ধর্ষণের আগে অতিরিক্ত মদপান করানো হয় সেই শিক্ষার্থীকে - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

ধর্ষণের আগে অতিরিক্ত মদপান করানো হয় সেই শিক্ষার্থীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও আসামি মর্তুজা পূর্বপরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে তারা প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। এ ধারাবাহিকতায় উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে হালকা নাস্তার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত মদপান করানো হয়। এরপর মর্তুজার অন্য বান্ধবীর বাসায় নিয়ে ভুক্তভোগীকে দুই রাত ধরে ধর্ষণ করা হয়। অতিরিক্ত মদপান ও ধর্ষণের কারণে মারা যায় ওই শিক্ষার্থী।

মামলার অন্যতম আসামি ভুক্তভোগীর বান্ধবী ফারজানা জামান নেহাফাইল ছবি

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাজেদুল হক নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। এই মামলার আসামি আরাফাত হোসাইন মারা যাওয়ায় তাকে দায় থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছি। মামলায় ২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- মর্তুজা রায়হান চৌধুরী, মোসা. নুহাত আলম তাফসীর, ফারজানা জামান নেহা, শাফায়াত জামিল, মো. রিয়াজ উদ্দিন ও নুরুল আমিন।

মামলার অভিযোগে যা বলেছেন ভুক্তভোগীর বাবা

২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি চারজনকে আসামি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছিলেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে তিনি বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আরাফাতের বাসায় যান। সেখানে স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই তরুণী ও রায়হান একসঙ্গে ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আসামি নেহা ও একজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে ‘অধিকমাত্রায়’ মদপান করান।

এজাহারে আরও বলা হয়, মদপানের একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে রায়হান। এ সময় রায়হানের বন্ধুরাও কক্ষে ছিল।

ধর্ষণের পর রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেয়। সেই বন্ধু পরদিন এসে তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। দুইদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

নেহা ও শাফায়াত একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতোঃ আসামি মর্তুজা, তাফসীর এবং মামলার ভুক্তভোগী ইউল্যাব ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করতেন। এর আগে আসামি আরাফাত ও ভুক্তভোগী তরুণী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা করতেন। আসামি আরাফাত ও শাফায়াত কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখার সুবাদে দুজনের বন্ধুত্ব হয়। আসামি নেহা ও শাফায়াত তেজগাঁও মনিপুরী পাড়ায় একই ফ্ল্যাটে বসবাসের মাধ্যমে পরিচয় হয়।

চার্জার কিনতে বের হন মর্তুজা ও ভুক্তভোগী বান্ধবীঃ ভুক্তভোগী তরুণী ও মামলার আসামিরা একে অপরের পরিচিত এবং তারা প্রায় সময়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি মোবাইল চার্জার কেনার জন্য আসামি মর্তুজা ভুক্তভোগী তরুণীকে মিরপুর মডেল থানা এলাকার বারেক মোল্লা মোড় থেকে স্কুটারে মোতালেব প্লাজায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা দুজন মিলে আসামি আরাফাতের বাসায় চলে যান। বাসার নিচে স্কুটার রেখে উত্তরা বাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যাওয়ার জন্য উবারে ওঠেন আরাফাতসহ তিনজন।

মদের বিষয়ে কথা বলেন আরাফাতঃ আরাফাত মদের বিষয়ে আসামি রিয়াজের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। পরিকল্পনা মতে রেস্টুরেন্টে আসামি মর্তুজা, আরাফাত, নেহা ও শাফায়াত পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে আসামি নুরুল আমিন মদ পৌঁছে দেন। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী, মর্তুজা ও আরাফাত রেস্টুরেন্টে বসে বিভিন্ন খাবার অর্ডার করেন। খাবারের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের সংগ্রহ করা দুই বোতল মদ ভুক্তভোগী তরুণীসহ অন্যরা পান করেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে আসামিদের দেওয়া অতিরিক্ত মদপান করার পর অস্বস্তি বোধ করলে সবাই মদপান বন্ধ করে দেন। আসামি নেহা ও শাফায়াত রেস্টুরেন্ট থেকে চলে যান। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী, মর্তুজা ও আরাফাত উবারে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। গুলশানে আরাফাত নেমে যান।

বান্ধবীর বাসায় রাতযাপন করেন মর্তুজা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীঃ মর্তুজা ভুক্তভোগী তরুণীকে নিয়ে তার বান্ধবী তাফসীরের বাসায় ওঠেন। ওই বাসায় মর্তুজা ও ভুক্তভোগী তরুণী একসঙ্গে রাতযাপন করেন। এসময় আসামি মর্তুজা ভুক্তভোগী তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী একাধিকবার বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তার বন্ধু আসিফকে ফোন দিয়ে অসুস্থতার কথা জানান। সকালে আসিফ তাকে দেখতে যান। ওইদিন রাতে আবারও বেশি অসুস্থতার কথা আসিফকে জানান। এসময় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী তরুণী মারা যান।

আসামিদের বিরুদ্ধে যে ধারায় যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে

মর্তুজা রায়হান চৌধুরী: ভুক্তভোগী তরুণীকে পার্টি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে তার সংগৃহীত মদ অতিরিক্ত মাত্রায় পান করানো এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১) তৎসহ পেনাল কোড আইনের ৩০৪ ধারায় অপরাধ সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

নুহাত আলম তাফসীর: বাসায় আসামি মর্তুজা ও ভুক্তভোগী তরুণীকে থাকার ব্যবস্থা এবং ধর্ষণের সুযোগ করে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১)/৩০ ধারায় অপরাধ সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

আসামি আরাফাত, ফারজানা ও শাফায়াত: আরাফাত (মৃত), ফারজানা জামান নেহা এবং আসামি শাফায়াত পার্টির আযোজন করেন। তাদের দেওয়া মদ অতিরিক্ত মাত্রায় পান করানোর ফলে ভুক্তভোগী তরুণী মৃত্যুবরণ করায় পেনাল কোড আইনের ৩০৪ ধারায় অপরাধ সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

আসামি রিয়াজ ও নুরুল আমিন: রিয়াজ ও নুরুল আমিন ক্ষতিকর মদ সরবরাহ ও বহন করেন। এ মদপান করে ভুক্তভোগী মৃত্যুবরণ করায় পেনাল কোড আইনের ৩০৪ ধারায় অপরাধ সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

আসামি আরাফাত: আরাফাত মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।

ভুক্তভোগীর বাবা এ বিষয়ে বলেন, ‘মেয়ে হারানোর পর নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছি। এখন মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

ফাজিল পরীক্ষা স্থগিত - dainik shiksha ফাজিল পরীক্ষা স্থগিত মাস্ক ছাড়া বের হলেই জরিমানা করা হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha মাস্ক ছাড়া বের হলেই জরিমানা করা হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী উপবৃত্তির টাকা পাঠানো শুরু, দ্রুত তুলতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের - dainik shiksha উপবৃত্তির টাকা পাঠানো শুরু, দ্রুত তুলতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাদরাসায়ও অনলাইন ক্লাস, খোলা থাকবে অফিস - dainik shiksha মাদরাসায়ও অনলাইন ক্লাস, খোলা থাকবে অফিস কওমি মাদরাসাকে বোর্ডের অধীনে নিয়ে আসা প্রয়োজন : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha কওমি মাদরাসাকে বোর্ডের অধীনে নিয়ে আসা প্রয়োজন : শিক্ষামন্ত্রী ভিসির পদত্যাগের দাবি অযৌক্তিক, চাইলেই সরানো যায় না : শিক্ষা উপমন্ত্রী - dainik shiksha ভিসির পদত্যাগের দাবি অযৌক্তিক, চাইলেই সরানো যায় না : শিক্ষা উপমন্ত্রী উপবৃত্তির টাকা পাঠানো শুরু, দ্রুত তুলতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের - dainik shiksha উপবৃত্তির টাকা পাঠানো শুরু, দ্রুত তুলতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের please click here to view dainikshiksha website