‘ধান গাছে তক্তা হয়’ কিনা!

সাক্ষরতা নিয়ে ইউনেস্কো ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। একইসঙ্গে এখন সাক্ষরতা মূল্যায়নে ৫টি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হচ্ছে। সাক্ষরতার ধারণায় নানা পরিবর্তন প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সময়ের ব্যবধানে এর সব হয়তো টিকবে না; তবে কালোত্তীর্ণ সৃজনশীল ভাবনাগুলো চিরায়ত গ্রহণযোগ্য তালিকায় জায়গা করে নেবে।

লেখক: অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য; চেয়ারপারসন, ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি)।

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website