please click here to view dainikshiksha website

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি | আগস্ট ৯, ২০১৭ - ৮:০৮ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে একই স্কুলের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক রেজাউল করিম লাভলু (৩৮) কে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় রেজাউল করিমকে বুধবার সকালে বেদম প্রহার করে স্কুলের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর কোতয়ালী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার চেয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলের কৃষি শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক রেজাউল করিম স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় বেশী নম্বর দেবার কথা বলে স্কুলের একটি কক্ষে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে স্কুল থেকে বের করে দেবার হুমকি দেয়া হয়। ফলে ভয়ে সেই ছাত্রী ঘটনাটি এতদিন কাউকে বলতে সাহস পায়নি।

সম্প্রতি অভিযুক্ত রেজাউল ছাত্রীটিকে ফের অশ্লীল প্রস্তাব দিলে সে তার সহকর্মীদের কাছে বিষয়টি বলে দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে রেজাউল করিম স্কুলে এলে স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে রেজাউল করিমের সাথে কথা বলতে গেলে সে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হবার চেষ্টা করে। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী রেজাউল করিমকে বেদম প্রহার করে একটি শ্রেণি কক্ষে আটকে রাখে। স্কুল শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে এলাকাজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। ঘটনা শোনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষার্থীরা রেজাউল করিমকে ঘেরাও করে রাখে। সকাল থেকেই শিক্ষকের বিচার দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রভাংশু মহান সোম ও কোতয়ালী থানার একদল পুলিশ স্কুলে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করে বেলা সাড়ে চারটার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানান, ২০১০ সালে স্কুলে চাকুরী নেয়া দুই সন্তানের জনক রেজাউল করিম এর আগেও প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে এক ছাত্রীর সাথে অপকর্ম করে ধরা পড়ে সে মামলায় জেলও খেটেছিল। স্কুলের আরবী শিক্ষক মনসুর আলী বলেন, তিনি বেশ দূর থেকে স্কুলে আসেন। ফলে বৃষ্টি হলে তিনি স্কুলের একটি রুমে থাকেন। সেই কক্ষটি একটি অংশ আলমারী দিয়ে ঢাকা এবং বাকি অর্ধেক অংশে তিনি খাট পেতে মাঝে মধ্যে থাকতেন। মনসুর আলী জানান, মাঝে মধ্যে দুপুরের টিফিনের পর শিক্ষক রেজাউল করিম কাজের কথা বলে তার থাকার কক্ষে গিয়ে তাকে ঘুরে আসার কথা বলতেন। সে জানায়, কয়েকদিন এ কক্ষে তিনি রেজাউল করিম ও উক্ত ছাত্রীকে দেখেছেন। স্কুলের কতিপয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আরবী শিক্ষক মনসুর আলী বিষয়টি জানলেও সে স্কুলের কাউকে জানায়নি এজন্য তারও কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। এ ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষক-ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জরুরী বৈঠক করেন। বিষয়টি তারা উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন জানান, সকালে স্কুলের শিক্ষার্থীরা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে জনৈক ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা বলে তার কাছে বিচারের জন্য আসে। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শিক্ষক রেজাউলকে মারপিট করে একটি কক্ষে আটক করে রাখে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রভাংশু মহান সোম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠায় তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্কুল ছাত্রীটির মা জানান, শিক্ষক রেজাউল করিম তার মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে লোক মারফত আমাকে জানায়। কিন্তু কথাটি আমি বিশ্বাস করিনি। এ বিষয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, স্যার তার কাছ থেকে সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর নিয়েছে। আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে শিক্ষক আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে তার উপযুক্ত বিচার চাই। শিক্ষক রেজাউল করিম বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকিও দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথাই বলবো না।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই মোঃ গাফফার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিক্ষুব্ধ মানুষের কবল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১১টি

  1. হুমায়ুন কবির says:

    উপযুক্ত বিচার হলো প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা।

  2. Ashraf. says:

    তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী প্রমানিত হলে উপযুক্ত সাজা হয়া উচিত,

  3. Md Rafiqul Alam. Assistant Headmaster, Nayachar Bazar girls High school, Rajibpur, Kurigram says:

    He is a blackship teacher.

  4. এম.সোলায়মান এম.এ says:

    ঐ স্যারের MPO কর্তন করা হোক

  5. মো: আনোয়ারুল ইসলাম প্রভাষক দর্শন বিভাগ পলাশবাড়ী আদর্শ ডিগ্রি কলেজ পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা says:

    ধর্ষণকারী স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিমের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ ,যা দেখে কোন মনূষ রুপি নরপশু এরকম অনৈতিক কাজ করার সাহস না পায় ।

  6. মোস্তাফিজুর রহমান।সহ:শিক্ষক(গনিত)দূর্গাপুর হাজী মোবারক আলী দাখিল মাদরাসা।বরিশাল।01711857492 says:

    কেয়ামতের আলামত।মেয়ের বয়সি আর কি বলব জানোয়ার

  7. মোঃআজাদ হোসাইন says:

    গেল গেল দেশটা রসাতলে গেল,হায়!আমরা কোন দেশে বাস করি

  8. Faruk ahammad(English) Teacher.Shere-e-Bangla high school.kasba.brahmanbaria. says:

    It will be better to delete his name from the MPO sheet.

  9. হুমায়ুন কবির says:

    Not only delete his MPO but also delete his PANIS.

  10. ashik says:

    এমন কাজ যাতে অন্য কেউ করতে গেলে ভয়ে বুক ফেটে উঠে শালাকে তেমন একটি সাজা দেওয়া হক।

  11. ashik says:

    শুনেছি মেয়ের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়তেছে।বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার অনুরোধ তিনি যেনো মেয়েদের সাহাযো করে।

আপনার মন্তব্য দিন