এক উপসচিবের আর্তি - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

এক উপসচিবের আর্তি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের অধিকার। সেই অধিকার যখন লঙ্ঘিত হয় তখন তারা ব্যক্তিগতভাবে তদবির করান। সেটাও উপেক্ষিত হলে তাদের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। তখন কর্মকর্তা হয়েও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে তারা মানবিকতাকে উসকে দেন।

তাই ঘটেছে ২১তম প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলীর বেলায়। দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে তিনি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তার বিপর্যয়ের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে পদোন্নতির রিভিউ আবেদনে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘উপসচিব পদে পদোন্নতি দিলে সমাজে কোনোমতে ইজ্জত রক্ষা হতো।’ বুধবার (২৩ নভেম্বর) দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আশরাফুল হক।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায় ২১তম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দেয় ২০০৬ সালে। এই ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। এই ব্যাচের ১৩২ জন কর্মকর্তাকে গত ২ নভেম্বর যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 

এসব পদোন্নতির ফাঁকে ২০১৭ সালে ২২তম ব্যাচ, ২০১৮ সালে ২৪তম ও ২৫তম ব্যাচ, ২০২১ সালে ২৭তম ব্যাচ এবং গত ১ নভেম্বর ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তারা উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে যান।

নিজের ব্যাচের সঙ্গে পদোন্নতি না হলে জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গেও পদোন্নতি হয়। বঞ্চিত হিসেবে ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ২২, ২৪, ২৫, ২৭ বা ২৮ ব্যাচের সঙ্গেও পদোন্নতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এভাবে একের পর এক পদোন্নতি-বঞ্চিত হয়ে লিয়াকত আলী এখন সিনিয়র-জুনিয়র সহকর্মী, বাড়িতে সহধর্মিণী, পারিবারিক আড্ডায় স্বজন এবং সামাজিকভাবে পরিচিতজনের কাছে সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন।

২১তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের মেধা তালিকায় লিয়াকত আলীর অবস্থান ১২তম। এখন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক। সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) আওতায় লিয়াকত আলী কোনো পদোন্নতি পাননি।

লিয়াকত আলীর ভাগ্যে কোনো পদোন্নতি না থাকলেও কোনোরকমে এক দফা পদোন্নতি পেয়েছিলেন একই ব্যাচের কর্মকর্তা অভিজিৎ রায়। প্রথম দফা বাধা পার হতে পারলেও দ্বিতীয় দফায় এসে আটকে যান তিনি। অভিজিৎ দাবি করেছেন, পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করার পরও তিনি পদোন্নতি পাননি। তার বাবা নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও আস্থাভাজন ছিলেন তার বাবা।

অভিজিৎ রায় বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব। তিনিও পদোন্নতির জন্য রিভিউ আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘পদোন্নতির বিষয়টি সদয় বিবেচিত না হওয়ায় আমি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি, যার প্রভাব আমার পরিবারের ওপরও পড়েছে।’

পদোন্নতিবঞ্চিত দুই কর্মকর্তার একটি অভিন্ন বিষয় রয়েছে। আর তা হচ্ছে দুজনই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাদের মধ্যে অভিজিৎ রায়ের প্রয়াত বাবা ছিলেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। 

ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে পদ না থাকার পরও তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদ না থাকার পরও পদোন্নতির কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পান না সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

পদবিহীন পদোন্নতিতে বঞ্চনার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরও কর্মকর্তারা পদোন্নতিবঞ্চিত হচ্ছেন। কী কারণে এসব কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন না তা তারা জানতে পারছেন না। অফিশিয়ালি তারা তাদের বঞ্চনার কারণ জানেন না। যাদের লবিংয়ের জোর বেশি তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে জেনে নেন কেন তাদের বঞ্চনা করা হয়েছে। সেই মতে তারা ব্যবস্থা নিয়ে পদোন্নতি জোটানোর চেষ্টা করেন। আর যাদের সেই জোর নেই তারা অন্ধকারেই কারণ হাতড়ে বেড়ান।

দফায় দফায় ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলেও এখনো অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি। প্রতিটি ব্যাচেই একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সব কিছুতেই দোষ খোঁজার চেষ্টা করা হয় সরকারে। অথচ তাদের আমলে প্রণীত পদোন্নতি নীতিমালা ও বিধিমালা দিয়েই সরকারের কর্মকতারা পদোন্নতি নিচ্ছেন। জোট সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল তারা তাদের মতাদর্শের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতেই পদোন্নতি নীতিমালা ও বিধিমালা করেছিল ২০০২ সালে। ওই নীতিমালা ও বিধিমালার সুযোগ নিচ্ছেন সরকারের বর্তমান সময়ের কর্মকর্তারাও।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘পদোন্নতি বঞ্চনা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সব ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করলে অবশ্যই পদোন্নতি দিতে হবে। পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়েন। তখন তাদের দিয়ে ভালো সেবা আশা করা উচিত না।’

বর্তমানে সমন্বিতভাবে সরকারের বিশেষ পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ উপসচিব, আবার কেউ সচিব। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে হরদমই দেখা যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সচিব যে ব্যাচের সেই একই ব্যাচের কর্মকর্তা অধিদপ্তরের প্রধান। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ পেলেন পৌনে পাঁচ হাজার নতুন শিক্ষক - dainik shiksha চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ পেলেন পৌনে পাঁচ হাজার নতুন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে পালাচ্ছেন জাল শিক্ষকরা - dainik shiksha চাকরি ছেড়ে পালাচ্ছেন জাল শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে পরিবর্তন - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে পরিবর্তন সভাপতির বাড়িতে মাদরাসার নিয়োগ পরীক্ষা নয় - dainik shiksha সভাপতির বাড়িতে মাদরাসার নিয়োগ পরীক্ষা নয় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় - dainik shiksha শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0046811103820801