২৫ বছরেও অধ্যাপক হতে পারছেন না ১০১৩ শিক্ষক - বিসিএস - Dainikshiksha

২৫ বছরেও অধ্যাপক হতে পারছেন না ১০১৩ শিক্ষক

শরীফুল আলম সুমন |

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষকরা যোগদান করেছেন ১৯৯৩ সালে। এরই মধ্যে তাঁরা ২৫ বছর চাকরিজীবন পার করেছেন। চার-পাঁচ বছর পর থেকে অনেকেই অবসরে যাওয়া শুরু করবেন। এত দিনেও এই ব্যাচের এক হাজার ১৩ জন শিক্ষক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাননি। অথচ ২০০৬ সাল থেকে বেশির ভাগ শিক্ষক পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করেছেন। এ নিয়ে এই শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানাউল্যাহ বলেন, ‘আমরা অনেকেই ২০২৪ সালের শুরুতেই অবসরে যাো। ১৩ বছর ধরে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করছি। আমাদের পদোন্নতি দিলে সরকারের এক টাকাও অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে না। তবে চাকরিজীবনের শেষ সময়ে আমাদের পদোন্নতি পাওয়াটা অনেক বড় সম্মানের। অন্য কোনো উপায় না থাকলে ইনসিটু অথবা সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে হলেও আমরা পদোন্নতি চাই।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে কর্মরত কারিকুলাম স্পেশালিস্ট (সেসিপ) সামীউল বাশির বলেন, ‘১৪তম ব্যাচে শিক্ষা ক্যাডারে আমরা এক হাজার ৮০০ জন যোগদান করেছিলাম। এর মধ্যে ৮০০ জন পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। বাংলা বিষয়ের বেশির ভাগই অধ্যাপক হয়ে গেছেন। অথচ আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি পাচ্ছি না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ শূন্য নেই অথবা সৃষ্ট পদ না থাকায় সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পদবঞ্চনার শিকার হতে হয়। এমনকি অনেকেই অধ্যাপক পদে পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে চলে যেতে বাধ্য হন। অথচ পদোন্নতি না হওয়া শিক্ষকদের ‘ইনসিটু’ (স্ব স্ব পদে থেকে স্ববেতনে পদোন্নতি) অথবা সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রচলিত বিধানেই পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচটি অনেক বড়। বড় ব্যাচ হলে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। একটি উপায় বের করার চেষ্টা করছি। সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা অনেক বড় ব্যাপার। আর ইনসিটু হিসেবে পদোন্নতি দিতে গেলেও বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভার (ডিপিসি) সিদ্ধান্ত লাগবে। আর এই কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রয়েছে। ইনসিটু হিসেবে পদোন্নতি দিতে গেলে সকলের একমত হতে হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি না পাওয়া ১৪তম ব্যাচের এই শিক্ষকদের সবাই সহযোগী অধ্যাপক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৫ জন আছেন দর্শন বিষয়ের। এরপর অর্থনীতি বিষয়ের ৮১ জন, ইতিহাসের ৮০ জন, ইংরেজির ৭৯ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৭৮ জন, উদ্ভিদবিদ্যার ৭৮ জন। এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ৭২ জন, আরবির আটজন, ইসলামী শিক্ষার ২৭ জন, কৃষিবিজ্ঞানের একজন, গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছয়জন, গণিতের ৫৯ জন, পদার্থবিদ্যার ৪৯ জন, পরিসংখ্যানের দুজন, প্রাণিবিদ্যার ৬৩ জন, বাংলার চারজন, ব্যবস্থাপনার ৬৯ জন, ভূগোলে ৯ জন, মনোবিজ্ঞানে চারজন, রসায়নের ৪২ জন, সমাজকল্যাণের ২৯ জন, সমাজবিজ্ঞানের ১৩ জন, সংস্কৃতের একজন, হিসাববিজ্ঞানের ৬৩ জন, বিজ্ঞানের একজন, শিক্ষার ৯ জন ও গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সেলিংয়ের একজন শিক্ষক অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

জানা যায়, ১৪তম ব্যাচের ২৭টি বিষয়ের এই শিক্ষকদের চাকরি এরই মধ্যে ২৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় বেশির ভাগ শিক্ষকই চতুর্থ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেও এসব শিক্ষক চতুর্থ গ্রেডেই বেতন পাবেন। ফলে সরকার এই শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিলেও কোনো আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন পড়বে না।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকেই পদোন্নতিবঞ্চিত রাখতে চাই না। পদোন্নতি দিতে পারলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে। ১৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলাপ করেছি। মাউশি ও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আশা করি কোনো একটা সমাধান বের হবে।’ তিনি জানান, এরই মধ্যে সরকারি কলেজগুলোতে নতুন করে সাড়ে ১২ হাজার পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ফাইলটি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এই পদগুলো সৃষ্টি হলে পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা আর থাকবে না।

জানা যায়, পদ শূন্য না থাকাজনিত সমস্যা সরকারের অন্যান্য ক্যাডারেও রয়েছে। এরই মধ্যে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ার নজির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ - dainik shiksha ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ বৈশাখী ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট কার্যকর জুলাই থেকেই - dainik shiksha বৈশাখী ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট কার্যকর জুলাই থেকেই সরকারি হলো আরও ৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় - dainik shiksha সরকারি হলো আরও ৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা - dainik shiksha ২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিক্রি করতেন তারা অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha অকৃতকার্য ছাত্রীকে ফের পরীক্ষায় বসতে দেয়ার নির্দেশ আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু - dainik shiksha আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি - dainik shiksha নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! - dainik shiksha শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান - dainik shiksha একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website