খোকা থেকে জাতির পিতা - দৈনিকশিক্ষা

খোকা থেকে জাতির পিতা

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী |

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর বঞ্চিত সমগ্র মানবগোষ্ঠীর পথ-প্রদর্শক ও মহাননেতা। এই মহাপুরুষের জন্ম না হলে হয়তো আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিব ছিলেন তৃতীয় সন্তান। মা-বাবা তাকে খোকা নামে ডাকতেন। শেখ মুজিবের শৈশবকাল কেটেছে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে সাত বছর বয়সে নিজ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোকার প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র জীবনের সূচনা হয়। তিনি ৯ (নয়) বছর বয়সে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং পরবর্তীকালে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। অসুস্থতার কারণে তার লেখাপড়ায় সাময়িক বিরতি ঘটে এবং চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে এলে শৈশবকাল থেকে ডানপিটে স্বভাবের শেখ মুজিব দাবি আদায়ের মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৩৮-এ ১৮ বছর বয়সে তিনি শেখ ফজিলাতুন নেছার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করার কারণে ১৯৩৯-এ বঙ্গবন্ধুর কারা জীবন শুরু হয়। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু এন্ট্রাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিব কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন। একই বছরে ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৪৬-এ শেখ মুজিব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারীর দায়িত্ব লাভ করেন। প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক যুব কর্মীদের সম্মেলনে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্থানের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। ১৯৪৮-এর ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিলে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। কিন্তু পূর্ব বাংলার ছাত্র জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। ফরিদপুরের কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের প্রায় চার মাস পর ২১ জানুয়ারি, ১৯৪৯-এ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তাদের ধর্মঘটকে সমর্থন জানান। আন্দোলনে যোগ দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে অযৌক্তিভাবে জরিমানা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। একই বছর পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবিতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি কঠোর আন্দোলনের কারণে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতসহ অরো অনেকে নিহত হন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু জেল থেকে বিবৃতি দেন এবং অনশন অব্যাহত রাখেন। টানা অনশনে অসুস্থ হওয়ায় ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যগত কারণে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গ স্মরণ করবে। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ নভেম্বর প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ থেকে বিজয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জেল গেটেই নিরাপত্তা আইনে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। কারা মুক্তির পর ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জুন শেখ মুজিব পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঢাকার পল্টনের জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দাবি করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয় এবং তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্তি পেলেও তার গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকে। ওই সময় তিনি বারবার গ্রেফতার হন এবং আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ৪ বছরের সামরিক শাসনের অবসানের পর ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন। ১৯৬৪-এর ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল কমবাইন্ড অপজিশন পার্টি গঠিত হওয়ার পর ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মিস ফাতিমা জিন্নাহকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেখ মুজিবকে নির্বাচনের ১৪ দিন আগে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। নির্বাচনে ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আইয়ুব খান বন্দুকের নলে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৬৬-এর ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সনদ ৬ দফা গৃহীত হয়। ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গঠনে প্রচারণা শুরু করলে বঙ্গবন্ধুকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। আইয়ুব সরকার ৩ মাসে শেখ মুজিবকে ৮ বার গ্রেফতার করে তাকে নির্জন কারাবাসে প্রেরণ করে।

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। ওই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গণ-আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। ছাত্র সমাজ ছয় দফা দাবির সমর্থনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে। উদ্ভুত পরিস্থিতি ঠেকাতে পাকিস্তানের সামরিক সরকার ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দিলে তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন। তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। 

কারাগার থেকে মুক্তির পর ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি ডাকসু এবং ছাত্রলীগ একসঙ্গে ঢাকায় বিশাল সম্বর্ধনা সভায় শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। 

শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৯৭০-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ টর্নেডো এবং জলোচ্ছাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় পাঁচ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ নিয়ে দুর্গতদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ২৯৮টি আসন লাভ করে। 

১৯৭১-এর ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ নেন। বঙ্গবন্ধু ওই অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। এর কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ৩ দফা বৈঠক করে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান। শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। জুলফিকার আলী ভূট্টো ঢাকা আসেন। সে আলোচনাও ব্যর্থ হয়। কিছুতেই তারা বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেবে না। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহ্বান করেন। বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনী গুলি চালিয়ে ৩ জনকে হত্যা করে। এ সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তিনি বজ্রকণ্ঠে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৭ মার্চ হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলার জনগণকে আমি ভালোবাসি, জনগণই আমার জীবন।’ ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগের পর রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হয় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা যা অপারেশন সার্চ লাইট নামে পরিচিত।

২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ৩২ নং রোডের বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে পশ্চিম করাচিতে নিয়ে যায়। ফুঁসে ওঠে বাঙালি। গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। পঠিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আইনানুগ রূপ লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৈধতা পায়। 

পাকিস্তানের কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর বিচার সামরিক আদালতে শুরু হবে জানার পর মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের ঝড় উঠে। 

দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয়। 

১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলার মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু। ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাঁধভাঙা আবেগে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নেয় বাঙালি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু বলেন,  ‘যে মাটিকে আমি এতো ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এতো ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এতো ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি ফিরে যেতে পারবো কি না, আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি। বাংলার ভাইদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’   
লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি। 

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল  SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটাল বদলিতে নানা সমস্যা - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটাল বদলিতে নানা সমস্যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে: এন আই খান - dainik shiksha শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে: এন আই খান ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, আদর্শবান মানুষ হতে হবে: ভূমিমন্ত্রী - dainik shiksha ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, আদর্শবান মানুষ হতে হবে: ভূমিমন্ত্রী কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে বইমুক্ত শুক্রবারে ব্যাপক সাড়া - dainik shiksha বইমুক্ত শুক্রবারে ব্যাপক সাড়া নববর্ষ উদযাপনে সবার সহযোগিতা চাইলেন ঢাবি উপাচার্য - dainik shiksha নববর্ষ উদযাপনে সবার সহযোগিতা চাইলেন ঢাবি উপাচার্য please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0034079551696777