সাত কলেজ: শিক্ষার্থীদের দেয়া তালা ভাঙলো ছাত্রলীগ - কলেজ - Dainikshiksha

সাত কলেজ: শিক্ষার্থীদের দেয়া তালা ভাঙলো ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি |

সাত কলেজের সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ। সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনও নিরসন চায় সংগঠনটি। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেয়া তালাও ভেঙে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাবে সব সরকারি কলেজ: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আন্দোলনের নামে ঐতিহ্যবাহী সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কটু মন্তব্য ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানানো হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। ক্লাস-পরীক্ষায় কেউ বাধা দিলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে বলেও ছাত্রলীগ নেতারা বলেন।

আরও পড়ুন: সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের ক্ষমতা ঢাবির নেই : উপ-উপাচার্য

রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের ভেতরে অবস্থান করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও’-সহ নানা স্লোগান দেয়। সমাবেশ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, আমার সিনেটে প্রথম দাবি ছিল সাত কলেজের সমাধান করতে হবে। তখন ভিসি স্যার বলেছেন অনতিবিলম্বে সাত কলেজের সমাধান করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের একমাত্র আস্থা দেশনেত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তাঁর কাছে বলেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য কাজ করে ছাত্রলীগ।

আরও পড়ুন: সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আলোচনা করে এর সমাধান করা হবে। ছাত্রলীগ ডাকসুর সাথে বসে এর একটা সমাধান করবে। আপনারা আস্থা রাখুন। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব, কিন্তু ক্লাস পরীক্ষা চলমান রাখতে চাই। যেখানে আলোচনা করে সমাধান করা যায় সেখানে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। যদি আগস্টের ১ম সপ্তাহে এর সমাধান না হয় তাহলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্দোলন করবে।

আরও পড়ুন: ঢাবির সব ফটকে তালা

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ চলমান রাখার জন্য আমাদের আজকের প্রোগ্রাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ে সবসময় কাজ করেছে। বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা সাত কলেজকে ঢাবির অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্ডারে অনেক কলেজ থাকে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তা করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর আত্মহত্যা : সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত অবরোধে

তিনি আরও বলেন, সাত কলেজ নিয়ে দেশনেত্রী চিন্তা করেন। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর, প্রোভিসির সাথে সাত কলেজ নিয়ে কথা বলেছি। সাত কলেজ কোনো বিষয় নয়। আমাদের দাবি শিক্ষার মানোন্নয়ন। আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে না। যেহেতু এগুলো আলোচনার মাধ্যমে সামাধান করতে হবে। তাই কালকে থেকে আমরা ক্লাস করব।

আরও পড়ুন: ঢাবি অধিভুক্তির পর সাত কলেজের শিক্ষার মান বাড়ছে (ভিডিও)

ডাকসু’র এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নিয়ে একটি দল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে। অধিকার আদায়ের নামে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক যে অধিকার, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সেই অধিকারকে বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আজকে আমরা ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার জিম্মি করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনাদের দাদাগিরি আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। ছাত্রলীগের সেই সক্ষমতা রয়েছে।

আন্দোলনের নামে ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কটু মন্তব্য ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান সাদ্দাম। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার আহবান জানান তিনি। ক্লাস-পরীক্ষায় কেউ বাধা দিলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্যও নির্দেশ দেন সাদ্দাম।

এদিকে গত ৯ জুলাই সরকারি কলেজগুলোকে পুনরায় নিজ নিজ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যায় লাগাম টানতে বলেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে সরকারি কলেজগুলো নিজ নিজ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেয়া হয়। বিপুলসংখ্যক কলেজ ও শিক্ষার্থীর চাপ, ভিসি-প্রোভিসিদের দুনীতি, অপ্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, সেশনজটসহ নানা কারণে দায়িত্ব পালনে বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার অনুশাসন দেন। 
 
দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে নানা কৌশল করে আসছে। তারা ক্রাশ প্রোগামের নামে শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার্থী বানিয়ে ফেলছে। দ্বৈত পরীক্ষক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আত্মঘাতী একক পরীক্ষক পদ্ধতি চালু করেছে। অবশেষে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার সাতটি কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হস্তান্তর করে। কিন্তু ফলাফলসহ নানা বিষয়ে ঝামেলা তৈরি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এসব কাজে সহায়তা করে নামধারী কতিপয় গণমাধ্যম। নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামায় একটি চক্র। আবার ঢাবির শিবিরপন্থি শিক্ষার্থীদের দিয়ে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল দাবি করে মিছিল করায় একটি চক্র।    
Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram - dainik shiksha Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website