হাওরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে আসছে বিশেষ প্রকল্প - বিবিধ - Dainikshiksha

হাওরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে আসছে বিশেষ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক |

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ও একাডেমিক ভবনের অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাওর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানো এবং শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে মানবসম্পদে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খরচ হবে ৪০১ কোটি ২৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র দৈনিক শিক্ষাকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর মধ্যেই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদ্য অবসরউত্তর ছুটিতে যাওয়া আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, হাওরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। বৈষম্য দূর করতে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার বড় হাওরটি অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন ও নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ৯ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই বিশাল এলাকার জনগণ বাংলাদেশের অন্যান্য সকল এলাকা থেকে পিছিয়ে। অষ্টগ্রামের ৭টি ইউনিয়ন, ইটনার ৮টি ইউনিয়ন, মিঠামইনের ৮টি ইউনিয়ন এবং নিকলীর ৮টি ইউনিয়নে বসবাসরত জনগণের শিক্ষার হার যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

অথচ বাংলাদেশের শিক্ষিতের হার ৭১ শতাংশ। শিক্ষার আনুষঙ্গিক সুবিধাদি কম থাকায় এই এলাকার শিক্ষার হার কমার অন্যতম কারণ। এজন্য প্রকল্পে কিশোরগঞ্জ জেলার ৪টি উপজেলার ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, প্রকল্পভুক্ত ৪টি উপজেলায় মোট ৪৭টি স্কুল-কলেজ রয়েছে। ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টি অর্থাৎ ৫০ শতাংশের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পভুক্ত ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৮টি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১৭টি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতার কোনো তথ্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) দেওয়া হয়নি। দেশব্যাপী ৬ হাজার ২৫০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ শীর্ষক ২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১০টি বিদ্যালয়ও এসব প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যক্ষদের জন্য ৪টি ২ তলা ভিতবিশিষ্ট ২ তলা এবং প্রধান শিক্ষকদের জন্য ৪টি এক তলা ভিতবিশিষ্ট একতলা বাসভবন তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

একজন কর্মকর্তাকে অস্থায়ীভাবে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে নিয়োগ করা হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে। প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পরিপত্র অনুসারে ৫০ কোটি টাকার অধিক খরচের প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিধান রয়েছে। এজন্য একজন পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং এ ধরনের প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রকল্প কার্যালয়ের ঢাকার পরিবর্তে প্রকল্প এলাকায় স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, হোস্টেল, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার এবং আইসিটি ল্যাব এর জন্য আসবাবপত্র সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আইসিটি ল্যাব এর জন্য আইসিটি উপকরণ সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন এবং নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পসমূহের আওতায় এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত ১০টি বিদ্যালয়ে প্রতিটিতে ৯টি শ্রেণিকক্ষে জন্য ১৫০টি জোড়া করে হাই-লো বেঞ্চ সংস্থান রয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ - dainik shiksha দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি - dainik shiksha ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে - dainik shiksha এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী দাখিলের ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha দাখিলের ফল জানবেন যেভাবে ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব - dainik shiksha ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানবেন যেভাবে এসএসসি-দাখিল ভোকেশনালের ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha এসএসসি-দাখিল ভোকেশনালের ফল জানবেন যেভাবে নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ - dainik shiksha নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা - dainik shiksha ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website