কওমি শিক্ষকদের অনুদান দেয়ার দাবি ইসলামী ঐক্যজোটের - মাদরাসা - দৈনিকশিক্ষা

কওমি শিক্ষকদের অনুদান দেয়ার দাবি ইসলামী ঐক্যজোটের

নিজস্ব প্রতিবেদক |

আবাসিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি করোনা মহামারিতে গরীব কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের অনুদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট।

মঙ্গলবার (৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

এসময় হেফাজতে ইসলামের বিদেশী অর্থ সংগ্রহকারী যোগানদাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে খেলাফত মজলিসের সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাণ্ডব সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে আমাদের সমর্থন আছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, কোন অবস্থায় যেন নির্দোষ ব্যক্তি গ্রেফতার কিংবা হয়রানির শিকার না হন। কিছু সরলমনা আলেম না বুঝে ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন, এই সময়ে তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রশংসা করি, মহান আল্লাহর দয়ায় সরকারের সঠিক ও সমপোযোগী পদক্ষেপের কারণে এবং দেশবাসীর সমর্থনে দেশ এক গভীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক উগ্রবাদীর অনুসারী, ক্ষমতা লোভী একদল আলেম নামধারী কুচক্রীদের হাতে চলে যায়। সে লোকগুলোর সঙ্গে জামাত-শিবির ও তাদের মিত্রদের গোপন শলা-পরামর্শের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে কুক্ষিগত করে, তাদেরকে সামনে রেখে হেফাজতের ব্যানারে জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট, হত্যা, বিরোধীদের বাড়িঘরে আগুন, শিল্প সংস্কৃতির ভিত্তি ধ্বংসের মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে সরকার পতনের লক্ষে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছিলো।

তিনি বলেন, এই কথাগুলো আমরা অনেকদিন থেকে বলে আসছি। আমরা লক্ষ্য করছিলাম, আলেম নামধারী জামায়াত ও হেফাজতে একদল লোক হেলিকপ্টার নিয়ে সারা বাংলাদেশ ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিলের নামে মিথ্যাচার করছে। পবিত্র কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে জিহাদের কথা বলে যুবসমাজকে উগ্রতার দিকে ধাবিত করছে। ভাইয়ে-ভাইয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটূক্তি করছে। ঘটনাগুলো তাণ্ডব থেকে মহা তাণ্ডবের দিকে যাওয়ার আগেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বিলম্ব হলেও সরকারের বোধোদয় হয়েছে।

এসময় তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহব্যাপী দেশের অনেক শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কিছু শর্তে আমরা ঐক্যমত্য হয়েছি। এর মধ্যে আছে- কওমি মাদরাসাগুলোকে তাদের পূর্বসূরিদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালনার লক্ষে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়্যাহ বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে, আল-হাইয়াতুল উলইয়া এবং বেফাকের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী উগ্রবাদী নেতাদের বহিষ্কার করে শান্তিপ্রিয় পারদর্শী কওমি ওলামাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি পূর্ণ বিলুপ্ত করতে হবে, কয়েকটি কওমি মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক সময়ে উগ্র সহিংস কার্যক্রম পরিচালনাকারী ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এটি সত্য হলে কিংবা তাদের নিয়ে যায় এমন বর্বর তাণ্ডব পরিচালিত হয়ে থাকলে এই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বারিধারা মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস আল্লামা ওয়াহিদুজ্জামান, মানিকগঞ্জের দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস মুফতি মনিরুজ্জামান রাব্বানী, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মাওলানা বোরহান উদ্দিন আজিজী, মুফতী মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

কঠোর বিধিনিষেধ বাড়তে পারে আরও এক সপ্তাহ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha কঠোর বিধিনিষেধ বাড়তে পারে আরও এক সপ্তাহ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন কিন্ডারগার্টেনের ১০০ শিক্ষক - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন কিন্ডারগার্টেনের ১০০ শিক্ষক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও স্টাডি সেন্টার বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক - dainik shiksha বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও স্টাডি সেন্টার বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে - dainik shiksha দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে করোনার প্রভাবে শিক্ষক এখন কচু ব্যবসায়ী - dainik shiksha করোনার প্রভাবে শিক্ষক এখন কচু ব্যবসায়ী মিতু হত্যা : সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা - dainik shiksha মিতু হত্যা : সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা ঘরে বসেই নতুন শিক্ষকদের ১০ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ - dainik shiksha ঘরে বসেই নতুন শিক্ষকদের ১০ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ এমপিও কমিটির ভার্চুয়াল সভা ১৭ মে - dainik shiksha এমপিও কমিটির ভার্চুয়াল সভা ১৭ মে শিক্ষক পাবেন পাঁচ হাজার, কর্মচারী আড়াই হাজার টাকা করে - dainik shiksha শিক্ষক পাবেন পাঁচ হাজার, কর্মচারী আড়াই হাজার টাকা করে সেহরি ও ইফতারের সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সূচি দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে ‘কওমি মাদরাসায় জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতিবোধ উপেক্ষিত’ - dainik shiksha ‘কওমি মাদরাসায় জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতিবোধ উপেক্ষিত’ please click here to view dainikshiksha website