এখনই সময় জাতীয় শিক্ষানীতিতে 'মুজিবপাঠ' অন্তর্ভুক্তির - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

এখনই সময় জাতীয় শিক্ষানীতিতে 'মুজিবপাঠ' অন্তর্ভুক্তির

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শিক্ষার বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানেও। যেখানে বলা হয়েছে- আইনানুযায়ী সর্বজনীন, গণমুখী, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা। সংবিধান বলছে, রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করবে। একই সঙ্গে, সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করা এবং সে প্রয়োজন পূরণের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির ব্যবস্থাও করবে। এ ছাড়া ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে শিক্ষালাভে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য না করার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মহান সংবিধানে।শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, সংবিধানের নির্দেশনাকে মাথায় রেখেই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। আর জাতীয় শিক্ষানীতিতে কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে- ১. শিক্ষা-দর্শন, ২. জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ৩. জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা প্রণীত ও গ্রহণ, ৪. জাতির পূর্ব অভিজ্ঞতাসমূহ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহূত হবে, উপেক্ষিত হবে না। কেবল জাতির পিতাকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে 'মুজিবপাঠ' নামে শিক্ষানীতিতে কোনো কিছুই যুক্ত হয়নি কখনও। এ কারণে সর্বস্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে সামাজিক, মানবিক এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরসহ শিক্ষার প্রতিটি স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, চেতনা ও সঠিক ইতিহাস এবং দেশে বিরাজমান পারিপার্শ্বিকতা, মাতৃভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সংবলিত বিষয়ের প্রতিফলন ঘটানোর কিঞ্চিৎ প্রয়াস পাই। শুধু পাই না জাতির পিতাকে নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো বিষয়ের উপস্থিতি। শিক্ষানীতিতে অনেক বিষয়ের উল্লেখ থাকছে, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন বিষয়, আবার বাদও যাচ্ছে অনেক বিষয়। তবে যোগ-বিয়োগের পাল্লায় প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কোথাও খুঁজে পাই না 'মুজিবপাঠ' শিরোনামের স্বতন্ত্র কোনো বিষয়; যা কিনা স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে বাঙালি জাতীয়তাবোধে জাগ্রত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে ওঠা প্রজন্মের শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে অন্যতম।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন (ড. কুদরাত-এ-খুদা) রিপোর্ট (১৯৭৪), অন্তর্বর্তীকালীন শিক্ষানীতি (কাজী জাফর-আবদুল বাতেন প্রণীত-১৯৭৯), মজিদ খান কমিশন রিপোর্ট (১৯৮৩), মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট (১৯৮৭), জাতীয় শিক্ষানীতি (২০০০), জাতীয় শিক্ষা কমিশন (মনিরুজ্জামান মিঞা) প্রতিবেদন (২০০৩) এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (২০১০) প্রণীত হয়। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেমন আমাদের সংবিধানের চার মূলনীতির উদ্ভব ঘটেছিল, তেমনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার গঠিত ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও জাতীয় উন্নয়নের মূলমন্ত্র হিসেবে প্রণীত সুপারিশে জাতির প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সমস্ত অগ্রযাত্রার বিনাশ ঘটে। বিকৃত ইতিহাসের আঁধারে পথ চলে প্রজন্মের শিক্ষার কার্যক্রম।

যেহেতু একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সে দেশের বিরাজমান আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, দীর্ঘদিনের লালিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গড়ে ওঠা বাঞ্ছনীয় তাই পরিকল্পিত শিক্ষাক্রমে এগুলোর প্রতিফলন সুনিশ্চিত করার প্রয়াস থাকে। আর শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন এবং সেই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির আলোকেই রচিত হতে হয় পাঠ্যপুস্তক। পুস্তক প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয় প্রকৃত শিক্ষা যেন জীবনঘনিষ্ঠ হয় এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, অনুসন্ধিৎসা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষানীতিতে কখনোই 'মুজিবপাঠ'কে যুক্ত করার কথা ভাবা হয়নি। অথচ এই ভাবনাহীনতা শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জনে আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এখনই সময় নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে 'মুজিবপাঠ' অন্তর্ভুক্তির।

লেখক : জান্নাতুন নিসা, নারী অধিকার কর্মী

বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তির আবেদন ১ এপ্রিল থেকে, পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তির আবেদন ১ এপ্রিল থেকে, পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা ২৩ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা - dainik shiksha বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা ২৩ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা শিক্ষা অধিদপ্তরের চার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ২০ মার্চ, আসনবিন্যাস প্রকাশ - dainik shiksha শিক্ষা অধিদপ্তরের চার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ২০ মার্চ, আসনবিন্যাস প্রকাশ তিনদিনের মধ্যে সব কলেজের জমির দলিল-নামজারিপত্র পাঠানোর নির্দেশ - dainik shiksha তিনদিনের মধ্যে সব কলেজের জমির দলিল-নামজারিপত্র পাঠানোর নির্দেশ ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১৫ মার্চ - dainik shiksha ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১৫ মার্চ দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু ২৬ মার্চ - dainik shiksha দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু ২৬ মার্চ নারীর অসম্মানকারীরা ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha নারীর অসম্মানকারীরা ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে : শিক্ষামন্ত্রী ঘুষ ছাড়া কথাই বলেন না অফিস সহকারী, হয়রানিতে শিক্ষকরা - dainik shiksha ঘুষ ছাড়া কথাই বলেন না অফিস সহকারী, হয়রানিতে শিক্ষকরা please click here to view dainikshiksha website