স্থায়ী ক্যাম্পাসের নামে তামাশা - বিবিধ - Dainikshiksha

স্থায়ী ক্যাম্পাসের নামে তামাশা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ৫৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাত্র ১৩টি। বাকি ৪০টির নামমাত্র স্থায়ী ক্যাম্পাস করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই জেনেশুনে দুর্গম স্থানে লোক-দেখানো স্থায়ী ক্যাম্পাস করেছে। এটাকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নামে তামাশা বলে মনে করছেন অনেকে। আর এ সুযোগে রাজধানীর একাধিক অস্থায়ী ক্যাম্পাসেই প্রায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়। আজ সোমবার(২৫ মার্চ) কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন শরীফুল আলম সুমন।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ৫৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে গত আট বছরে পাঁচ দফা সময় দেওয়া হলেও তারা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানায়, বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৩টি। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া শুরু হয় ১৯৯২ সালে। তবে ২০১২ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয় সরকার। এগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সাত বছরের সময়সীমা এখনো পার হয়নি। তবে বাকি ৫৩টির মধ্যে ১৩টি পুরোপুরিভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ করলেও সেখানে যাচ্ছে না। তারা আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করলেও বাস্তবে তা করছে না।

এ ছাড়া ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা কিনেছে, কেউ কেউ কাজও শুরু করেছে। দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের জমিতে নির্মিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আইন অনুযায়ী সেটাও বৈধ নয়। আর তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত জমির চেয়ে কম জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে। তাদের বারবার তাগাদা দিলেও শর্ত পূরণে খুব একটা অগ্রগতি নেই।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান  বলেন, ‘অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজধানীর বাইরে সুন্দর ক্যাম্পাস করেছে। তার পরও সেখানে যায় না। তবে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দুজনই নতুন। তাই তাদের আমরা শিগগির পুরো ব্যাপারটি জানাব।’

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরের বেশ ভেতরে ও আশকোনায় নিজস্ব ক্যাম্পাস করেছে। অথচ বনানী, কারওয়ান বাজার ও ধানমণ্ডিতে তিনটি তাদের ক্যাম্পাস এখনো চলমান। একেক ক্যাম্পাসে একেক ধরনের কোর্স চালানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে সব ক্যাম্পাসেই সব ধরনের কার্যক্রম চলছে।

উত্তরায় অবস্থিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার পরও তারা সেখানে আংশিক কাজ চালাচ্ছে। মহাখালীতে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস সাভারে। অথচ তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শুধু একটি কোর্স করাচ্ছে। বাকি সবই হচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। ধানমণ্ডিতে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস করলেও তারা সেখানে তেমন কোনো কার্যক্রমই চালাচ্ছে না।

এর বিপরীতে উদাহরণ তৈরি করেছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। ধানমণ্ডিতে তাদের জমজমাট ক্যাম্পাস থাকার পরও বাড্ডার মাদানি এভিনিউতে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার পর তারা সম্পূর্ণভাবে সেখানেই চলে যায়। আর এতে তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেনি বরং বেড়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে আলোচনা হয়, স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার পরও যারা সেখানে সরে যাচ্ছে না, তাদের সমাবর্তন বর্জন করা হবে। কিন্তু ওই আলোচনাকে পরবর্তী সময়ে আর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিয়ম না মানা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন ঊর্ধ্বতনরা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার অগ্রগতি নিয়ে গত বছর সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয় ইউজিসি। সেখানে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ব্যাপারে এবং আউটার ক্যাম্পাস বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

জানা যায়, একদিকে আইনি বাধ্যবাধকতা অন্যদিকে ইউজিসির চাপে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বেশ দূরে গড়ে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাস। তবে ওই ক্যাম্পাসে তেমন কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে না। তা ব্যবহৃত হচ্ছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সমাবর্তনসহ বড় বড় অনুষ্ঠানের স্পট হিসেবে। এমনকি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও গুরুত্ব পাচ্ছে না স্থায়ী ক্যাম্পাসের ঠিকানা। বরং রাজধানীতে অবস্থিত আউটার ক্যাম্পাসের ঠিকানাই তারা বড় করে ব্যবহার করছে।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা জানান, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খরচ সরকার দিলেও বেসরকারির দিকে কোনো মনোযোগ নেই। অথচ আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখন সরকার জায়গার ব্যবস্থা করে দিলে অনেকেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেত। এখন যেহেতু অনেক দূরে স্থায়ী ক্যাম্পাস, তাই সেখানে গেলে শিক্ষার্থী হারানোর ভয়ে কেউ সরতে চায় না।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা কেন স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারছি না তা কিন্তু ইউজিসি দেখছে না। আগে আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে, এরপর চাপ দিতে হবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী আমরা জমি কিনে ব্যাংক ঋণও নিতে পারব না। তাহলে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে বিশাল অঙ্কের অর্থ কে জোগান দেবে?’

২১ থেকে ২৫ জুলাইয়ের এগ্রিকালচার ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত - dainik shiksha ২১ থেকে ২৫ জুলাইয়ের এগ্রিকালচার ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত একাদশে ভর্তিকৃতদের তালিকা নিশ্চয়ন ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের তালিকা নিশ্চয়ন ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিকল্প প্রয়োজন - dainik shiksha বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিকল্প প্রয়োজন এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৮০ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৮০ শিক্ষক একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website