হতাশ হচ্ছেন শিক্ষকরা - মতামত - Dainikshiksha

হতাশ হচ্ছেন শিক্ষকরা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সরকারি চাকরির নিয়োগ-পদোন্নতি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হয়। চাকরির শেষ সময়ে এসে সবাই অন্তত মানসিক স্বস্তি নিয়ে কর্মজীবনের ইতি টানতে চান। কিন্তু সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এক হাজার ১৩ জন শিক্ষক তাঁদের চাকরিজীবনের শেষ সময়ে এসে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিসিএস ১৪তম ক্যাডারের এই শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক পদে ১৩ বছর কাজ করলেও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদান করা এক হাজার ৮০০ জনের মধ্যে ৮০০ জন অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেও বাকিরা তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করা দরকার।

শিক্ষকতা অন্য দশটি পেশার মতো নয়। এই পেশায় যাঁরা আসবেন, তাঁদের যে ব্রত নিয়ে আসতে হয়, তা অন্য পেশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক গড়ে তোলার দায়িত্ব তাঁদের। কিন্তু এই শিক্ষকদেরই যদি পদ ও পদোন্নতি নিয়ে হতাশায় ভুগতে হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে শ্রেণিকক্ষেও। শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যেখানে প্রতিটি পদের জন্য তাঁদের সুনির্দিষ্ট শর্ত; যেমন—প্রকাশনা, উচ্চতর ডিগ্রি ইত্যাদি থাকা প্রয়োজন। শুধু পদ থাকা সাপেক্ষে পদোন্নতি—এটা পদোন্নতির কোনো মানদণ্ড হতে পারে না। কোনো বিষয়ে পদ থাকলেই পদোন্নতি হবে, অন্য বিষয়ে পদ সৃষ্টির জন্য বসে থাকা কেন? অন্যান্য ক্যাডারে, বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারে দেখা যায়, পদোন্নতি দিয়ে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখা হয়। শিক্ষকদের জন্য পদ সৃষ্টির আগে এ ধরনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা দরকার। এ জন্য খুব বেশি কষ্টও করতে হবে না।

শুধু বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভার একটি সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন কাজ নয় বলেই মনে করা যেতে পারে। কারণ পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত এই শিক্ষকদের অনেকেই শিক্ষকতা পেশায় ২৫ বছর পেরিয়ে এসে এখন চতুর্থ গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইন-সিটু বা নিজ নিজ পদে রেখেই তাঁদের পদোন্নতি দিলে তাঁরা যে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন, তা নয়। শিক্ষকরা পদোন্নতি পেলে তাতে আর্থিক কোনো ক্ষতি হবে না। কাজেই বিষয়টি নিয়ে ভাবা যেতে পারে।

আমরা আশা করব, হতাশা থেকে মুক্তি দিতে বঞ্চিত শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ডিপিএড শিক্ষকদের বেতন জটিলতার সমাধান শিগগিরই - dainik shiksha ডিপিএড শিক্ষকদের বেতন জটিলতার সমাধান শিগগিরই স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামী মিজান গ্রেফতার - dainik shiksha স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামী মিজান গ্রেফতার উচ্চতর গ্রেড পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কমবে না - dainik shiksha উচ্চতর গ্রেড পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কমবে না ১ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ১ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন এমফিল-পিএইচডি জালিয়াতিতে এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা - dainik shiksha এমফিল-পিএইচডি জালিয়াতিতে এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির মেয়াদ বৃদ্ধি - dainik shiksha ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির মেয়াদ বৃদ্ধি অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের বাইরে ঘোরাঘুরিতে বিরক্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের বাইরে ঘোরাঘুরিতে বিরক্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় please click here to view dainikshiksha website