এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা - এইচএসসি/আলিম - দৈনিকশিক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে এখনো অনিশ্চিত শিক্ষা প্রশাসন। এখনো পর্যন্ত এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আর পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পরীক্ষার্থী শিক্ষক, অভিভাবকরা।

করোনাভাইরাস মহামারির জন্য গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তিত সময় পার করছে পরীক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তার কমতি নেই অভিভাবকদের।

এদিকে, পরীক্ষা নেয়ার সব সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলা হলেও সব গুছিয়ে ফেলা হচ্ছে। গত মার্চেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠিয়ে দিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলোর। তবে, পরীক্ষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সবকিছু গুছিয়ে রাখতে বলা হচ্ছে কেন্দ্রগুলোকে। বন্যা বৃষ্টি বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে নজর রাখতে কেন্দ্রগুলোকে বলছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে প্রমিতি অরুনিমা। পরীক্ষা নিয়ে সে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, প্রায় তিন মাস আগে আমাদের পরীক্ষা হবার কথা ছিল। কিন্তু মহামারির কারণে সবটাই পিছিয়ে যায়। যত দিন যাচ্ছে আমাদের পড়াশোনার অবস্থা  আরও খারাপ হচ্ছে। আগে প্রস্তুতি যত ভালো ছিল এখন বলা যায় প্রস্তুতি ততটাই খারাপ হচ্ছে। 

এই পরীক্ষার্থীর মা শাহীনা জাবিন বাবলি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, মেয়ের প্রস্তুতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। প্রস্তুতি ধরে রাখতে অনলাইনেই কোচিং চলছে। তবে, এ পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি বা আগ্রহ দুই দিকে কিছুটা ভাটা পড়েছে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতিও চলছে। 

যদিও অসচ্ছল পরিবারগুলোর পরীক্ষার্থীদের জন্য এসব প্রস্তুতিমূলক অনলাইন ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই, দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন এসব পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

এদিকে পরীক্ষা কবে হবে, সে বিষয়ে কিছুই জানে না শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, গত মার্চেই পরীক্ষা নেয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করে ফেলেছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর। গোপনীয় কাগজপত্রসহ পরীক্ষা গ্রহণের নানা উপকরণ তখনই কেন্দ্রগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারি সব ভেস্তে দিলো। পরীক্ষা কবে নেয়া হবে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই, আমরা কেন্দ্রগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে বলেছি, যাতে সেগুলো নষ্ট না হয়ে যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, স্কুল কলেজ খোলার আগে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনাই মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে, স্কুল কলেজ খোলার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সংশোধিত সূচি প্রকাশ করা হবে। সূচি প্রকাশের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেয়া হতে পারে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কেউ আন্দাজ করতে পারছি না কবে নাগাদ আমরা কতটা ঝুঁকিমুক্ত হতে পারবো, যতটা ঝুঁকিমুক্ত হলে এত বড় আকারের পাবলিক পরীক্ষার মত একটি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে। কারণ এমন একটি পরীক্ষার সাথে পরীক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য , শিক্ষক , আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত। একটি পরীক্ষা নিতে গিয়ে আমরা পরীক্ষার সাথে জড়িত সবাইকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারি না। এ মুহূর্তে বলতে পারছি না যে এইচএসসি পরীক্ষা কবে নাগাদ নেয়া সম্ভব। যখন এত বড় একটি পরীক্ষা নেয়ার মতো স্বাস্থ্য ঝুকিমুক্ত অবস্থা তৈরি হবে বা পরিবেশ তৈরি হবে আমরা তখনই এ পরীক্ষা নিতে পারবো।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে ভুল সংশোধনের সুযোগ - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে ভুল সংশোধনের সুযোগ আসছে বছর থেকেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রোগ্রামিং - dainik shiksha আসছে বছর থেকেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রোগ্রামিং ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন ইবতেদায়ি ও দাখিল শিক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha ইবতেদায়ি ও দাখিল শিক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব মাদরাসা বোর্ডের - dainik shiksha ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব মাদরাসা বোর্ডের প্রতি স্কুলের তিন শিক্ষককে করতে হবে কৈশোরকালীন পুষ্টি প্রশিক্ষণ - dainik shiksha প্রতি স্কুলের তিন শিক্ষককে করতে হবে কৈশোরকালীন পুষ্টি প্রশিক্ষণ please click here to view dainikshiksha website