৪৯তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও আমাদের অর্জন - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

৪৯তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও আমাদের অর্জন

প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন |

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গভীর রাতে অপারেশন সার্চলাইট নামে পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনগণের উপর পরিকল্পিত গণহত্যা চালায়। নিরস্ত্র বাঙালিরা তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। ২২ জানুয়ারি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিবছর ২৬ মার্চ দিনটিকে বাংলাদেশে স্বধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলাকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করে। প্রায় দু’শত বছর শাসন ও শোষণের পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষের জনগণ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময়ে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখণ্ড ‘পশ্চিমবঙ্গ’ ভারতের এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখ- ‘পূর্ববঙ্গ’ পাকিস্তানের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭ এর পর ‘পূর্ববঙ্গ’ পাকিস্তান অধিরাজ্যে থাকাকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে পরিচিতি পায় যা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বজায় ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে দেয়। এই পূর্ব পাকিস্তানই ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ নামক একটি নতুন রাষ্ট্রের রূপ লাভ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পুনঃপৌনিক সামরিক অভ্যুত্থান এদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বারংবার ব্যাহত করেছে। গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার ধারাবাহিকতা অদ্যাবধি বর্তমান। সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা-আন্দোলন, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সামরিক সরকারের পতন ঘটে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নের্তৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের সরকার গঠন ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংসদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। এ প্রেক্ষিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে দেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতির ডাক দেন। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। একই সাথে বঙ্গবন্ধু শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। বঙ্গবন্ধুর নের্তৃত্বে বাঙালি জাতির এই জাগরণে ভীত ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর আসে ২৫ মার্চ, কালরাত্রি। সেই রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সেনারা নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে, শুরু করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকা-। গণহত্যা থেকে নিস্তার পেতে প্রায় ১ কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট ৩০ লাখ লোক শহীদ, প্রায় ৮ লাখ শিশু শরণার্থী ক্যাম্পে রোগে ও না খেয়ে মারা যায় এবং প্রায় দুই লাখ নারী পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে আটক করে কারাগারে বন্দি করে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হবার আগে রাত ১২টার পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে চট্টগ্রামে অবস্থিত তৎকালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে প্রচার করার জন্য পাঠিয়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরূদ্ধে লড়াই করে তাদের পরাভূত করে। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর তারিখে মিত্রবাহিনী প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা’র কাছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। এরই মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা এবং অবসান ঘটে পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের শোষণ ও বর্বরতম শাসনের ইতিহাস। 

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে। দেশে ফিরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শুরু করেন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজ। জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র’ এ চারটি মূলনীতি বিবেচনায় নিয়ে রচনা করেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধান। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন। বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করার পর বঙ্গবন্ধু ওআইসি, জাতিসংঘ ও জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা চান। এমনকি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সুপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। দেশ যখন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে আরেকটি আঘাত। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ও কিছুসংখ্যক বিপথগামী সৈনিকের বুলেটের আঘাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। পরবর্তী কয়েকটি মাসে চলতে থাকে একাধিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা-অভ্যুত্থান। শেখ মুজিব হত্যাকা-ের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন এবং ৯ জুলাই ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে তার বৈধতা দেয়া হয়। ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে চট্টগ্রাম সফরের সময় এক সামরিক অভ্যুত্থানে জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হন। অতপর ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৪ তারিখে এক রক্তপাতহীন অভ্যুথানের মাধ্যমে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল করেন।

১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিশিষ্ট পরমাণু-বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিঞার সঙ্গে পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে জীবনে বেঁচে যান। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা ত্যাগ করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচিত সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ হতে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক মহাজোট সরকার ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরপর তৃতীয়বার ক্ষমতায় থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তার অবস্থান সমুন্নত রাখছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীতে অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলছে।
 
২০১১ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত আদমশুমারি অনুসারে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৮ম জনবহুল দেশ, যদিও আয়তন বিবেচনায় দেশটির অবস্থান বিশ্বের ৯৪তম। নিম্ন আয়ের এই দেশটির প্রধান সমস্যা পরিব্যাপ্ত দারিদ্র্য। এতদসত্ত্বেও গত দুই দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে, যেমন- জন্ম নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অভূতপূর্ব সফলতা; সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকা-ের ফলে দারিদ্র্য-বিমোচন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি; গত দু’দশকে মানুষের মাথাপিছু খাদ্যগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সুষম খাদ্যাভাস গড়ে ওঠা; অকাল মৃত্যুর হার হ্রাস পাওয়া; জনগণের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হওয়া; জন্মকালে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পাওয়া; চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থাপনায় প্রভূত উন্নতি; শিক্ষার হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি; স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান কর্মসূচির মাধ্যমে নারীশিক্ষার অভূতপূর্ব অগ্রগতি; সমাজের সকলক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন; বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা বহুলাংশে ভর্তুকিপুষ্ট, তাই প্রতি শিক্ষা-বৎসরের প্রথম দিনেই ১ম-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন ক্লাসের বই তুলে দেয়ার ঐতিহ্য প্রবর্তিত হওয়া; গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রবর্তন; বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবণতা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি হওয়ায় বর্তমানে ৪৯টি পাবলিক, ১০৭টি প্রাইভেট এবং দুটো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন; টেকনিক্যাল ও বিজ্ঞান - প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে গুরুত্বারোপ; উচ্চশিক্ষা খাতে প্রাইভেট উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার ফলে পৃথিবীর বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্বল্পব্যয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে।  এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের দৃষ্টান্তমূলক অগ্রগতি; সংবাদ-মাধ্যম স্বাধীনভাবে কর্ম সম্পাদন এবং বাংলাদেশে প্রায় ২০০টি দৈনিক সংবাদপত্র ও ১৮০০ এর বেশি সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকা প্রকাশ; সরকারি টেলিভিশন সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য উপগ্রহভিত্তিক টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল সম্প্রচার; সফলভাবে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ; এক লাখ আঠার হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা সম্পদ আহরণে রায় অর্জন; নিজ অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ; জিডিপি বৃদ্ধি; পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা; সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন; কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ; মেট্রো রেইল স্থাপন; সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান; রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ; পার্বত্য শান্তি চুক্তি; অসংখ্য অর্থনৈতিক জোন স্থাপন; রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন; উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন; যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণ; হাতিরঝিল প্রকল্প স্থাপন; বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ ১৮ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মাধমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তা প্রদান; প্রতি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন; একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন; কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান; ২০২০ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন; যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা; বঙ্গবন্ধু-হত্যার বিচার কার্য পরিচালনা; সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের মধ্যে আমার গ্রাম-আমার শহর প্রকল্প; কো-অপারেটিভ পদ্ধতির মাধ্যমে আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বনভূমি সম্প্রসারণ; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আধুুনিক বহুতল বিশিষ্ট স্থায়ী আবাসন-ব্যবস্থা; স্কুল, কলেজ-মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির-এর ভৌত সুবিধাদির উন্নয়ন; শিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিতকরণ; নিরাপদ নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ; বায়ু ও নদীদূষণ রোধসহ সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন; ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন; সচল ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে পুরো যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস; সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; ডিজিটালাইজড যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ; বিশ্বমানের নাগরিক তৈরির জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো; জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল নাগরিককে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলা;  ২০৩০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন; ২০৪১ খ্রিষ্টাব্দের উন্নত বিশ্বের কাতারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ; ২১০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পরিবর্তিত  বৈশ্ব্যিক উন্নয়নের সঙ্গে অভিযোজনের জন্য জনগণকে সচেতন করে তোলা ইত্যাদি। 

বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নির্মূলকরণ। বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে যাবার আশঙ্কা ইত্যাদি সত্ত্বেও এই সুজলা সুফলা শস্যের ভাণ্ডার বাংলাদেশকে দ্রুততম সময়ে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন শুধু দেশপ্রেম, সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন : পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন), জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা।

কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে এসএসসি পরীক্ষার ফল জানা যাবে রোববার ১২টা থেকে - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষার ফল জানা যাবে রোববার ১২টা থেকে ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা - dainik shiksha ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৫২৩ - dainik shiksha করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৫২৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে দাখিলের ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন যেভাবে - dainik shiksha দাখিলের ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন যেভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website