সাড়ে তিন পেয়ে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হচ্ছেন রুমানা শাহীন - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

সাড়ে তিন পেয়ে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হচ্ছেন রুমানা শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক |

৩০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে মাত্র সাড়ে ৩ পেয়ে ভিকারুন নিসার অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফা।নিয়োগ কমিটি এই শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।আর গভর্নিং বডি এই শিক্ষককেই অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ও বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কটুক্তি করতে অভ্যস্ত পরিচালক মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, লিখিত পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে তার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ারও সুযোগ থাকে না। অথচ ভিকারুন নিসার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তৈরি করা হলো। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও অবৈধ উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন একাধিক অভিভাবক।

সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করে। কমিটিতে গভর্নিং বডির সদস্য আতাউর রহমান, মাউশির পরিচালক (কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আরাও ছিলেন। ২৭ এপ্রিল সকালে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১৫ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। মোট ১০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফাকে ভিকারুন নিসার অধ্যক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়, যিনি লিখিত পরীক্ষায় মাত্র সাড়ে ৩ নম্বর পেয়েছেন। তবে মৌখিক পরীক্ষায় ও একাডেমিক পারফরমেন্সের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষায় প্রথম করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, পরীক্ষার দিন বিকালে গভর্নিং বডির বৈঠকে সদস্য অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দ সব প্রার্থীর পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর জানতে চান। ওই সদস্য জানান, লিখিত পরীক্ষায় কে কত নম্বর পেয়েছে আমি জানতে চাই। কে কত নম্বর পেয়েছে তা গভর্নিং বডির অন্য সদস্যদের জানাতে গড়িমসি করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর কে কত নম্বর পেয়েছে তা জানানো হয়। দেখা গেছে, সবাই ফেল করেছে। এই সদস্য বলেন, সবাই যেহেতু পরীক্ষায় ফেল করেছে এ কারণে আমাকে খাতা ও নম্বর দেখাতে চাইছিল না।

জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলেও মৌখিক পরীক্ষায় ও একাডেমিক পারফরমেন্স মিলিয়ে রুমানা শাহীন শেফাকে ১৯ নম্বর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীরা যথাক্রমে সাড়ে ১৮ ও ১৮ নম্বর পেয়েছেন। আর প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম পেয়েছেন ১৭।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিকারুন নিসায় পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ১০টির মধ্যে ৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে ইংরেজিতে। তবুও তাকে লিখিত পরীক্ষায় পাস করানো যায়নি। ইংরেজিতে প্রশ্ন করার পরও ইংরেজির শিক্ষক যখন পরীক্ষায় ফেল করেন, তখন তার যোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

জানা গেছে, ভিকারুন নিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার। যিনি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গভর্নিং বডিরও সদস্য। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ভিকারুন নিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টায় নানামুখী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভিকারুন নিসার সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

নিয়োগ কমিটিতে থাকা মাউশির প্রতিনিধি পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কে কত নম্বর পেয়েছে তা মনে নেই। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথক পাসের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মত দেন। তবে পরিচালকের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন মাউশি অধিদপ্তরের অন্তত ২০ জন কর্মকতা; যারা বিভিন্ন সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাউশির প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে ভিকারুন নিসার গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা  অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন ও টকশোতে কটুক্তি করেন বিলুপ্ত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব  মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী গং। অথচ প্রতিটি নিয়োগ বোর্ডে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে থাকেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারাই। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নিয়োগে শাহেদুল খবিরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। 

বেসরকারি শিক্ষক সমিতির নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি  প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বোর্ডে থেকে মোটা খামের বিনিময়ে চুপ থাকেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। এরাই আবার নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন, কটুক্তি করেন। এদের মুখোশ খুলে দেয়া উচিত। 

ডিপিএড শিক্ষকদের বেতন জটিলতার সমাধান শিগগিরই - dainik shiksha ডিপিএড শিক্ষকদের বেতন জটিলতার সমাধান শিগগিরই স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামী মিজান গ্রেফতার - dainik shiksha স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামী মিজান গ্রেফতার উচ্চতর গ্রেড পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কমবে না - dainik shiksha উচ্চতর গ্রেড পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কমবে না ১ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ১ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন এমফিল-পিএইচডি জালিয়াতিতে এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা - dainik shiksha এমফিল-পিএইচডি জালিয়াতিতে এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির মেয়াদ বৃদ্ধি - dainik shiksha ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির মেয়াদ বৃদ্ধি অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের বাইরে ঘোরাঘুরিতে বিরক্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের বাইরে ঘোরাঘুরিতে বিরক্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় please click here to view dainikshiksha website