স্কুলব্যাগের বিকল্প ডিজিটাল শিক্ষা - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

স্কুলব্যাগের বিকল্প ডিজিটাল শিক্ষা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ইতিমধ্যেই করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে টেলিভিশনভিত্তিক ক্লাশরুমের সূচনা হয়েছে। এখন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক উভয় স্তরেই সংসদ টেলিভিশনে রুটিনমাফিক ক্লাস সম্প্রচার শুরু হয়েছে। এমনকি উচ্চশিক্ষা স্তরেও ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া শুরু হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল আমি নিজে ডেফডিল পলিটেকনিকের একটি ক্লাস নিয়েছি; যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক ছেলেমেয়ে অংশ নিয়েছে। যদিও এটি ডিজিটাল শিক্ষা নয়, তবুও এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সবাই এটি অনুভব করেছেন যে, স্কুলব্যাগভিত্তিক শিক্ষার যুগের অবসান হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়। 

নিবন্ধে আরও জানা যায়, আমার নিজের জন্য বিষয়টি জরুরি মনে হয়েছিলো অনেক আগে সেই ১৯৮৭ সালে। সেটিও এজন্য যে, আমি তখন ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কম্পিউটার ব্যবহার করে শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হই। আমাকে বিস্মিত করে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল দেখায় যে, কম্পিউটার শেখার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কম্পিউটার দিয়ে শেখা। মাল্টিমিডিয়া ইন্টারঅ্যাকটিভ সফটওয়্যারের সঙ্গেও পরিচয় হয় সেখানেই। বস্তুত তখনই আমি শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে পরিচিত হই। তখনই আমি দেখি যে বইকে সফটওয়্যার বানানো যায়। ১৯৯৭ সালে আমেরিকা থেকে সেইসব সফটওয়্যার সংগ্রহও করি। নিজের পুত্রের ওপর সেই সফটওয়্যার ব্যবহার করে লেখাপড়া করার পদ্ধতিটি প্রয়োগও করেছিলাম।

২০১৯ সালের একটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করছি। ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস থেকে কিছু লেখা ও ছবি তুলে ধরছি- সকালে অফিস যাওয়ার সময় প্রায়ই চোখে পড়ে ছোট ছোট বাচ্চারা নিচের চেয়ে বড় ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায়। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো নিজের চেয়ে বড় ব্যাগের ভার সামলাতে সামনের দিকে কুঁজো হয়ে হাঁটে। এভাবে প্রতিদিন নিজের বাচ্চার কাঁধে চড়িয়ে দেয়া ব্যাগ যে তার কত বড় ক্ষতির কারণ কখনও সেটা ভেবে দেখেছেন?

অনেক বছর এভাবে ব্যাগ বহন করতে করতে যখন ব্যাগ ছাড়াও কুঁজো হয়ে হাঁটতে শুরু করে, তখনই তার পরিবারের নজরে আসে। এর পরের গল্পটা এই তিনটি ছবি। প্রচ- পিঠে ব্যথা আর কুঁজো হয়ে হাঁটার সমস্যার সমাধানের জন্য যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিলো তার পরিবার, বাচ্চা ছেলেটিকে যেতে হয় এক বড় ভয়াবহ সার্জারির ভেতর দিয়ে। এই ভয়াবহ সার্জারির দাগ থেকে যাবে সারাজীবন। তার জীবন কেটে যাবে কতগুলো মেটাল নিজের শরীরের ভেতরে রেখে।

নিজের বাচ্চার দিকে তাকান, কী ভাবছেন? যা ভালো মনে করছেন, সেটাই করুন। নিজের বাচ্চার ভালো আপনার চেয়ে ভালো কেউ বুঝবে না। শিশুদের যে বইয়ের বোঝা দেয়া উচিত নয় সেইসব কথা সবাই হরহামেশাই বলে থাকেন। কিন্তু দিনে দিনে বই এবং বিষয়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৈষম্যটা কেমন তার একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করলেই বোঝা যাবে। আমাদের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিশুরা পড়ে মাত্র ৩টি বিষয়। পঞ্চম শ্রেণীতে শিশুরা পড়ে ৬টি বিষয়। সেই শিশু ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে ১৩টি বিষয়। যারা এসব বিষয় পাঠ্য করে তারা কি কখনও ভাবে যে শিশুটির মেরুদ-ের জোর কতটা? তারা কি এটিও ভাবে যে তাদের মগজের ওজন কতো? এটিও কি তারা বোঝেন যে, এক বছরে সে কতোটা বেশি গ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে? এক বছরের ব্যবধানে একটি শিশুকে কি কোনভাবে নতুন সাতটি বিষয় পড়তে দেয়া যায়? দুনিয়ার কোন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ কি এমন পরামর্শ দিতে পারেন? দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প-িতগণ সেই কাজটি করেছেন। শুধু কি তাই- সরকারি স্কুলের পাঠক্রমে যে পরিমাণ বই বা পাঠ্য বিষয় আছে বেসরকারি বা ইংরেজি মাধ্যম এমনকি মাদ্রাসারও বই বা পাঠক্রম তার চাইতে বহুগুণ বেশি। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কোন কোন বেসরকারি বিদ্যালয়ে এনসিটিবির বইয়ের চাইতে শিশুশ্রেণীতেই দ্বিগুণ-তিনগুণ বই পড়ানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকে কেবলমাত্র বই থেকে কমিশন পাওয়া যাবে বলে নতুন নতুন বই পাঠ্য করে। প্রকাশকরা এসব বই পাঠ্য করার জন্য শতকরা ৭০ ভাগ অবধি কমিশন দিয়ে থাকে। অন্যদিকে স্কুলের মালিক ও শিক্ষকরা বলেন যে, অভিভাবকরাই চান যেন অনেক বই পাঠ্য করা হয়। একটি বিষয়কে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। সরকার দ্বিতীয় শ্রেণীতে ইংরেজি শেখার জন্য একটি বই পাঠ্য করেছে। কিন্তু বেসরকারি স্কুলে ইংরেজির ওয়ার্ড বুক, অ্যাকটিভ ইংলিশ এমনকি ব্যাকরণও পাঠ্য করে। শিশুশ্রেণির একটি শিশুর যেখানে খেলায় খেলায় পড়ার কথা সেখানে তাকে বইয়ের পর বই চাপিয়ে দেয়া হয়। দ্বিতীয় শ্রেণীতে কি তাকে ইংরেজি বা বাংলা ব্যাকরণ পড়ানো যায়? উপরন্তু শিশুর জন্য এক সঙ্গে বাংলা-ইংরেজি ও আরবি ভাষার অত্যাচার তো আছেই। কাকতালীয়ভাবে সেজন্য সরকারি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা সাধারণ সরকারি স্কুলের চাইতে বেশি বই পাঠ করে। মুম্বাইয়ের ঘটনাটি বাংলাদেশেও ঢেউ তুলেছে। কেউ একজন বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে রিট করেছেন এবং আদালত শরীরের ওজনের এক-দশমাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ শিশুদের না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ আদৌ কার্যকর হয়নি। বই কমানোর কথা বলা হচ্ছে কিন্তু বই কমছে না।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগে সরকার অনুমোদিত বই ও উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু না দিতে সবাইকে সতর্ক করেছিলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামালের স্বাক্ষরে এক পরিপত্রে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ব্যাগে অনুমোদিত বই-উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু বিদ্যালয়ে আনতে নিরুৎসাহিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক; জেলা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য যেসব বই অনুমোদন করেছে তা পরিবহনে কোনো ছেলে-মেয়ের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেসব ছাত্রছাত্রী ব্যাগে বই বহন করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তার ওজন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুর ওজনের ১০ শতাংশের বেশি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ভারি ব্যাগ বহনের কারণে যাতে পিঠে ব্যথা বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মতো সমস্যা দেখা না দেয়, সেজন্য অনুমোদিত বই, উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাগে করে বিদ্যালয়ে বয়ে আনা নিরুৎসাহিত করতে হবে।’ ব্যাগের ওজন শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি যাতে না হয় পরিপত্রে তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা পর্যদ এবং অভিভাবকদের বলা হয়েছে।

প্রাথমিকে শিশুর শরীরের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করতে ছয় মাসের মধ্যে আইন প্রণয়নের জন্য ১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন না করতে এবং করাতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের সব স্কুলে ৩০ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার জারি করতেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। অবশেষে সেই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকার একটি সার্কুলার জারি করলেও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। এ ব্যাগ বহনের বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কোনো বিদ্যালয়ে নজরদারিও দেখা যায়নি। সর্বশেষ নির্দেশটিও কার্যকর হয়নি।

একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়- ঢাকায় অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক জিয়াউল কবির দুলু বলেছেন, ‘শিক্ষা উপকরণ বলতে কি বোঝানো হয়েছে পরিপত্রে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এটি লোক দেখানো বলেই মনে হচ্ছে। বইয়ের কারণে তো ব্যাগের ওজন বাড়ে না। বইয়ের সঙ্গে প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য একটি করে খাতা বহন করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন ধরনের ডায়েরি। এসব বহন করা বন্ধ করতে হবে।’ এ ধরনের পরিপত্র জারি না করে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে আইন করে শিশুদের ব্যাগ যাতে ভারি না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে বলেও মত দেন দুলু।

স্কুলব্যাগের ওজন কমানোর জন্য সাধারণ প্রস্তাব হচ্ছে বইয়ের সংখ্যা কমানো। আমি মনে করি, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বইয়ের সংখ্যা কমানো গেলেও স্কুলব্যাগের ওজন কমানোটা ডিজিটাল যুগের সমাধান নয়। বরং এখন দুনিয়ার সর্বত্র স্কুলব্যাগ উধাও করার প্রচেষ্টা চলছে। আমরা নিশ্চিত করেই জানি যে, ডেনমার্কের স্কুলে বই দিয়ে লেখাপড়া করানো হয় না। আমরা ডেনমার্কের শিশুদের জন্য সফটওয়্যার বানাতে গিয়ে দেখেছি যে, ওরা ওদের হাতে প্যাড বা ট্যাব তুলে দিয়েছে। সিঙ্গাপুরের ছেলেমেয়েরা আইপ্যাড দিয়ে পড়াশোনা করে। মালয়েশিয়ার স্মার্ট স্কুলগুলোতে কাগজের বই কোন প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গই নয়। যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলো সম্পর্কে ৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরটির অংশবিশেষ দেখেই বলা যাবে, ওজন কমানো নয়, ভারি ওজনের স্কুলব্যাগটাকে উধাও করাটাই সমাধান।

আমরা নিজেরা কুয়োর ব্যাঙের মতো চারপাশটা দেখি বলে নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে, দুনিয়াতে কী ঘটছে। যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলো নিয়ে প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম- যুক্তরাজ্যের ৭০ শতাংশ বিদ্যালয়ে ট্যাবলেট। খবরটি এরকম : ‘যুক্তরাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ট্যাবলেট কম্পিউটার। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তির সুবিধা দিতে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির সুবিধা নিতে ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। আর সে জন্যই বিদ্যালয়গুলোতে ট্যাবলেট কম্পিউটার দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণার অংশ হিসেবে ৬৭১টি বিদ্যালয়ে জরিপ চালানো হয়। বিদ্যালয়গুলোতে ট্যাবলেটের এমন ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ যেমন বাড়ছে তেমনি বাসা এবং বিদ্যালয়ে প্রযুক্তির নানা সুবিধাও ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা। বার্বি ক্লাক অব দ্য ফ্যামিলি, কিডস অ্যান্ড ইয়ুথ রিসার্চ গ্রুপের করা এ গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ট্যাবলেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদ্যালয়ের বাইরে বাসায় প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ শিক্ষার্থী ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের ট্যাবলেট ব্যবহারের এমন হার ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ সহায়তা করছে বলে জানিয়েছে গবেষক দল। যে হারে এ সংখ্যা বাড়ছে তাতে ২০১৬ সালের মধ্যে ট্যাবলেট ব্যবহারের সংখ্যা বেড়ে হওয়ার কথা নয় লাখ। এই বছরে সেটি মিলিয়ন অতিক্রম করে গেছে সেটি অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের শিশুদের এই পরিসংখ্যান বস্তুত একটি ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান ’১৭ সালে কী হয়েছে সেটি আমরা আন্দাজ করলেই অনুভব করতে পারি।

ফোর্বসের ওয়েবসাইটে ডিজিটাল শিক্ষা নিয়ে অসাধারণ কিছু মন্তব্য পাওয়া গেছে। একটি মন্তব্য হচ্ছে ৬০০ বছর আগে জার্মানির গুটেনবার্গ ছাপাখানা আবিষ্কার করে যে ধরনের বিপ্লব সাধন করেছিলেন শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর দুনিয়াটিকে সেভাবেই বদলে দেবে। এতেই বলা হয় যে, ডিজিটাল শিক্ষা এখন আর ডিজিটাল ক্লাশরুমে স্মার্ট বোর্ড, শিক্ষামূলক খেলা বা ক্লাসরুমের রূপান্তরই নয়, বরং যেসব শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগের বাইরে তাদের জন্যও এক অনন্য সুযোগ হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে আমরা কি স্কুলব্যাগটা গায়েব করার মতো অবস্থায় রয়েছি? বিষয়টি আমার মাথায় বহুদিন যাবত কাজ করছে বলে এর পরীক্ষা করার বিষয়টাও আমার মাথায় ছিল। ২০০০ সাল থেকেই আমি স্কুলের ক্লাসরুমে কম্পিউটার দিতে শুরু করি। তবে সেই সময়ে আমাদের দেশীয় উপাত্ত বা বাংলা ভাষার উপাত্ত না থাকার ফলে ক্লাসরুমে কম্পিউটার কোন ঢেউ তুলতে পারেনি। বাধ্য হয়েই আমাকে কনটেন্ট তৈরিতে মনযোগী হতে হয়েছে। ২০২০ সালে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কনটেন্ট তৈরি করতে পারায় আমি ক্লাসরুমে কেবল কম্পিউটার বা প্রজেক্টর নয়, ছাত্রছাত্রীদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস প্রদান করতে শুরু করেছি। যারা করোনার লকডাউনের সময় বিটিভির টিভিভিত্তিক ক্লাসের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে, তাদের প্রকৃত ডিজিটাল শিক্ষার দিকে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানাই।

ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২০ ॥

লেখক : মোস্তাফা জব্বার, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান; সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক

Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram - dainik shiksha Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website