দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে গবেষণামুখী শিক্ষা খুবই জরুরি - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে গবেষণামুখী শিক্ষা খুবই জরুরি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান সৃষ্টির অন্যতম তীর্থভূমি। এখানে একজন শিক্ষার্থী বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানার্জন ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে যেমন নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবে, তেমনি গবেষণায় অংশ নিয়ে নিত্যনতুন আবিষ্কারের দ্বারা দেশ-জাতি-বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে। তাই তো ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফলে উদ্ভাবিত টিকা আজ করোনা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে ৫৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।রোববার (১০ অক্টোবর) ইত্তেফাক পত্রিকায় পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয় যতটা সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষায় অগ্রগামী, ততটা নয় গবেষণায়। যার ফলে উচ্চশিক্ষা তার লক্ষ্য ও মূল উদ্দেশ্য হারাতে বসেছে। এছাড়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা খাতে ব্যয় প্রত্যাশাজনক নয়। ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ গবেষণা খাতে যে ব্যয় করে, তা তাদের সব ধরনের খরচের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ১৫ থেকে ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এমন নাজুক অবস্থার কারণে বাড়ছে না শিক্ষার মান। এতে করে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাবরই পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষাবিষয়ক যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস (কিউএস) বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং ২০২২-এর তালিকায় ১ হাজার ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ৫০০টির মধ্যে নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংস ২০২০’-এ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান হয়নি বাংলাদেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এ অবস্থা মোটেও সুখকর নয়। 

বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে দ্রুতই উন্নয়নশীল বিশ্বে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায়ও পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করছে। আবার দেশব্যাপী চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞানবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর পদক্ষেপ ও নতুন নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়ছে। তাই এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি তাত্ত্বিক ও ফলিত উভয় গবেষণায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করে, তাহলে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

তবে গবেষণাবান্ধব সংস্কৃতির চর্চা না করা, গবেষণাবিমুখ মানসিকতা, পড়াশোনা শেষেই চাকরি লাভের বাসনা, অনেক সময় প্রয়োজনীয় ল্যাব, রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও সরঞ্জমের ঘাটতি, দুষ্প্রাপ্য বই এবং অনুকূল পরিবেশের অভাবের কারণে এর বাস্তবায়ন মিলছে না। ইউজিসির ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ১২টি সরকারি ও ৪৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা কার্যক্রম হয়নি। যদিও দেশ ইতিমধ্যে বেশ কিছু গবেষণালব্ধ ফল ভোগ করছে, আবহাওয়া-সহিষ্ণু উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে কৃষিতে বিপ্লব এনেছে; খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, তবু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন বিরূপ পরিস্থিতি থেকে অতিসত্বর বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের বিকাশ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে গবেষণামুখী শিক্ষা খুবই জরুরি। এছাড়া সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার বাস্তবায়নেও গবেষণা পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সরকার গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করতে বেশ কিছু প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে গবেষণামুখী করতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা ফান্ডও চালু করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ইউজিসির ‘গবেষণা সহায়ক তহবিল’। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ, মানসিকতা ও আগ্রহ সৃষ্টিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। গবেষণাবিমুখ মানসিকতার কারণ অনুসন্ধান করে তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট থেকেই গবেষণার মনোভাব জাগিয়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে ছাত্রসমাজে স্পষ্ট জ্ঞানের বিস্তার ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের দেশেও অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নরওয়ে, কোরিয়া প্রভৃতি দেশের মতো শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতে হবে। তবেই দেশ বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে দ্রুত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে।


লেখক : রুকাইয়া মিজান মিমি, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

please click here to view dainikshiksha website