এমপিও শিক্ষকদের সংবাদিকতা-ঠিকাদারি বন্ধে মন্ত্রীর সায় - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

এমপিও শিক্ষকদের সংবাদিকতা-ঠিকাদারি বন্ধে মন্ত্রীর সায়

দৈনিকশিক্ষা প্রতিবেদক |

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও ঠিকাদারি বন্ধে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণ বিধিমালা প্রণয়নে এক ডিসির দেয়া প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এমপিও শিক্ষকদের জন্য আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা বিষয়ক কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটা আচরণ বিধিমালার প্রস্তাব দিয়েছেন, আমরা মনে করি এটা একটা ভালো প্রস্তাব। আমরা এটা নিয়ে কাজ করবো।  

জানা গেছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। এতে শ্রেণি কার্যক্রমে তাদের দায়সারা আচরণ পরিলক্ষিত হয়। বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার মতো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে শিক্ষকতা পেশায় থেকে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণে শিক্ষকদের নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ একাধিক পেশায় নিয়োজিত থাকার প্রবণতা রোধ হওয়া এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে আন্তরিক হবেন। এতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটা সম্ভব হবে।

শিক্ষা বিষয়ক একটি পূর্ণকালীন টেলিভিশনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রস্তাবকে যৌক্তিক মনে করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।  


 
দীপু মনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে তা নিয়ে আমরা কথা বলেছি, উনারা শিক্ষা বিষয়ক একটা পূর্ণকালীন টেলিভিশনের কথা বলেছেন, সেটা আমরাও মনে করি যৌক্তিক দাবি। প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকারের বদন্যতায় আমরা সংসদ টেলিভিশন ব্যবহার করি। যদি আরেকটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন পাওয়া যায় তাহলে খুব ভালো হয়। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি সেটা জানিয়েছি।  

শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদবি পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা- এটাকে একেবারে সুস্পস্টভাবে ভাগ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা; এরকমভাবে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে খুবই যুক্তিযুক্ত, তাহলে বিভ্রান্তিটা থাকে না।

ডিসিদের করা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর করা প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারাই (সাংবাদিক) কিন্তু বার বার সমন্বয়ের কথা বলছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের মধ্যে সমন্বয়ের কথা বলছেন। আমার মনে হয় অনেক বেশি ভাগ করলে সেই সমন্বয়টা আরও বরং কমতে পারে। কাজেই এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের আরও অনেক ভেবে-চিন্তে দেখার বিষয় রয়েছে।

হাওর অঞ্চলে ছুটির সময় ভিন্ন করার প্রস্তাবে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে আমরা আগে থেকেই কাজ করছি, একটা ফ্লেক্সিবল ক্যালেন্ডার। কারণ আমাদের দেশে কয়েকটি অঞ্চলে একটা ভিন্ন সময়ে বন্যা হয়, ঋতুর সঙ্গেও কিছু কিছু তফাৎ আছে। সেগুলোকে মাথায় রেখে একটা ফ্লেক্সিবল ক্যালেন্ডার করা, এটা নিয়ে আমরা আগে থেকেই কাজ করছি।  

নবম-দশমে কারিগরির কোর্স নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমেও তা আছে। আমরা ৬৪০টি বিদ্যালয়ে একেবারে দুটি ট্রেড বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ে এসেছি। কারিগরিতে বয়সের বাধা ইতোমধ্যে তুলে দিয়েছি।  

আট বিভাগে আট কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তারপরও টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিও হতে পারে। কিন্তু তার জন্য আট বিভাগে আট বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে সেটা হয়তো অতটা দরকার নাও পড়তে পারে। কিন্তু আমরা পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনা করে ইউজিসির মতামতের ভিত্তিতে সেটা প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেব।  

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ডিসিদের নির্দেশনা দেয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যেহেতু তারা জেলা পর্যায়ে প্রশাসন পরিচালনা করেন। আমরা দুটি কমিটি করে দিয়েছি। এর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করে যেখানেই সমস্যা, আপত্তি, ভুল যা কিছু থাকবে সেগুলো পরিমার্জনের ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করবো। আর একটি কমিটির কথা বলেছি, যেখানে আমরা দেখবো আমাদের ভেতরে কোথাও ইচ্ছেকৃতভাবে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা অন্য কোনোভাবে বিশেষ কাউকে আঘাত করা বা ইচ্ছে করে কাউকে হেয় করে কেউ কোনো কিছু করেছে কিনা সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সবার ভূমিকা আছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা কিন্তু বহু কাজে তাদের সঙ্গে ইন্টাঅ্যাক্ট করবে। ভুল সংশোধনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।  

প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিষয়ে প্রকল্প চলছে বলে ডিসিদের জানান শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া কক্সবাজারে একটা মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় কিনা, সে প্রস্তাব তারা দিয়েছেন।

দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান ৫০ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি - dainik shiksha ৫০ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি ১ হাজার ৩৩০ প্রতিষ্ঠানে সবাই পাস - dainik shiksha ১ হাজার ৩৩০ প্রতিষ্ঠানে সবাই পাস পৌনে দুই লাখ জিপিএ-৫ - dainik shiksha পৌনে দুই লাখ জিপিএ-৫ এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে - dainik shiksha এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৯৪ শতাংশের বেশি, ৭ হাজার ১০৪ জিপিএ-৫ - dainik shiksha এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৯৪ শতাংশের বেশি, ৭ হাজার ১০৪ জিপিএ-৫ আলিমে পাসের হার ৯২ শতাংশের বেশি, সাড়ে ৯ হাজার জিপিএ-৫ - dainik shiksha আলিমে পাসের হার ৯২ শতাংশের বেশি, সাড়ে ৯ হাজার জিপিএ-৫ শুধু এইচএসসিতে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ - dainik shiksha শুধু এইচএসসিতে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0052609443664551