নীল চোখের আলো - দৈনিকশিক্ষা

নীল চোখের আলো

নজরুল ইসলাম খান |

শৈশবে অনাথ:

ছায়াঢাকা পাখিডাকা চারিদিকে থৈ থৈ পানির মাঝখানে ছোট্ট গ্রাম টুঙ্গীপাড়া। সেই গ্রামে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ আগস্ট শেখ জহুরুল হকের পরিবারে হোসনে আরার গর্ভে ফর্সা তুলতুলে নীল চোখের ফুটফুটে এক কন্যা শিশু জন্ম নিলো। বাবা চাকরি করতেন যশোরে। সেখানেই মৃত্যু এবং দাফন। তখন ফজিলাতুন নেছার বয়স মাত্র তিন বছর। দাদা আবুল কাশেম হয়তো দৈবক্রমে তার দিন যে ফুরিয়ে আসছে তা বুঝেছিলেন। তাই শিশুটিকে সমর্পণের জন্য একই গোত্রেয় ভাতিজা শেখ লুৎফর রহমানের কাছে তার পুত্র শেখ মুজিবকে চাইলেন। যথারীতি বিয়ে হলো। বয়স পাঁচ বছর যেতে না যেতেই মা হোসনে আরা ইহলোক ত্যাগ করলেন। এরপর ওই শিশুকন্যার বয়স যখন মাত্র সাত বছর, দাদা আবুল কাশেম ইহলোক ত্যাগ করলেন। তার আগে তার সমস্ত সম্পত্তি দুই নাতনীকে লিখে দিয়ে গেলেন। তখন কি কেউ জানতো এই সম্পত্তি একদিন বাংলার স্থপতির লেখাপড়া আর বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কিঞ্চিত হলেও ব্যয়িত হবে? 

ফজিলাতুন নেছা শাশুড়ি সায়েরা খাতুনের তত্ত্বাবধানে শ্বশুরবাড়িতে উঠলেন। শেখ মুজিবের চার বোন আর এক ভাই তার খেলার সাথী। তবে তার খেলার সময় কোথায়? শাশুড়িকে যৌথপরিবারে হাত-আরানি করতে হয়। এভাবেই দেখতে দেখতে আট বছরে পা। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে এই আট বছরের শিশুর সাথে ১৮ বছরের কিশোর শেখ মুজিবের আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। এর মাত্র চার বছর পর ১২ বছর বয়সে ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ‌ ফজিলাতুন নেছা শেখ মুজিবের সংসার করতে শুরু করেন।

একাকীত্ব:
১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবুর রহমান ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাস করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হলেন। ততদিনে শেখ মুজিব তুখোড় ছাত্র নেতা আর সোহরাওয়ার্দীর মতো আকাশচুম্বী নেতার ভাবশিষ্য। তাই স্ত্রীকে সঙ্গ দেওয়ার সময় এবং সুযোগ দুটোরই অভাব ছিলো। তরুণ দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু হলো বিরহের কাহিনি, এই কাহিনি আমৃত্যু চলমান ছিল। সেকালের একটা প্রবাদ 'বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না'। কিন্তু ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে একদিন সেই মুখ ফুটিয়ে ফেললেন। বললেন ‘একবার কলকাতায় গেলে আর আসতে চাও না, এবার কলেজ ছুটি হলেই বাড়িতে এসো’।

রাজনীতির চিরসাথী:
বালিকাবধূ বেগম ফজিলাতুন নেছা হয়তো বুঝেছিলেন রাজনীতিতে বাধা দিয়ে মুজিবকে নিবৃত্ত করা যাবে না। তাই সর্বক্ষণ সর্বদিকে তাকে কীভাবে সাহায্য করা যায় সেই চেষ্টাই করেছিলেন। দাদার দেয়া জমিতে যে ফসল হতো তার টাকা সব সময়ই ফজিলাতুন নেছার হাতে থাকতো। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতায় পড়ার সময় বাবার পাঠানো টাকার অতিরিক্ত টাকা পাঠিয়েছেন স্বামীর জন্য। মেজো বোন আছিয়া বেগম স্বামী শেখ‌ নুরুল হকেরর এ জি বি তে চাকরিসূত্রে কলকাতায় থাকতেন। তাকেই বাবা টাকা দিতে বলেছিলেন, সময় মত তিনি তাকে পুনঃভরণ করতেন। মুজিব কোনদিনই ভোলেননি, ডায়রিতে লিখে অমর করে গেছেন ‘সময় সময় রেণু আমাকে কিছু টাকা দিতে পারতো, রেণু যা কিছু যোগাড় করত বাড়ি গেলে এবং দরকার হলে আমাকে দিত। কোনদিন আপত্তি করে নাই। নিজে মোটেই খরচ করতো না। গ্রামের বাড়িতে থাকতো, আমার জন্যই রাখতো’। 

১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ৭ এপ্রিল দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাখার কনভেনশনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেও আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন। এরপর মড়ার ওপর খাড়ার ঘা। কলকাতায় ফিরে আসার সময় সুটকেস চুরি হয়ে গিয়েছিল। ভালো কাপড় চোপড় নেই, কলেজের মাইনে বাকি, বেশি টাকা দরকার, তাই বাড়ি না যেয়ে আর কোনো উপায় নেই। যাওয়ার আগে রেণুকে বললেন বাবাকে জানাতে। টুঙ্গিপাড়ায় গেলে বাবা বললেন, ‘কোন কিছুই শুনতে চাই না। বিএ পাস ভালোভাবে করতে হবে।‌ এখন কিছুদিন লেখাপড়া কর।’ 

পরিবারের সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সবশেষে রেণুর কাছে বিদায় নিতে এসে দেখলেন, কিছু টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখছেন ‘অমঙ্গল অশ্রু জল' বোধহয় অনেক কষ্টে বন্ধ করে রেখেছে।

বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গ্রন্থে নীলিমা ইব্রাহিম লিখেছেন ‘১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠন করতে রাস্তায় নেমে লিফলেট বিতরণ করেছেন। ৬৯ এর গণআন্দোলনের নেপথ্যের বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন।’

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আগে চারিদিক থেকে আসা পরামর্শের ওপর পরামর্শ দিতে গিয়ে বেগম মুজিব তার স্বামীর ওপর আস্থা রেখেই বলেছিলেন, ‘তুমি সারা জীবন এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছো। তুমি জানো কী বলতে হবে। তোমার সামনে বন্দুক রাইফেল আর তোমার পিছনে জনগণ। তোমার অন্তর যা চাইছে আজ তাই বলবে’। 

বন্দিজীবনের অনুপ্রেরণাদাত্রী: 
বঙ্গবন্ধুর লেখায়- ‘আমার স্ত্রী যার ডাকনাম রেণু আমাকে কয়েকটা খাতা কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছে। রেণু আরো একদিন জেলগেটে বসে আমাকে লেখার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।’

লিখতে অনুরোধ করায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার লেখা কে পড়বে? আমি লেখক নই কিংবা কেউকেটাও নই। রেণুর সেই পরামর্শ আজ বিশ্ববিখ্যাত অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ডজনেরও বেশি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। কোটি কোটি মানুষের সুখপাঠ্য।
১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে বেগম ফজিলাতুন নেছা মন্ত্রীজায়া হলেন। মিন্টু রোডের তিন নাম্বার বাসায় সবে উঠেছেন মাত্র ১৫ দিন। ২৯ মে মন্ত্রীপরিষদ বাতিল করে সদ্য সাবেক কৃষি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলো এই বাসা থেকেই। বিদায়কালে ব্যাগে জামা-কাপড়, টুথ পেস্ট, চশমাসহ সবকিছু গুছিয়ে দিলেন জেলখানায় যেন কম কষ্ট হয়।

কারা বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিনে একবার দেখা করার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেন। যারা জেলখানার গেটে কখনো গেছেন তারা বুঝবেন সাক্ষাৎপ্রার্থীর যন্ত্রণা।

আসলো ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবরের ইস্কান্দার মির্জা-আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ১২ অক্টোবর শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হলো। জেলখানায় যাতে স্বামীর সময় কাটে, আরও সমৃদ্ধ পরিণত রাজনীতিবিদ হতে পারেন তাই বই পাঠালেন-
1. Self restraint versus self indulgence
2. In the high Yemen
3, Sense and Sensibility
4. Sixty days in America
5. Marutirtho Hinglaj
6. Potha Probashe

শেখ মুজিব একটি সাক্ষাৎকারে তার স্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মতো সাহসী মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। আমাকে যখন পিন্ডির ফৌজ বা পুলিশ এসে জেলে নিয়ে যায়, আমার ওপর নানা অত্যাচার করে, আমি কবে ছাড়া পাবো বা কবে ফিরে আসব ঠিক থাকে না। তখন কিন্তু সে কখনো ভেঙে পড়েনি। আমার জীবনের দুটি বৃহৎ অবলম্বন- প্রথমটি হলো আমার আত্মবিশ্বাস, দ্বিতীয়টি হলো আমার স্ত্রী ও আকৈশোর গৃহিণী।

মা হিসেবে বেগম মুজিব:
দিনের পর দিন বঙ্গবন্ধুর কারাগারে থাকা অবস্থায় বেগম মুজিব শত সংকট মোকাবেলা করে সংসার সামলে ছেলেমেয়েদের লালন পালন করেছেন, তাদের পড়াশোনা করিয়েছেন, সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলেছেন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে শেখ মুজিবুর রহমান কারাবন্দি হলে বেগম মুজিব ছোট্ট বাচ্চাদের নিয়ে লেখাপড়ার স্বার্থে নাজিরা বাজারের ছোট্ট একটি বাড়িতে ওঠেন। বাড়িওয়ালারা সরকারের অত্যাচারে বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার স্বার্থে ঢাকায় একটি ঠিকানার চেষ্টা করলেন। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রী হলে একান্ত সচিব নুরুজ্জামানকে দিয়ে একটি দরখাস্ত করান ৬০০০ টাকায়, ২০০০ টাকা কিস্তিতে ধানমন্ডির আজকের ৩২ নম্বর বাড়িতে জমি বন্দোবস্ত পান। সেই বাড়ি আজ বাঙালির দুঃখ-সুখ-গৌরব, সৃষ্টি-ধ্বংস আর আর্তনাদের মধ্য দিয়ে জাতির কেন্দ্রবিন্দু-বাঙালির ঠিকানা।

আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার সময় বঙ্গবন্ধু চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সপরিবারে সেগুন বাগিচার ১১৭ নম্বর সরকারি বাড়িতে ওঠেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর পাঁচ দিনের মাথায় ১২ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ দিনের নোটিসে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। অকস্মাৎ বিপর্যয়ে উপায়ান্তর না পেয়ে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় মাসিক ২০০ টাকায় বয়েজ স্কুলের মাঠের পাশে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি ভাড়া নেন মুজিবপত্নী। সরকারি গোয়েন্দাদের হুমকির মুখে মালিক বাড়ি ছাড়তে অনুরোধ করেন। তারপর কবি বেগম সুফিয়া কামালের প্রচেষ্টায় সেগুনবাগিচার ৭৬ নাম্বার বাড়িতে মাসিক ৩০০ টাকার ভাড়ায় ওঠেন।

ছয় দফা ঘোষণার পর একের পর এক আটটি মামলা রুজু করা হয়। এদিকে বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ের সম্বন্ধে এসেছে। বিয়ে দিতে হবে। রেণু গিয়ে জেলখানায় শেখ মুজিবের সাথে পরামর্শ করলেন। শেখ মুজিব মেয়ের বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি চাইলেন। কিন্তু পাষাণ সরকার নাকচ করে দিলেন। দুঃসময়ে রেণু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হননি। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদের সাথে শেখ হাসিনার বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব এই ৩২ নম্বর বাড়িতে স্বামীর অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন করেন। সেই কঠিন দুঃসময়ের মধ্যেও শেখ হাসিনা ও জামাই ওয়াজেদ মিয়াকে নিয়ে কারাগারে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করাতে যান। বাবা শেখ মুজিব এভাবেই সম্প্রদান করেন তার আদরের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে। রেণু পালন করেন মা হিসেবে তার দায়িত্ব, আর স্ত্রী হিসেবে কর্তব্য।

ফার্স্ট লেডি:
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ১৭ তারিখ পর্যন্ত নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্ত্রী ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়ক, যা বর্তমানে ৯এ রাস্তার ২৬ নম্বর বাড়ি, গৃহবন্দি ছিলেন। ৩২ নাম্বারের ৬৬৭ নম্বর বাড়ির প্রতিবেশী বিজয়ের আনন্দে তাদের সাথে দেখা করতে এই বাড়ির কাছে গেলে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে। একজন নিহত ও আরো অনেকে আহত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর অশোক তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারকে উদ্ধার করেন। তিনি একটি বই লিখে তাকে অমর করেছেন এবং ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার জুন ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে তাকে ‘ফ্রেন্ড অফ বাংলাদেশ’ খেতাবে ভূষিত করেছে। 

নিজে মুক্ত হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী তৎপর হয়েছেন স্বামীকে মুক্ত করার জন্য। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ মিত্র- মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা বেগম মুজিবের সাথে ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাড়িতে সাক্ষাৎ করেন। বেগম মুজিব তখন শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার জন্য তার মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর কাছে অনুরোধ জানান। ওই ডিসেম্বরের মাসের ২২ তারিখেই অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ঢাকায় পৌঁছুলে বেগম মুজিব তার সাথে সাক্ষাৎ করে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। ওই মাসেই প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ৩০ ডিসেম্বর উড়িষ্যার সাংবাদিক মিস্টার পরীক্ষিত বেগম মুজিবের সাথে সাক্ষাৎ করে উড়িয়া ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক সমাজ পত্রিকায় বাংলাদেশ মুক্তির সংগ্রাম সম্পর্কিত বিশেষ সংখ্যার একটি কপি উপহার দেন। এরপর বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বেগম মুজিবের সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি ডক্টর নীলিমা ইব্রাহিমের পরামর্শ চান। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে পোল্যান্ডের ভাইস কনসাল মিস্টার রোমান পলাক তার সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু স্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও তার সাথে তার বাসভবনের সাক্ষাৎ করেন। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের জনসাধারণের মতো পোল্যান্ডের সরকার ও জনসাধারণও বঙ্গবন্ধুর আশু মুক্তির জন্য উদ্বিগ্ন। একদিন গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের সদস্য শ্রী নীতিশ রায় চৌধুরী বেগম মুজিবের সাথে তার বাসভবনের সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

বঙ্গবন্ধুর চয়িত শব্দ আকৈশোরের সাথী ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে একই সাথে খুনিদের বুলেটের আঘাতে ইহলোক ত্যাগ করেন। স্বামীর হত্যাকাণ্ড বুঝতে পেরে চিৎকার করে তিনি বলেছিলেন, আমাকেও মেরে রেখে যাও। পরকালে বেহেশতবাসী হয়ে চিরসাথী হয়ে থাকবো। 

আর বাংলাদেশের মানুষের মনে, হৃদয়ে ও সাহিত্যে অনন্যা হিসেবে অনাদিকাল টিকে থাকবেন।

স্মরণীয় বরণীয়: 
দেহের মৃত্যু হলেও আত্মা অবিনশ্বর, তাই বঙ্গমাতার আত্মা বাংলার আকাশে বাতাসে বিরাজমান। স্মরণীয় বরণীয় হিসাবে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালিস্ট হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ আর্তের সেবায় নিয়োজিত। প্রতি বছর যোগ হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ছাত্রীআবাস, স্কুল কলেজ। সাহিত্যের শিল্পকর্মে অমর হয়ে আছেন। 'বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' লিখেছেন ডক্টর নীলিমা ইব্রাহিম। অসংখ্য লেখনীর মাঝে চির জাগরুক থাকবেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

বাংলাদেশ সরকার ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক প্রবর্তন করেছে। 'ক' শ্রেণিভুক্ত সর্বোচ্চ এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রতি বছর রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় অনন্য অবদান ও ভূমিকার জন্য পাঁচজন বাংলাদেশি নারীকে দেয়া হচ্ছে।

লেখক : নজরুল ইসলাম খান, সাবেক শিক্ষাসচিব 

 

পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট সত্যায়ন অনলাইনে যাচ্ছে - dainik shiksha পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট সত্যায়ন অনলাইনে যাচ্ছে একাদশে ভর্তিতে কলেজ পছন্দে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিতে কলেজ পছন্দে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তার শক্তি অর্জন করতে হবে - dainik shiksha শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তার শক্তি অর্জন করতে হবে জোরপূর্বক ভোট দেয়ার চেষ্টা: শিক্ষককে ৩ দিনের জেল - dainik shiksha জোরপূর্বক ভোট দেয়ার চেষ্টা: শিক্ষককে ৩ দিনের জেল শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষায় সর্বজনীন পেনশন: ডিজি - dainik shiksha শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষায় সর্বজনীন পেনশন: ডিজি ভারতে নিখোঁজ এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১ - dainik shiksha ভারতে নিখোঁজ এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১ কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ দাবিতে নিবন্ধনধারীদের মানববন্ধন - dainik shiksha শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ দাবিতে নিবন্ধনধারীদের মানববন্ধন please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0033907890319824