please click here to view dainikshiksha website

স্কলারশিপ নিয়ে সুইডেনে উচ্চশিক্ষা

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক: | ডিসেম্বর ৩, ২০১৬ - ৫:০৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

ফেইলারস আর দ্য পিলারস অব সাকসেস (Failures are the pillars of success) ও স্লো অ্যান্ড স্টেডি উইন দ্য রেস (Slow and steady win the race). এই দুটি লাইন আমার খুব পছন্দের। এই দুটি লাইনে ভর করে এবং সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমার এত দূর আসা। আমার সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন তাড়া দিতেন তখন আমার সব সহকর্মী ভালো রেটিংয়ের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করতেন। আমি ছিলাম আমার মতো। কারণ পারফেকশন আমার কাছে ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর দিন শেষে সবাই যখন এরর গুনতেন তখন আমি বাড়িতে।

সুইডেনে আসার গল্পটা শুরু আমার প্রাক্তন সহকর্মী জিন্নাত আপুর গুডবাই মেইল থেকে। ওই একটা মেইল ছিল আমার জন্য অনুপ্রেরণা। সুইডেনের গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের (Swedish Institute Scholarship) জন্য চেষ্টা করা ওই তখন থেকেই। এরপর টানা তিন বছর অ্যাপ্লাই। কতগুলো সাদা মনের মানুষ, আমার বড় ভাই ও আমার সহধর্মিণীর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।
যা হোক, সুইডেন আমার লিস্টে প্রথমে ছিল পড়াশোনার মানের কারণে। যেটা ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত। বলাবাহুল্য উন্নত শিক্ষা আর গবেষণার জন্য আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে অনেকে পাড়ি জমাচ্ছেন এখানে।
পরিসংখ্যান তথ্য যাচাই করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশ থেকে সায়েন্স রিলেটেড সাবজেক্টে স্কলারশিপ বেশি পেয়ে থাকে। আপনি যদি স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন তবে পড়াশোনা ও লিভিং খরচ সুইডিশ ইনস্টিটিউট (Swedish Institute) বহন করবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য। এ ছাড়া আসার জন্য পাবেন বিমান ভাড়া। গত বছর আমরা সর্বমোট ৩০ জন সিলেক্ট হয়েছিলাম বাংলাদেশ থেকে। আসার আগে রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে পেয়েছিলাম উষ্ণ অভ্যর্থনাও।
প্রতিবারের মতো এবারও স্কলারশিপ আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে জানুয়ারি পর্যন্ত। সবকিছু নিজে নিজেই করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন কোনো এজেন্ট আপনার হয়ে এ কাজগুলো করতে পারবে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে আছেন। নিচের দুটি ওয়েবসাইটে ভর্তি থেকে স্কলারশিপের বিস্তারিত সব তথ্য পাওয়া যাবে।
১। <universityadmissions.se/intl/start>
সুইডেনে আসার আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল শোভন, সজিব ও রেজা ভাইদের সঙ্গে। তারা এখানকার প্রাক্তন ছাত্র। আসার পর একটিবারের জন্যও মনে হয়নি আমি সম্পূর্ণ এক নতুন জায়গায়। শত ব্যস্ততার মধ্যেও বিমানবন্দরে থেকে রিসিভ করা ও ডলার ভাঙানোর আগেই খাবার ব্যবস্থা করা মনে হয় বিরল দৃষ্টান্ত। পরবর্তী বারের জন্যও আশা করি ওনারা প্রস্তুত। পরিশেষে আমরা যারা বিদেশে পড়তে আসি সবার যেন একটাই উদ্দেশ্য হয়, পড়াশোনা শেষে দেশের জন্য কিছু করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন