স্বপ্ন পূরণের ১০ চ্যালেঞ্জ - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

স্বপ্ন পূরণের ১০ চ্যালেঞ্জ

বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন |

Growth and comfort do not coexist -Ginni Rometty.

যদি সফল এবং সুখী হওয়ার পথটি খুব সহজ হতো তবে বেশ হত তাই না? কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো এমনটি হবার সুযোগ একেবারেই নেই। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা নিজেরাই নিজেদের এমন কিছু করতে বাধ্য করি যা আমরা করতে চাই না। আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবেই গঠিত যে কোনো ঝুঁকি বা সমস্যার মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত মস্তিষ্ক কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

অনেক গবেষণায় দেখানো হয়, আমাদের কর্মদক্ষতা তখনই প্রস্ফুটিত হয় যখন কাজটি আমাদের মন থেকে করি। চ্যালেঞ্জিং কাজ শুধু যে সাফল্য এনে দেয় তা কিন্তু নয় বরং আমাদের সুস্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের জন্যও এটা প্রয়োজন। 

ছোট কিছু ধারণা এবং মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাই পারে আপনাকে লাগামহীন করতে। আর তখনই সম্ভব স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাওয়া। আর তাই গণ্ডি থেকে বেড়িয়ে আসুন আর আলিঙ্গন করুন এই দশটি চ্যালেঞ্জকে।

নিজের চাহিদা, নিজেই জানান:
Jules Renard বলেছেন, ‘আপনি যা চান তার সবকিছু আপনার প্রয়োজনের অপেক্ষায় আছে। আপনার চাওয়াগুলো চাওয়াটাও আপনি। তাই নিজের চাওয়া পূরণ করতে নিজেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’  

বেশিরভাগ মানুষ নিজে থেকে চাইতে পারে না বলেই তাদের চাওয়াগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। হ্যাঁ, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনাটা হয়তো থেকে যায় এবং তা সামলে নিতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন। কিন্তু সারাজীবন একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকা কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হওয়ার চেয়েও কঠিন। নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন কোনটি আপনার বেশি খারাপ লাগছে। ভাবুন তো, সাধারণ একটি প্রত্যাখ্যান আপনার চাওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে কি?   

আনলিশ ইউর ট্রু পটেনশিয়াল- গোলাম সামদানি ডন

জেগে উঠুন, ভোর দেখুন:
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস না থাকে তবে আপনার অ্যালার্মটি এগিয়ে সেট করুন। আর এখানেই সূচনা হবে আপনার চ্যালেঞ্জিং কাজের। দিনের প্রথমে যদি বাড়তি সময় বের করে নেয়া যায় তা কিন্তু আপনার সারাদিনের কাজের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। বিল গেটস থেকে শুরু করে মার্ক জুকারবার্গ সবাই নিজেদের সাফল্যের পেছনে ভোরে ওঠার অভ্যেসকেই মূল চাবিকাঠি মনে করেন। এক রিসার্চে এমনটাই জানা যায় যে যারা নিয়মিত ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের মধ্যে যে কোনো পরিস্থিতি সামলে নেবার ক্ষমতা অনেক বেশি।

সকালের এই সময়টাতে আপনি হালকা ব্যয়াম করতে পারেন, খেতে পারেন পুষ্টিকর নাস্তা অথবা কিছু সময় নিয়ে শুধু সকালটাকে উপভোগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, একটি সুন্দর সকাল আপনাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।

দ্য মিরাকল মর্নিং- হ্যাল ইরাড

‘না’ বলুন, রাখুন অঙ্গীকার:
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায় কাউকে ‘না’ বলতে পারাটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এমনকি এটা আরও বেশি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। আমরা সবাই জানি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী একটি শব্দ ‘না’। কিন্তু এটি তখনই কার্যকর হবে যখন আপনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ভুগে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবেন। নতুন কোনো অনুরোধ অথবা নিমন্ত্রণগুলোকে যখন আপনি না বলছেন। এর অর্থ আপনার বর্তমানে বিদ্যমান থাকা প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রয়োজনের সময় একটি ‘না’ বলতে শেখা আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার সময় তৈরি করে দিতে পারে। 
  
না- প্রীত রেজা

নিতে শিখুন প্রশংসা:
আমরা যখন কারো কাছে প্রশংসিত হই তখন স্বাভাবিকভাবেই নিজের ভালো কাজ নিয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হই। অনেক সময় এই অতি ভালো লাগাটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আমাদের ক্যারিয়ার, আত্মবিশ্বাস এবং সম্পর্কের ওপর।

তবে উল্টোটাই বেশি ঘটে। যদি কোনো কিছুর জন্য সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন, তবে আপনার যোগ্যতার প্রতি করা প্রশংসাকে কেন ফিরিয়ে দেবেন? প্রশংসা গ্রহণ করতে শিখুন। আর সেটা শিখলেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারবেন। এমনকি সমালোচনাও তখন আপনার আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দেয়ার বদলে বাড়িয়ে দেবে হাজার গুণ।

দ্য পাওয়ার অব্‌ পজিটিভ থিংকিং- ড. নরম্যান ভিনসেন্ট পিল

শুনুন সমালোচনা, জানান মতামত: 
‘আমরা সবাই চাই এমন মানুষ যারা মতামত জানাতে পারে। যা আমাদের উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য করে।’ –বিল গেটস।
মতামত মানুষকে বিনয়ী এবং আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা আপনাকে পরিপূর্ণ করে তোলে। সমালোচনামূলক মন্তব্য শোনা বা করা কোনোটাই খুব সহজ নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে সমালোচনা ছাড়া যোগ্য হয়ে ওঠা যায় না। দিনে দিনে আপনি যত মতামত প্রকাশ করা শিখবেন তত দেখবেন আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতার ক্রমশ উন্নয়ন হচ্ছে।

ভুল স্বীকার করে বিশ্বস্ত হোন:
যখন কোনো ভুল হয় তখনকার অস্বস্তির কথা আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। অথচ আমাদের চারপাশ ঘিরেই আছে ভুলের বসবাস। এক্ষেত্রে মনের ভেতর এই অস্বস্তি কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল ভুলটাকে মেনে নিয়ে তা শুধরে নেবার ব্যবস্থা করা।
 
নিজের সফলতা এবং ব্যর্থতা দুটোর দায়িত্ব সমানভাবে গ্রহণ করেন একজন ভালো লিডার। ভুল স্বীকার করতে শেখা একটি বড় গুণ যা নেতৃত্ব প্রদান এবং মর্যাদা পেতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় এটা আপনার এবং আপনার সহকর্মীদের মাঝে বিশ্বাসের মজবুত বাঁধন তৈরি করে। 

দ্য ফাইভ ডিসফাংশনস অব এ টিম : এ লিডারশীপ ফ্যাবল- প্যাট্রিক লিঞ্চিওনি

ছোট আলাপে বড় অর্জন:
গবেষণায় দেখা গেছে অভিভূত হওয়ার মতো বেশিরভাগ চাকরি খুঁজে পাওয়া গেছে নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে এবং যার শুরুটা হয়েছিল অল্প আলাপচারিতায়। আপনি কিন্তু কখনই জানবেন না কোথায় আছে কোনো সুযোগ। হয়তো যে বিষয়টিতে আপনার একেবারেই আগ্রহ ছিল না সে বিষয়ে হয়ে উঠতে পারেন তুখোড়। শেষ পর্যন্ত দেখবেন এ বিষয়টিকে আপনি আর অপছন্দ করার সুযোগই পাচ্ছেন না। কথা বলতে পারার মতো সাধারণ একটি যোগ্যতাও কিন্তু আপনার পেশাদারী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপনি যদি সত্যিই আলাপচারিতায় বেশ পটু হয়ে থাকেন তবে শিখে নিন কীভাবে সেই আলাপে কাউকে মুগ্ধ করা যায়। অনেক চর্চার ফলে একসময় আপনি এটা উপভোগ করা শুরু করবেন।  

চর্চা করুন বক্তা হবার:
Mark Twain এর মতে, ‘পৃথিবীতে দুই ধরনের বক্তা আছে। এক বিচলিত এবং দুই মিথ্যেবাদী।’
আমরা অনেকেই সবার সামনে বক্তব্য দিতে ভয় পাই। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন gloss phobia। এক গবেষণায় জানা গেছে আমেরিকার প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ এই gloss phobia তে আক্রান্ত। তাই আপনারও যদি এই সমস্যা থেকে থাকে তবে ভাববেন আপনি একা নন, এমন সমস্যায় ভুগছে অনেকেই।

যদি কিনা আপনি পাঁচ জন অথবা পাঁচ হাজার জনের সামনে দাড়িয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন তবে আপনার ক্যারিয়ারে যুক্ত হচ্ছে অসাধারণ একটি যোগ্যতা। যখন আপনার মনে হবে সবার সামনে বক্তব্য দেয়া শিখতে আপনার সমস্যা হচ্ছে, তখন সাইকেল শেখা দিয়ে শুরু করতে পারেন। এবং আসলেই কোন কঠিন কিছু শিখতে এটা খুবই কার্যকর পদ্ধতি। যদিও এর মাধ্যমে এক রাতে আপনি TED Talk star হয়ে যাবেন না, তবে ভালো বক্তা হয়ে উঠতে পারবেন নিশ্চিত।

বক্তৃতা ও বিতর্ক শিখবেন কীভাবে- দ্বীন মোহাম্মদ সুজন

অজুহাতকে ছুটিতে পাঠান:
আমরা সবাই জানি, কোনো একটি কাজ খুব সহজ হয়ে যায় যখন আমরা তা আগামীকালের জন্য ফেলে রাখি। কিন্তু সমস্যাটা ওই ‘আগামীকাল’কে নিয়েই, কেননা তা পরদিন, তার পরদিন করে আর কখনই ফিরে আসে না। আর এভাবেই দিনে দিনে আমাদের কাজের গতি কমে যেতে থাকে। বেশিরভাগ সফল মানুষ অজুহাত দেখানো বন্ধ করে জীবন থেকে আগামীকাল কথাটিকে সম্পূর্ণ বিলীন করে দিয়েছে। যা আমরা এখনো করে উঠতে পারিনি।

কাজেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঢিলেমি থেকে মুক্তি পেতে শুরু করুন এই মুহূর্ত থেকেই। আগামীকালের জন্য যে কাজগুলো ফেলে রেখেছিলেন তার একটি রুটিন লিখে ফেলুন। নিজেকে কাজের জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুত করুন। আর কাজটি সম্পূর্ণ হলে আপনার যে ভালো লাগার অনুভূতিটি হবে মনে মনে তা কল্পনা করুন।
  

টাইম ম্যানেজমেন্ট- ব্রায়ান ট্রেসি

চলুন এগিয়ে যাই:
যখন আমরা নিজেদের প্রতি মনোযোগ দিতে শুরু করি এবং উন্নয়ন ঘটাতে থাকি তখন একই সাথে অতি সচেতন হয়ে উঠি সে সকল মানুষ এবং বিষয়ের প্রতি যা আমাদের ফিরিয়ে এনেছিল। এটা অনেকটা খারাপ সম্পর্ক, নিখুঁত হবার তীব্র ইচ্ছা, অনিরাপত্তা, রাত জাগা এবং সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মতোই এক ধরনের আসক্তি। যখন এই অতি সচেতনতা কমে আসে তখনই আমরা যুক্ত হতে পারি উৎপাদনশীল এবং ইতিবাচক কাজে।
   

সাকসেস থ্রো এ পজেটিভ মেন্টাল এটিটিউট- নেপোলিয়ন হিল, ডব্লিউ. ক্লিমেন্ট স্টোন

মাইন্ডসেট: চেঞ্জিং দ্য ওয়ে ইউ থিংক টু ফুলফিল ইয়োর পটেনশিয়াল-ক্যারল এস ডিউইক

মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় - dainik shiksha মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় please click here to view dainikshiksha website