স্কয়ার হাসপাতাল: করোনা সন্দেহে রোগী তাড়ানোর অভিযোগ - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

স্কয়ার হাসপাতাল: করোনা সন্দেহে রোগী তাড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

করোনা সন্দেহে রোগীদের তাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।  কিডনীসহ কয়েকটি সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়ে কয়েকদিন ধরেই তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।  ১৮ মার্চ ভর্তি করানো হয় তাকে। রোববার তিনি স্ট্রোক করেন। ডায়রিয়াও ছিলো।  এখনও অচেতন। কিন্তু আজ সোমবারই রোগীকে বাড়ী যেতে বাধ্য করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

রোগীর পরিবারের একজন সদস্য দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘আমাদের মা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালিসিস করেন বহুদিন ধরে। দুইদিন ধরে ডাক্তার ও নার্সরা তাঁর কাছে যান না। কোনও পরীক্ষা করাতে রাজী নন। ডাক্তারদের ভয় থেকেই রোগীকে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারা শত চেষ্টা করেও স্কয়ার হাসপাতালে তাদের মাকে রাখতে পারেনি। অথচ গত চার মাস ধরে নিয়মিত সাপ্তাহিক ডায়ালিসিস করাচ্ছি এই হাসপাতালেই। আজ অচেতন অবস্থায় মাকে লালমাটিয়ার বাড়ীতে নিয়ে এসেছি। 

 তিনি বলেন, ‘কর্তব্যরত ডাক্তার বলেছেন, উনার (রোগীর) সব ঠিক আছে। তার কোনও সমস্যা নেই।’

 তিনি আরও বলেন, শুধু আমার মা-ই নন আরও অন্তত তিনজন বয়স্ক রোগীকে জোর করে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা বলাবলি করছিল রাজধানীর বসুন্ধরার একটি নামকরা হাসপাতালের কথা। সেখানে করোনার প্রথম রোগী মারা যায়। 

মতামত জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি স্কয়ার হাসপাতালের কাউকে। কথা বলতে রাজী নন তারা।

এদিকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যাল ও হাসপাতালেও রোগী তাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, রোগী ও দর্শনার্থী তাড়াতে কর্মচারীরা মিথ্যা প্রচারের কৌশল নিয়েছেন। যদিও করোনাভাইরাস আতঙ্কে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অর্ধেক নেমেছে। যারা নিরুপায় হয়ে আসছেন তাদেরও মিথ্যা প্রচার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে তাড়ানো হচ্ছে। শুধু শেবাচিম হাসপাতাল নয়, চিকিৎসাসেবায় স্থবিরতা নেমে এসেছে গোটা নগরীতে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে। প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রায় সব শ্রেণির চিকিৎসক। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে চিকিৎসকদের এমন সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালের নার্স তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা বেগম বলেন, ১০০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৭০০ রোগী ভর্তি থাকতেন। করোনাভাইরাস আতঙ্কের পর নতুন রোগী আসা কমে গেছে, কিছুটা সুস্থ রোগী যারা ছিলেন তারাও আতঙ্কে দ্রুত হাসপাতাল ছেড়েছেন।

নিচতলায় বহির্বিভাগে হাতেগোনা কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে। বেশিরভাগ কক্ষে চিকিৎসক অনুপস্থিত। একাধিক রোগী জানান, চিকিৎসকরা রোগীদের দূরে দাঁড় করিয়ে ২-১টি কথা শুনে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন অথবা মোবাইল ফোন নম্বর দিচ্ছেন পরে যোগাযোগ করে ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার জন্য।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, আতঙ্কে রোগী আসা অর্ধেক কমে গেছে। একই কারণে চিকিৎসকরাও রোগী দেখতে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছেন। এ জন্য ফোনে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। গতকাল সকালে করোনা রোগী আসার খবর ছড়ানো ভুল বোঝাবুঝি বলে পরিচালক জানান।

প্রাইভেট চিকিৎসা বন্ধ: বরিশাল নগরীতে ল্যাবএইড, মেডিনোভা, অ্যাপোলো, বেলভিউ নামক ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে বসেন বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে আরও অনেক চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসদের চেম্বার অধ্যুষিত এলাকাগুলো থাকে লোকারণ্য। গত শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসকরা চেম্বারে আসা বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

ডায়াগনস্টিকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বেশিরভাগের বয়স ষাটোর্ধ্ব। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেরাই হৃদরোগী। বাইপাস অপারেশনও হয়েছে দু'একজনের। জীবনের ঝুঁকি এড়াতে তারা আপাতত চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রেখেছেন। বরিশাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল বলেন, চিকিৎসকরা নিরাপত্তার জন্য চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করেছেন। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ঢাকা থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাওয়া গেলে চিকিৎসকদের আবার চেম্বারে ফিরিয়ে আনা হবে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোগী দেখা না দেখা চিকিৎসকের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তাছাড়া চিকিৎসকের নিরাপত্তার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তেমন পদক্ষেপও নেওয়া যায়নি। জরুরি রোগীদের সরকারি হাসপাতাল এবং প্রয়োজনে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরমর্শ দেন তিনি।

করোনা আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮ - dainik shiksha করোনা আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮ ইসরাইলের আশ্বাস, দু’এক সপ্তাহের মধ্যে করোনার টীকা - dainik shiksha ইসরাইলের আশ্বাস, দু’এক সপ্তাহের মধ্যে করোনার টীকা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ একটি মৃত্যুও কাম্য নয় : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha একটি মৃত্যুও কাম্য নয় : প্রধানমন্ত্রী স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মার্চের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মার্চের এমপিওর চেক ছাড় গণপরিবহন বন্ধ থাকবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত - dainik shiksha গণপরিবহন বন্ধ থাকবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিন সময় রেখে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন রুটিন হবে - dainik shiksha ১৫ দিন সময় রেখে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন রুটিন হবে এপ্রিলেই আসছে ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ - dainik shiksha এপ্রিলেই আসছে ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে - dainik shiksha শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টিভিতে পাঠদান : সারাদেশের শিক্ষকরাই সুযোগ পাবেন - dainik shiksha টিভিতে পাঠদান : সারাদেশের শিক্ষকরাই সুযোগ পাবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website