৮ ক্যাসিনোয় বছরে লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকা - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

৮ ক্যাসিনোয় বছরে লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে র‌্যাবের প্রথম অভিযান ছিল মতিঝিলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে। যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া পরিচালিত ওই ক্লাবের জমা খাতার হিসাবে গত ১১ সেপ্টেম্বর ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মুনাফা হয় বলে তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সে হিসাবে ক্যাসিনো থেকে ক্লাবটির বছরে লাভের পরিমাণ ৪৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। র‌্যাব-পুলিশ অভিযানে মতিঝিল ও আশপাশ এলাকার ৬টি ক্লাবে বছরান্তে এভাবে গড় হিসাবে লাভের পরিমাণ ২৯০ কোটি টাকা। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হাসান আল জাভেদ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিজাত এলাকা বনানীর ‘গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ’ ও ধানমণ্ডির ‘কলাবাগান ক্রীড়া চক্র’ পরিচালিত দুটি ক্যাসিনোয় বছরে লাভ হয় অন্তত ২০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে হিসাবে ঢাকায় অভিযান চালানো এই ৮ ক্লাবের ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর থেকে বছরে আয় হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এটি শুধু ক্লাবের আয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই ঈদ, ইংরেজি নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, পূজা মৌসুমকেন্দ্রিক এই লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়াত কয়েকগুণ। ক্যাসিনোগুলো যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছে গড়ে তার ৫ গুণ লেনদেন হয়েছে জুয়াড়ি-ক্লাব পরিচালকদের মাঝে। সে হিসাবে বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ক্যাসিনোগুলোয়। পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘসময় ধরে এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও গোপন লেনদেনের কারণে সবাই এতদিন নিশ্চুপ ছিলেন।

র‌্যাবের অভিযানের পর ইয়ংমেন্স ক্লাব ঘুরে হিসাবের খাতা ঘেঁটে দেখা গেছে প্রতিদিনই ওই ক্লাবের লাভের পরিমাণ ছিল ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। মতিঝিলের আরামবাগ ও ভিক্টোরিয়া ক্লাবের লেনদেনের পরিমাণ ছিল আরও বেশি।

আরামবাগ ক্লাবে জুয়াড়িদের তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা ব্যাংকের একজন পরিচালকের নাম। একই তালিকায় বাবু নামে ঢাকা উত্তরের ভিআইপি চিহ্নিত করে এক ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে। মাসুম নামে এক ডিলার ওই পরিচালক ও ভিআইপি গ্রাহকদের (জুয়াড়ি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। ভিআইপিরা ক্যাসিনোয় অনিয়মিত হলে তাদের ফোন দিয়ে নানা ধরনের অফার দেখিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানানো হতো। গতকাল পত্রিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ‘এ’ আদ্যাক্ষরের ওই ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে। তবে এ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে আরামবাগ ক্লাবের কথা বলতেই তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বাবু নামে ঢাকা উত্তরের ভিআইপি নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বলেছেন, তিনি কখনো ক্যাসিনো-জুয়ার আসরে যেতেন না। কীভাবে নামটি এসেছে তাও তার জানা নেই। আর ভিআইপি জুয়াড়িদের সঙ্গে যোগাযোগকারী মাসুমের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীদের মতো বনানীর গোল্ডেন বাংলাদেশ নামক ক্যাসিনোয় আরও হাই প্রোফাইলের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই জুয়াড়ি হিসেবে নিয়মিত সন্ধ্যার পর যাতায়াত করতেন। চলত মাদক ও নারীসঙ্গ উপভোগ। এসব ক্লাবে জুয়াড়িরা মাঝে মধ্যে লাভের মুখ দেখলেও অনেকে বিশাল অর্থের বাজি ধরে ফতুর হয়েছেন। তবে সবকটি ক্লাবে প্রতিনিয়ত ক্যাসিনো পরিচালনাকারীদের লাভের অন্তত পাঁচগুণ লেনদেন হয়েছে। লভ্যাংশের এ অর্থের একটা অংশে পুলিশ-প্রশাসন, প্রভাবশালীদের ম্যানেজের পর বাকিটা বিদেশে পাচার হয়ে যেত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যাসিনোর অর্থ বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পাচার হতো। মূলত ঢাকার ক্যাসিনোগুলোর আয়ের অর্থ তিনভাবে পাচার হচ্ছিল। প্রথমত ক্যাসিনোগুলোয় কর্মরত নেপালি, চাইনিজ নাগরিকরা তাদের বেতন ও অংশীদারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজ দেশে পাচার করতেন। দ্বিতীয় হুন্ডির মাধ্যমে পাচার এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে পাচার।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপাচারের কৌশল হিসেবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (বর্তমানে কাস্টমস ও ভ্যাটের-পশ্চিম) কমিশনার ড. মইনুল খান বলেন, জাল-জালিয়াতি, পরিমাণের চেয়ে সংখ্যা বা পরিমাণ কম বেশি দেখিয়ে বিদেশে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচারের ঘটনা বাংলাদেশে বেশি ঘটে। তিনি বলেন, হুন্ডির মাধ্যমে বেশি পরিমাণ অর্থপাচার করা যায় না। তাই ব্যাংকিং চ্যানেলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থপাচারে ঘটনাগুলো বিভিন্ন সময়ে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাসিনোর আয়ের অর্থপাচার করা হতো বিদেশে অবস্থানকারী সরকারের তালিকাভুক্ত একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছেও। আবার ক্যাসিনোর টাকায় অনেকে বিদেশে বাড়ি কিনেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, শুরুতে পুলিশ এসব মামলার তদন্ত করলেও এখন তদন্তকারী সংস্থায় হস্তান্তর হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আয় ও ব্যয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে উঠে এসেছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

তদন্তকারী সূত্র জানায়, ঢাকার ক্যাসিনোগুলোয় অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করতেন ৯ নেপালি নাগরিক। ক্যাসিনো পরিচালনায় অভিজ্ঞ এসব নেপালি বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। ক্যাসিনোয় জুয়াড়িদের ভিড় জমানো ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে এরা টেকনিশিয়ানের পাশাপাশি পরামর্শকের কাজ করতেন। ভ্রমণভিসায় বাংলাদেশে এসে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে তারা ক্যাসিনো পরিচালনা ও অংশীদারত্বের লাভ ও বেতনের পুরো অর্থ নিজ দেশে পাচার করত। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের টাকা বিদেশে পাচারেও এরা সহযোগী।

র‌্যাব আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সবকটি মামলা গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঢাবির ক ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল স্থগিত - dainik shiksha ঢাবির ক ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল স্থগিত এমপিওভুক্তিতে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই : শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও) - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই : শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও) প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন: ফের প্রস্তাব যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন: ফের প্রস্তাব যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর যেসব যুক্তি খণ্ডন করতে পারেননি ননএমপিও শিক্ষক নেতারা - dainik shiksha শিক্ষামন্ত্রীর যেসব যুক্তি খণ্ডন করতে পারেননি ননএমপিও শিক্ষক নেতারা ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ওপর দায় চাপালেন এমপি বুবলী - dainik shiksha ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ওপর দায় চাপালেন এমপি বুবলী ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website