কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার সমস্যা ও সমাধানে সাংসদের পরামর্শ - মাদরাসা - দৈনিকশিক্ষা

কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার সমস্যা ও সমাধানে সাংসদের পরামর্শ

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের পরামর্শ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। লিখেছেন এহসান সিরাজ।  দৈনিক শিক্ষার পাঠকের জন্য প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো:  

‘কওমি মাদরাসায় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাধারা। সুদীর্ঘকাল ধরে এ শিক্ষাধারা বাংলা অঞ্চলের মানুষকে যেমন ধর্মীয়ভাবে আলোকিত করে আসছে; তেমনি স্বাধীনতা সুরক্ষা, উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন, সমাজ সংস্কার, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বৈষম্যহীন সমাজগঠন, অসাম্প্রদায়িক জাতি বিনির্মাণসহ বিভিন্নভাবে কওমি শিক্ষার্থীরা অবদান রেখে চলছে।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এত কিছুর পরও বাংলাদেশের কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ একেবারেই সীমিত ও দুঃসাধ্যের।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ ভারতের প্রাচীন ও সুবিদিত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’, লখনৌতে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তানের ‘দারুল উলুম করাচি’, ‘জামেয়া ইসলামিয়া বিনৌরি টাউন’, সৌদি আরবের মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কাতারের কাতার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখে এ দেশের হাজারও কওমি শিক্ষার্থী। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইসলামী জ্ঞানের আধার সুপ্রাচীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে যাচ্ছে কওমি শিক্ষার্থীদের মনে।

কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জটিলতা নিরসনে কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট তিনজন আলেমের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো...

বিদেশে উচ্চশিক্ষা কওমি শিক্ষার্থীদের অধিকার

মুহসিন আল জাবির : লেখক ও গবেষক

আমি তখন সবেমাত্র মিশকাত জামাত উত্তীর্ণ হয়েছি। একজন পরামর্শ দিলেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা থাকলে এখনি প্রস্তুতি নিন। মাওলানার বছর (মাস্টার্স ডিগ্রি) এমন মাদ্রাসায় করেন যেখান থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়া যায়। তিনি খোঁজ দিলেন চট্টগ্রাম পটিয়া মাদ্রাসার। সেখানে ভর্তি হলাম। ছয় মাস পর তারা জানালো- এখান থেকে এখন আর বিদেশে পড়তে যাওয়া যায় না। বরং ঢাকা উত্তরায় ‘ইহয়া-উত্তুরাছ’ নামে একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে- সেখান থেকে মিসর আল আজহার ইউনিভার্সিটি ও মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাওয়া যায়। সেখানে গেলে তারা জানালো কোনো এক জটিলতায় ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম আপাতত ৬ মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে। ৬ মাস পরে সেখানে কুল্লিয়া উলাতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনার তিন মাস পর তাদের ইনস্টিটিউট বন্ধ হয়ে গেল। তারা আমাদের ট্রান্সফার করল যাত্রাবাড়ী মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ায়। সেখান কুল্লিয়া ছানি শেষ করলে প্রতি বছর প্রথম তিনজনকে বৃত্তির সুবিধা দিয়ে মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। কুল্লিয়া ছানি শেষে প্রথম স্থান অর্জন করে দেড় বছর পর জানতে পারলাম- বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এখান থেকেও বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর হাটহাজারী ও আলিয়া মাদ্রাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গড়াগড়ি করতে করতে ৫ বছর অতীত হয়ে গেল। পরিবার আর দুনিয়ার বাস্তবতার কাছে হার মেনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে কর্মজীবনে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। বিদেশ উচ্চশিক্ষার অধিকার কি আমার ছিল না? আমাদের কওমি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এত বৈষম্য কেন?

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে করণীয়

যাকারিয়্যা মাহমূদ : বিএ (অনার্স), এমএ, এমফিল : মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব

কওমি সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে। এরপরও বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশে মাস্টার্সের জন্য অনার্স এবং পিএইচডির জন্য মাস্টার্স-এমফিল সনদের প্রয়োজন হয়। কওমিতে এ সার্টিফিকেটগুলো না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদানের দায়িত্ব শুধু স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের। কওমি সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির মান দেওয়া হয়েছে একটি বোর্ডের অধীনে; যা সর্বজন স্বীকৃত নয়। তা ছাড়া সরকারিভাবে আল-হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে কোনো দেশের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো শিক্ষাচুক্তি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি চেষ্টা করেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কওমি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। আমি আশা করি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা ও সংকট নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করতে হবে

প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভি এমপি : মাননীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম-১৫

কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়টি জটিল কিছু নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহজে যেভাবে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি দিয়ে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মূল্যায়ন করেছেন, তেমনিভাবে তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সংকটের বিষয়টিও নিরসনে উদ্যোগী হবেন এটা বিশ্বাস। আল হাইয়াতুল উলইয়া এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ কওমিসংশ্লিষ্ট সব বোর্ড কর্তৃপক্ষ মিলে একটি কমিটি করতে পারেন। যারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বসার ব্যবস্থা করবে। কওমি কর্তৃপক্ষ যত তাড়াতাড়ি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে, ততই সমস্যা চিহ্নিত হবে এবং সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আমি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ। কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সংকটের বিষয়টি যতদিন সোরাহা না হবে, ততদিন তারা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বা চট্টগ্রাম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তির আবেদন ১ এপ্রিল থেকে, পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তির আবেদন ১ এপ্রিল থেকে, পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন শিক্ষা অধিদপ্তরের চার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ২০ মার্চ, আসনবিন্যাস প্রকাশ - dainik shiksha শিক্ষা অধিদপ্তরের চার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ২০ মার্চ, আসনবিন্যাস প্রকাশ তিনদিনের মধ্যে সব কলেজের জমির দলিল-নামজারিপত্র পাঠানোর নির্দেশ - dainik shiksha তিনদিনের মধ্যে সব কলেজের জমির দলিল-নামজারিপত্র পাঠানোর নির্দেশ ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১৫ মার্চ - dainik shiksha ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১৫ মার্চ দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু ২৬ মার্চ - dainik shiksha দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু ২৬ মার্চ নারীর অসম্মানকারীরা ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha নারীর অসম্মানকারীরা ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে : শিক্ষামন্ত্রী অনুদান পেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ ১৫ মার্চ পর্যন্ত - dainik shiksha অনুদান পেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ ১৫ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য, ‘কাটপেস্ট’ অধ্যাপকরাও তদবিরে - dainik shiksha পাঁচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য, ‘কাটপেস্ট’ অধ্যাপকরাও তদবিরে please click here to view dainikshiksha website