৩ শিক্ষার্থীকে পাঠদানে ১৬ শিক্ষকের এমপিও ভোগ! - মাদরাসা - দৈনিকশিক্ষা

৩ শিক্ষার্থীকে পাঠদানে ১৬ শিক্ষকের এমপিও ভোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক |

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল কে এইচ ডি দাখিল মাদরাসার হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এমপিও ভোগ করছেন তারা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়ে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীর দেখা পাওয়া গেছে। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য হাজিরা খাতাও ব্যবহার করা হয় না। মোট ১৫টি বেঞ্চ সর্বস্ব মাদরাসাটিতে পাঠদানের অযুহাতে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী মাসে সরকারের লক্ষাধিক টাকা এমপিও বাবদ তুলে নিচ্ছেন। 

আর মাদরাসার সুপার আব্দুল মান্নানের নিয়োগও অবৈধ। সরকারি বই বিতরণেও অনিয়ম হয়েছে এ মাদরাসায়। নির্বাচন ছাড়াই কমিটি গঠন করে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

তাই, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এমপিও থেকে কেন নাম কাটা হবে না এবং ম্যানেজিং কমিটি বাতিলের সুপারিশ কেন করা হবে না তা জানতে রানীশিমুল কে এইচ ডি দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুল মান্নানকে শোকজ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, রানীশিমুল কে এইচ ডি দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসলে তা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় শেরপুরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে। অভিযোগ তদন্ত করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি অধিদপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায় সূত্র।

সূত্র আরও জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তিনি যেইদিন প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন গিয়েছেন সেই দিন শুধুমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫ টি বেঞ্চ। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত হাজিরা খাতা ব্যবহার করা হয় না। শিক্ষকরা না পড়িয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক সরকারিভাবে টাকা বেতন বাবদ তুলে নিচ্ছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের জন্য ২৮০ সেট বই নেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৩৮ সেট। বাকি বই মাদরাসায় জমিয়ে রাখা হয়েছে। এতে, বিপুল টাকার অপচয় হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সুপার আব্দুল মান্নান ভটপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ী শাখার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবৈধভাবে সেই পথের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে গজারীপুর ভারুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার পদে ও পরে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে রানীশিমুল কে এইচ ডি দাখিল মাদরাসার সুপার পদে যোগদান করেন। 

সরকারি ২৮০ সেট বই নেয়া হলেও ৩৮ সেট বই বিতরণ করা হয়েছে। নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা।

তাই, নির্বাচন করে সরকারি টাকা অপচয় রোধ, নতুন কমিটি গঠন এবং সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র দৈনিক শিক্ষা ডটকমকে জানায়, এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কেন এমপিও থেকে নাম কাটা হবে না এবং কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না তা জানতে চেয়ে প্রাথমিকভাবে মাদরাসা সুপারকে শোকজ করা হয়েছে। গতকাল ৭ জুলাই সুপার আব্দুল মান্নানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২২ জলাইয়ের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে সুপারকে। শোকজের জবাব এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের - dainik shiksha জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি - dainik shiksha জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website