এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ

নওগাঁ প্রতিনিধি |

শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ নিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন রমেন কুমার সাহা। নওগাঁর মান্দা উপজেলার উত্তরা ডিগ্রি কলেজের এই শিক্ষকের জাল সনদে চাকরির বিষয়টি সম্প্রতি শনাক্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠান। দৈনিক শিক্ষা ডটকমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে, শিক্ষক রমেন কুমার সাহার দাবি, নিয়োগকালীন অধ্যক্ষ  ফজলুল হক নিজেই ভুয়া নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে চাকরি দিয়েছিলেন। এজন্য প্রতিমাসেই এমপিওর টাকার অর্ধেক দিতে হতো অধ্যক্ষকে।

জানা গেছে, জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক প্রভাষক রমেনের নিয়োগকালীন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ অফিসে পাঠান। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু তৎকালীন অধ্যক্ষ ফজলুল হক দীর্ঘ ৫-৬ মাস স্বপদে থাকার সময়ে সেই জাল নিবন্ধন ধারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের  করেননি। তিনি সুকৌশলে সময় পার করে অবসরে গেছেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। 

কিন্তু দৈনিক শিক্ষা ডটকমের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে যান জালসনদধারী শিক্ষক। বর্তমানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মজিদ এ বিষয়ে জানার পর জাল সনদধারী প্রভাষকের বিরুদ্ধে ১৭ নভেম্বর মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।  নং-৩৯/২০২০ জি আর নং ৫৫৬/২০২০ ধারা ৪০৬,৪২০,৪৬৮ ও ৪৭১।  

এনটিআরসিএ থেকে পাঠানো সনদ যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদের মালিক অন্য ব্যক্তি। দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর- ২২০৬০০৭২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ০৬৪১৩৫৮৯ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া সনদে রমেন কুমার সাহা নিয়োগ নিয়েছেন। জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয় চিঠিতে।

প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, ঐ প্রভাষকের সনদ জাল সন্দেহ হওয়ায় তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে। সনদ যাচাইয়ে সেই  নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ স্বাক্ষরিত সনদ যাচাই প্রতিবেদন দেয়া হয়। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রুমেন কুমার সাহার কাছে দৈনিক শিক্ষাডটকমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। অধ্যক্ষ ফজলুল হক তাকে ওই জাল সনদ সংগ্রহ করে নিয়োগ দেন তার কলেজে। এমপিওভুক্তও করে দেন অধ্যক্ষই। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে তার বেতনের অর্ধেক টাকা অধ্যক্ষ নিয়ে নিতো। তিনি আরো দাবি করেন, সোনালী ব্যাংক থেকে সর্বশেষ ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অধ্যক্ষকে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জাল সনদে চাকরির অভিযোগে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাস থেকে তার এমপিও বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হকের কাছে দৈনিক শিক্ষা ডটকমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে [রিপোর্টারকে] কেন বলতে যাবো? এসময় তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। জাল সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন থানায় মামলা করা হয়নি- দৈনিক শিক্ষার এমন প্রশ্নের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি । এসময় আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফজলুল হক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘আমি এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার সাথে সাথেই তার বেতন বন্ধ করেছি।’ 

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মজিদ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘দৈনিক শিক্ষা ডটকমের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানার পর আমি পুরোনো ফাইল খুঁজে সে চিঠি পাওয়া মাত্রই সরকারি নির্দেশ মোতাবেক থানায় ওই জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) শাহিনুর রহমান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, উত্তরা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ অভিযুক্ত জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে স্কুল খোলার পরিকল্পনা’ - dainik shiksha ‘ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে স্কুল খোলার পরিকল্পনা’ সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান রাষ্ট্রের সম্পদ ছিলেন : স্মরণসভায় বক্তারা - dainik shiksha সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান রাষ্ট্রের সম্পদ ছিলেন : স্মরণসভায় বক্তারা সব মাদরাসা খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, গাইড লাইন প্রকাশ - dainik shiksha সব মাদরাসা খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, গাইড লাইন প্রকাশ শিক্ষকদের বেতন ইএফটি করতে ৪ লাখ টাকা ‘ঘুষ’ - dainik shiksha শিক্ষকদের বেতন ইএফটি করতে ৪ লাখ টাকা ‘ঘুষ’ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে এইচএসসির ফল যেকোন মুহূর্তে - dainik shiksha মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে এইচএসসির ফল যেকোন মুহূর্তে দ্রুততম সময়ে অনলাইনে শিক্ষকদের বদলি শুরু করতে চাচ্ছি : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha দ্রুততম সময়ে অনলাইনে শিক্ষকদের বদলি শুরু করতে চাচ্ছি : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে সব ছাত্রীকে - dainik shiksha প্রতি সপ্তাহে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে সব ছাত্রীকে শিক্ষক- কর্মকর্তাদের টিকা দেয়া হবে - dainik shiksha শিক্ষক- কর্মকর্তাদের টিকা দেয়া হবে please click here to view dainikshiksha website