করোনা : বিএবি-এবিবি নীরব কি - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

করোনা : বিএবি-এবিবি নীরব কি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় দুর্ঘটনা কিংবা বিপর্যয়ে অনুদান দিয়ে বিভিন্ন সময় সরকার ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে দেখা গেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। যদিও বর্তমানে নভেল করোনা ভাইরাস সংকটে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না ব্যাংকগুলোর। নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশও (এবিবি)। শনিবার (২৮ মার্চ) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হাছান আদনান।

এর আগে কখনই জাতীয় সংকট কিংবা সরকারের কোনো উদ্যোগে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে এমন নির্লিপ্ত হতে দেখা যায়নি। চলতি বছরের শুরুতেও মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে ২২৭ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। শীতার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছিল ২৭ লাখ কম্বল। চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছিল ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট কিংবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে শতকোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। এসব তহবিল জোগানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি। যদিও করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংগঠনটি।

জানতে চাইলে বিএবি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অতীতে দেশের যেকোনো দুর্যোগে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেছে। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও আমরা বসে থাকব না। এরই মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছি। দেশের অন্য ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান বা পরিচালকরাও ব্যক্তি পর্যায়ে সাহায্য সহযোগিতা শুরু করেছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবাই একত্র হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য ভার্চুয়ালি মিটিং করার বিষয়টি আমরা ভাবছি।

এক্সিম ব্যাংকের এ চেয়ারম্যান এও বলেন, দেশের নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ শতভাগ বেকার হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব সামর্থ্যবান মানুষ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের একার পক্ষে সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছান সম্ভব নয়।

একই অবস্থা ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবিরও। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি সংগঠনটি থেকে। দুর্যোগ মোকাবেলায় নগদ অর্থ কিংবা মেডিকেল সরঞ্জাম নিয়ে সরকারকে সহায়তার কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নিজেদের মধ্যে কোনো বৈঠকও করেননি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। যদিও করপোরেট কর কমানোর দাবি কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নীতি স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই এবিবির পক্ষ থেকে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া হয়। দলবেঁধে গভর্নরের কাছে ছুটে যান ব্যাংক নির্বাহীরা।

যোগাযোগ করা হলে এবিবি সম্পাদক ও প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝড় হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে। এ ঝড়ের ধাক্কা বাংলাদেশে মাত্রই লাগতে শুরু করেছে। ঝড় থামলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কী উদ্যোগ নেয়া যায়, তা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।

করোনা ভাইরাস ইস্যুতে এবিবির কোনো বৈঠক এখনো হয়নি বলেও জানান রাহেল আহমেদ। তিনি বলেন, বৈঠক হওয়ার মতো কোনো পরিবেশও বর্তমানে নেই। তবে সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের অর্থ ব্যয় করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিএসআরের অর্থে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সহযোগিতার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তবে বিএবি ও এবিরির তৎপরতা না থাকলেও করোনা সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছেন তরুণ ব্যাংকাররা। এরই মধ্যে তাদের সংগঠন ‘ব্যাংকার্স ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিলে অবসরে যাওয়া ব্যাংকাররাও অনুদান দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলো সারা বছরই বিভিন্ন উপলক্ষে দান-অনুদান দিয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকাররা নিজেরাই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন। ব্যাংকের ব্যবসায়ও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তার পরও ব্যাংকগুলো বিপর্যয়ে এগিয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশের ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে মোট ৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে ৪২৬ কোটি, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ৪৯৬ কোটি, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ৭৪৩ কোটি ও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ৯০৪ কোটি টাকা ব্যয় করে ব্যাংকগুলো। সর্বশেষ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৬৪৭ কোটি টাকা।

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের একটি অংশ গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। শীতার্ত, বন্যাদুর্গত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বিএবি থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এ অর্থ দেয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের সূচনা ফাউন্ডেশনেও সিএসআর খাত থেকে অর্থ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। 

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে সরকার থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সংশোধনী আনা হয় ব্যাংক কোম্পানি আইনে। টানা ৯ বছর ব্যাংকের পরিচালক থাকার সুযোগ দিয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে পরিচালকদের কাছে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা নিয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার থেকে একের পর এক সুবিধা নিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। বিএবি ও এবিবির দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যাংকগুলোর করপোরেট কর কমানো হয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানো হয় ১ শতাংশ। ৫০ ভাগ পর্যন্ত সরকারি আমানত গ্রহণের সুযোগও আদায় করে নেন বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা। যদিও প্রায় দুই বছর ধরে বারবার ঘোষণা দিলেও ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামেনি।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা। যদিও এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমেছে। স্থবির হয়ে গেছে ব্যাংকগুলোর লেনদেনও। অর্থনীতিকে বাঁচাতে এরই মধ্যে দেশের ব্যাংকগুলোকে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেপোর সুদহার কমানো হয়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে দশমিক ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে সিআরআর। এ পরিস্থিতিতে দেশে ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামবে কিনা, সেটি নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

হল না খোলার শর্তে সাত কলেজের পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি - dainik shiksha হল না খোলার শর্তে সাত কলেজের পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার উসকানিদাতারা দেশের শত্রু: আমু - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার উসকানিদাতারা দেশের শত্রু: আমু রাস্তা ছাড়লেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল শুরু - dainik shiksha রাস্তা ছাড়লেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল শুরু শিক্ষক নেতা বাশারকে উচ্ছেদে শিক্ষা ভবনের সেই চিঠি, পদবি নিয়েও প্রতারণা - dainik shiksha শিক্ষক নেতা বাশারকে উচ্ছেদে শিক্ষা ভবনের সেই চিঠি, পদবি নিয়েও প্রতারণা যত দ্রুত সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত : প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha যত দ্রুত সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত : প্রতিমন্ত্রী এনসিটিবির ওয়েবসাইট ও ইমেইল হ্যাক করে সব স্কুলে চিঠি - dainik shiksha এনসিটিবির ওয়েবসাইট ও ইমেইল হ্যাক করে সব স্কুলে চিঠি পেছাচ্ছে না ৪০-৪২তম বিসিএস পরীক্ষার সময় - dainik shiksha পেছাচ্ছে না ৪০-৪২তম বিসিএস পরীক্ষার সময় ১৭ মে ঢাবির হল খোলার আগে পরীক্ষার সূচি নয় - dainik shiksha ১৭ মে ঢাবির হল খোলার আগে পরীক্ষার সূচি নয় এমপিওভুক্ত করা হবে আরো ৬৬১ শিক্ষককে - dainik shiksha এমপিওভুক্ত করা হবে আরো ৬৬১ শিক্ষককে please click here to view dainikshiksha website