গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সবার কি সমান সুযোগ থাকছে - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সবার কি সমান সুযোগ থাকছে

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে মোট ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে। ব্যাপারটি সাধুবাদ পাওয়ার মতো।  সোমবার (১২ এপ্রিল) কালেরকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, এযাবৎ যা জানা গেছে তা হলো, গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সংশ্লিষ্ট অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন। অনুষদ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা অন্য অনুষদে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো তাদের নিজ নিজ বিভাগের জন্য ভর্তির শর্তাবলি নির্ধারণ করে দেবে। অনুষদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার কোন কোন বিষয়ের ফলাফলকে সংশ্লিষ্ট ধরা হবে এবং সেসব বিষয়ে কত কত নম্বর পেতে হবে ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করে দেবে। প্রার্থীরা সেসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ওই সব বিভাগে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

তবে এই পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্য কোনো বিভাগ সমস্যায় না পড়লেও বাংলা ও ইংরেজি বিভাগকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক।

সাধারণত দেখা যায় যে বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে বিজ্ঞান ছাড়া অন্য শাখার শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন না, তবে কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভাগগুলোতে সব শাখার শিক্ষার্থীরা আবেদন করে থাকেন। এ বিভাগগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট শাখার প্রার্থীদের জন্য বেশির ভাগ আসন সংরক্ষিত রেখে অন্য শাখার প্রার্থীদের জন্য সীমিতসংখ্যক আসন নির্ধারণ করে দেয়। ফলে গুচ্ছ পদ্ধতিতে তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ তারা আগের কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে যেকোনো শাখা থেকে সহজেই প্রার্থী বাছাই করে নিতে পারবে। কিন্তু বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি তেমন হচ্ছে না। এই বিভাগ দুটিতে, বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে ঐতিহ্যগতভাবে প্রার্থীদের জন্য কোনো ধরনের শাখাভিত্তিক আসন সংরক্ষিত রাখা হয় না; বরং সব শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির সমান সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই এই প্রথাটি সত্য। আর এই প্রথাটি সংগতও বটে।

কেননা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে সব শাখার শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলকভাবে এই দুটি বিষয় সমানভাবে অধ্যয়ন করে থাকেন এবং একই প্রশ্নের ওপর পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। এ কথা বলার সুযোগ নেই যে কোনো শিক্ষার্থী বিজ্ঞান কিংবা বাণিজ্য শাখায় পড়লে তিনি বাংলা-ইংরেজিতে দুর্বল হয়ে পড়েন কিংবা বাংলা-ইংরেজির প্রতি তাঁর অনুরাগ কমে যায়। আর তাই এইচএসসি পাস করার পর বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার অনেক ছাত্র-ছাত্রীই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যে অথবা বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করতে আগ্রহী হন। তাঁরা যে শুধু বাংলা ও ইংরেজি বিষয়কেন্দ্রিক ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করেন তা-ই নয়, ইংরেজি কিংবা বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে ক্লাস পারফরম্যান্সে, সেমিস্টার ফাইনালসহ যেকোনো পরীক্ষায়ও ভালো করেন। আসলে বাংলা ও ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে যা লাগে তা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষতা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ও সৃজনশীলতার সঙ্গে কোনো কিছু লেখার ক্ষেত্রে পারঙ্গমতা। এসএসসি ও এইচএসসিতে একজন কোন শাখার শিক্ষার্থী ছিল তা কোনো ধর্তব্যের বিষয় হতে পারে না।

সুতরাং কলা অনুষদের আর পাঁচটি বিভাগের মতো বাংলা ও ইংরেজি এই দুটি বিভাগেও শুধু মানবিক শাখা থেকে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি করা যৌক্তিক হতে পারে না। এমনকি সব শাখা থেকে সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করাও সংগত হবে না। আবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে সব বিভাগের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ উন্মুক্ত রেখে একক মেধাতালিকা তৈরি করাও সম্ভব নয়। কেননা এই দুটি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হিসাবে যদি বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটিকে ধরা হয় (কেননা এই তিনটি বিষয় সব অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় আছে এবং এই তিনটি বিষয় সব শাখার শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে পড়ে আসে), তাহলেও দেখা যায় যে সব অনুষদের পরীক্ষায় তাদের জন্য নম্বর বণ্টন সমান রাখা হয়নি। কলা অনুষদের পরীক্ষায় যেখানে বাংলায় ৪০ এবং ইংরেজিতে ৩৫ নম্বর রাখা হয়েছে, সেখানে বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে রাখা হয়েছে মাত্র ১০ নম্বর করে এবং ব্যবসায় অনুষদে এ দুটি বিষয়ে রাখা হয়েছে মাত্র ১৩ ও ১২ নম্বর। এর ওপর আবার প্রশ্নের ধরনের একটা ব্যাপার আছে। ভিন্ন ভিন্ন শাখার জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন হবে, আর তাই প্রশ্নের মানেরও তারতম্য হবে। আইসিটির ক্ষেত্রেও এই নম্বরের তারতম্য আছে। এ অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক শাখার প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে বিজ্ঞান বা বাণিজ্য শাখার প্রার্থীদের নম্বরের তুলনা হতে পারে না।

জানা যাচ্ছে যে পারফর্মিং আর্টস সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো (যেমন—সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা ইত্যাদি) তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে গুচ্ছ পদ্ধতির সমন্বিত পরীক্ষা শেষে আলাদা করে ২০ নম্বরের অতিরিক্ত একটি প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি তা-ই হয়, তবে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগের জন্য তা নয় কেন? এই দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষাজ্ঞানের বিষয়টি কি তাদের জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নয়? বিশেষ করে ইংরেজি যেখানে বিদেশি ভাষা, সেখানে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাষাজ্ঞান কি অপরিহার্য পর্যায়ে পড়ে না? গলায় সুর না থাকলে যেমন গান গাওয়া যায় না, ভালো অভিনয়বোধ না থাকলে যেমন ভালো অভিনয় করা যায় না কিংবা ভালো শিল্পবোধ না থাকলে যেমন ভালো ছবি আঁকা যায় না, তেমনি ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ভালো না থাকলে যে ইংরেজি সাহিত্য পড়া যায় না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাই পারফর্মিং আর্টস সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সঙ্গে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং এ দুটি বিভাগের ক্ষেত্রেও গঈছ ভিত্তিক সমন্বিত পরীক্ষার পর ২০ বা ৩০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার বিধান রাখা প্রয়োজন।

আর যদি কোনোক্রমেই তা সংগত বলে মনে না হয়, তবে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। এই দুটি বিভাগে অবাধে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি সামনে রেখে সব শাখার শিক্ষার্থীদের একই প্রশ্নে একসঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আর সেই পরীক্ষাটি মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নের ওপর হওয়াই যে বাঞ্ছনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা মানবিক শাখার জন্য যে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে তা সব শাখার শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসিতে অধ্যয়ন করেছে। এতে সব শাখার যোগ্য শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

নতুন কিছু প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য থাকে পুরাতনের চেয়ে ভালো কিছু দেওয়া, পুরাতনের ভুলত্রুটি লাঘব করা—কোনোক্রমেই পুরাতনের ভালো অংশটুকু বিনষ্ট করা নয়। বিশেষ করে যেখানে পুরাতনের সেই ভালো অংশটুকুকে ধরে রাখার সুযোগ আছে। সুতরাং কর্তৃপক্ষ বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের গুণগত মান নতুন করে বৃদ্ধি করতে না পারলেও অন্তত যতটুকু আছে তা সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ সদয় দৃষ্টি দেবে, সেই প্রত্যাশা রাখা যেতেই পারে।

লেখক :ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ। 

কঠোর বিধিনিষেধ বাড়তে পারে আরও এক সপ্তাহ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha কঠোর বিধিনিষেধ বাড়তে পারে আরও এক সপ্তাহ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন কিন্ডারগার্টেনের ১০০ শিক্ষক - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন কিন্ডারগার্টেনের ১০০ শিক্ষক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও স্টাডি সেন্টার বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক - dainik shiksha বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও স্টাডি সেন্টার বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে - dainik shiksha দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে করোনার প্রভাবে শিক্ষক এখন কচু ব্যবসায়ী - dainik shiksha করোনার প্রভাবে শিক্ষক এখন কচু ব্যবসায়ী মিতু হত্যা : সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা - dainik shiksha মিতু হত্যা : সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা ঘরে বসেই নতুন শিক্ষকদের ১০ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ - dainik shiksha ঘরে বসেই নতুন শিক্ষকদের ১০ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ এমপিও কমিটির ভার্চুয়াল সভা ১৭ মে - dainik shiksha এমপিও কমিটির ভার্চুয়াল সভা ১৭ মে শিক্ষক পাবেন পাঁচ হাজার, কর্মচারী আড়াই হাজার টাকা করে - dainik shiksha শিক্ষক পাবেন পাঁচ হাজার, কর্মচারী আড়াই হাজার টাকা করে সেহরি ও ইফতারের সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সূচি দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে ‘কওমি মাদরাসায় জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতিবোধ উপেক্ষিত’ - dainik shiksha ‘কওমি মাদরাসায় জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতিবোধ উপেক্ষিত’ please click here to view dainikshiksha website