কোটি ভক্তের হৃদয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকম - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

কোটি ভক্তের হৃদয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকম

মাছুম বিল্লাহ |

দেশের চলমান শিক্ষার প্রতিচছবি, লাখো শিক্ষকের কণ্ঠস্বর ও কোটি শিক্ষার্থীর হাসি-আনন্দের বার্তা বহনকারী একমাত্র ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম। পেশাগত কারণে কিংবা সংগঠনের কাজে দেশের যে প্রান্তেই যাই না কেনো, সর্বত্র এর পরিচিতি দেখি। মোবাইলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এটি পড়তে দেখি। তাদের বলতে শুনি, দৈনিক শিক্ষায় আপনার ওমুক লেখার সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। 

শিক্ষক সংবাদ, শিক্ষার্থীদের সংবাদ, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট যে কোনো সংবাদ, আনন্দের হোক বা বিষাদের, মুহূর্তেই জায়গা করে নেয় দৈনিক শিক্ষায়। আর তাই, অফিসের ফুরসতে শিক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো সংবাদ দেখতে মোবাইল টিপতে থাকি। শুধু আমি নই, আমার মতো বহু পাঠক দৈনিক শিক্ষার ওপরই ভরসা করেন শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদটি জানার জন্য। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পত্রিকাটি জায়গা করে নিয়েছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। আর তাই, এর কোনো সুসংবাদ তাদের সবাইকে নাড়া দেয়, যেমনটি দিয়েছে আমাকেও। 

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার বাইরে চাঁদপুরের মতলবে ইংরেজি শিক্ষকদের একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম। প্রায় সত্তরজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন সেখানে। আসার পথেই দেখে ফেললাম একটি আনন্দের সংবাদ। গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় দৈনিক শিক্ষাডটকমকে সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব)। সমিতির সাধারণ সভা ও ল্যাব এম এস ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে দৈনিক শিক্ষডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক সিদ্দিকুর রহমান খানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছেন সভাপতি ড. মো. মিজানুর রহমানসহ সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা। 

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রন্থাগার শিক্ষক-প্রভাষকরা সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খানকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা খুলে বলেন তাকে। 
দৈনিক শিক্ষার সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা যেহেতু অনেকবছরের এবং গভীর, তাই বাসায় এসে সিদ্দিকুর রহমানকে ফোনে অভিবাদন জানালাম। তখনই এ বিষয়ে কিছু একটা লেখার ইচেছ হলো। কিন্তু অফিস, সংগঠন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যস্ততায় লিখতে একটু বিলম্ব হলো। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকাকালে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময়ে ভাবতাম, দেশে শিক্ষকদের জন্য, শিক্ষার্থীদের জন্য, সর্বপরি শিক্ষার জন্য আলাদা কোনো পত্রিকা, টিভি চ্যানেল থাকা প্রয়োজন। কারণ দেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ এই সেক্টরে। তাদের জন্য আলাদা পত্রিকা বা মিডিয়া দেশে কেনো নেই তা আমার বোধগম্য ছিলো না। সংখ্যার দিকে থেকে শিক্ষক সংখ্যা যে কোনো পেশাজীবীর কয়েকগুণ। আর শিক্ষার্থী যদি ধরা হয়, তাহলে বিশ্বের বহু দেশের সর্বমোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। অথচ এই অংশের জনসংখ্যার জন্য আলাদা একটি শিক্ষা টিভি বা শিক্ষা চ্যানেল নেই। একইভাবে এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য, শিক্ষার জন্য আলাদা কোনো পত্রিকাও নেই।

  

কিন্তু চাইলেই তো হবে না, কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব সিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বিভিন্ন ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন শিক্ষা ও সংসদ বিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে। সম্ভবত সেই পেশাই তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে এ ধরনের একটি মহৎ ও প্রয়োজনীয় কাজে। তাই তার প্রাপ্য অনেক। কিন্তু এই স্বার্থপরতার সমাজ ও বিশ্বে মহৎ অনেক কিছুই স্বীকৃতির আড়ালে থেকে যায়। তাই আমরা দেখি, সম্মাননা দেওয়া হয় অনেক ক্ষেত্রেই ‘মরণোত্তর’। 

গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক দাওয়াত পেলাম। উপলক্ষ কি? কেয়ারটেকার সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খানের মরণোত্তর সম্মাননা। দেখলাম তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করছেন তার ভাইয়ের এক মেয়ে। এমনটিই হয়ে থাকে। তিনি দক্ষ ও সৎ আমলা ছিলেন, লিখেছেন বহু বিষয়ে। সম্মাননা তার প্রাপ্য। কিন্তু পেলেন পৃথিবী থেকে বিদায়ের পরে। এমনটিই ঘটছে। সে হিসেবে সিদ্দিকুর রহমান তার প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা দৈনিক শিক্ষার অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ নিজ হাতেই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরেছেন। 

বহুদিন পরে হলেও মাঝে মাঝে মাটি ও পাথরের প্রবল বাধা উপেক্ষা করে ধানগাছের বীজ মাথা তোলে। দৈনিক শিক্ষাও অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তার গন্তব্যে এগুচেছ। একটি স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষাজগতে সিদ্দিকুর রহমান খানের অতন্দ্র সেবা ও কাজ। এটি সত্যিই আনন্দের। 

রাজধানীর রমনার আইইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্দিকুর রহমান খানের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়ার অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্য, আজীবন সদস্য, দেশ-বিদেশের প্রায় দেড় হাজার পেশাজীবী ডেলিগেট অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া গুইনেট কলেজের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস-এর অধ্যাপক ড. মির্জা শাহজাহান ও বাংলা একাডেমির সাবেক চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশিদ। বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি ড. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ড. নিয়াজ আহমেদ খান তার প্রয়াত বাবা এম এস খানের নামে বৃত্তি উদ্বোধন করেন। 

অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমান খানের কাছে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে আসা গ্রন্থাগার শিক্ষক-প্রভাষকরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত গ্রন্থাগার শিক্ষকরা বলেন, বেসরকারি আমলে শিক্ষক মর্যাদা পেলেও সরকারি হওয়ার পর সে মর্যাদা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আগে ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও তার পরিবর্তে ১৩ বা ১৪তম গ্রেডে পদায়ন করা হচেছ। আবার শিক্ষক মর্যাদাও দেওয়া হচেছ না। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ল্যাবের সহসভাপতি মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার। সার্বিক বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কমিটির আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম নাসির উদ্দিন মুন্সী। অনুষ্ঠানে গত দুই বছরের উন্নয়ন ও কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ হামিদুর রহমান তুষার। 

সম্মাননা স্মারক গ্রহণের পর দৈনিক শিক্ষাডটকমের সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, একটু লেখালেখির মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নতি ঘটানোর চেষ্টায় আছি প্রায় ২৫ বছর। দৈনিক শিক্ষাডটকমকে মনে রাখায় আপনাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা। শিক্ষা বিষয়ক একমাত্র প্রিন্ট পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তাও দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিবারের সদস্য। 
দৈনিক শিক্ষাডটকমের সঙ্গে থাকায় সারাদেশের গ্রন্থাগার পেশাজীবীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। 

বলে রাখা ভালো, শিক্ষা পরিবার অনলাইনের সাথে যাতে কাগজের গন্ধ হাতে নিয়ে শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয় পড়া  যায় সেজন্য সিদ্দিকুর রহমান খান প্রতিষ্ঠা করেছেন দৈনিক আমাদের বার্তা। শিক্ষার প্রতি কতো দরদ ও ডেডিকেশন থাকলে একজন সাংবাদিক এ ধরনের সৃষ্টি উল্লাসে মেতে থাকতে পারেন তার উদাহরণ হলেন সিদ্দিকুর রহমান। মাঝে মাঝে তার পত্রিকা অফিসে যাই। অবাক হই। শিক্ষার্থী থাকাকালে শুধু শিক্ষার জন্য একটি পত্রিকা থাকা দরকার বলে যা কল্পনা করতাম সেটিই এখন দেখতে পাই। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো শিল্প গোষ্ঠীর নয়, কোন বিজনেস ম্যাগনেটের নয়। দৈনিক আমাদের বার্তা পরিচালিত হয় নিজস্ব উপার্জনে।

এ প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর রহমানকে আমি আর একটি অনুরোধ করবো। আমাদের দেশে ইংরেজি শিক্ষার বেহাল দশা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইচেছ করলে তার পত্রিকা অনেক কিছু করতে পারে। সঠিকভাবে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ও কাজের ক্ষেত্রে ইংরেজি ব্যবহার করার জন্য যেভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়ানো উচিত, জানা উচিত, আমরা তা থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছি। আশা করছি দৈনিক শিক্ষা ও দৈনিক আমাদের বার্তা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। 

ল্যাব ২০২১-২০২৩ কার্যকরি পরিষদের সভাপতি হিসেবে আছেন ড. মো. মিজানুর রহমান, মহাসচিব হিসেবে আছেন মোহাম্মদ হামিদুর রহমান তুষার। আমি তাদের এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাচিছ। দৈনিক শিক্ষা সরকারি, বেসরকরি, আধা-সরকারি, প্রথমিক, মাধ্যমিক, উচচশিক্ষা, দেশের, দেশের বাইরের সর্বস্তুরের শিক্ষা ও শিক্ষকদের কথা বলে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবিচেছদ্য অংশ হচেছ গ্রন্থাগার। আর গ্রন্থাগারের প্রাণ হলেন গ্রন্থাগারিক। তাদের জীবনমান, চাকরি, সম্মান, বৈষম্য সবকিছু নিয়ে দৈনিক শিক্ষা প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচেছ। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলছে। তাই, তাদের দৃষ্টি এড়ায়নি জনপ্রিয় এই পত্রিকাটি কি করছে তাদের জন্য। তারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ দৈনিক শিক্ষাকে দিয়েছে সম্মাননা। এমন মহৎ কাজের জন্য আমরা বাংলাদেশ গ্রন্থাগারিক সমিতিকে সাধুবাদ জানাই।

পরিশেষে বলতে চাই, সিদ্দিকুর রহমান খান, আপনাকে নিরন্তর শুভেচ্ছা। আপনি এগিয়ে যান। আমরা আছি আপনার সাথে। 

লেখক : শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। সাবেক শিক্ষক ক্যাডেট কলেজ ও রাজউক কলেজ। 

কর্মসূচির নামে মানুষের ওপর হামলা হলে ছাড়বো না - dainik shiksha কর্মসূচির নামে মানুষের ওপর হামলা হলে ছাড়বো না বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত বাংলাদেশের - dainik shiksha বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ‘গুসি শান্তি’ পুরস্কার পেলেন শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha ‘গুসি শান্তি’ পুরস্কার পেলেন শিক্ষামন্ত্রী স্কুল সরকারি বেতন-ফি বেসরকারি - dainik shiksha স্কুল সরকারি বেতন-ফি বেসরকারি দশ বছরেও ৩য় বর্ষে আছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তিলোত্তমা - dainik shiksha দশ বছরেও ৩য় বর্ষে আছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তিলোত্তমা please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0049920082092285