প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার কাজ: সবার মুখে অগ্রনী প্রেসের নাম - বই - দৈনিকশিক্ষা

প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার কাজ: সবার মুখে অগ্রনী প্রেসের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সরকার ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রাথমিক স্তরের (৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৬টি পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ ব্যয় হবে ১১৫ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অগ্রণী প্রিন্টার্স ও কচুয়া প্রেস ও পাবলিকেশন্স এই কাজটি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। পিওন থেকে শুরু করে প্রায় সবার মুখে মুখে অগ্রনীর প্রশংসা। 

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২২ শিক্ষাবর্ষের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের সাত কোটি ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই এবং জেলা/উপজেলাভিত্তিক সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে। ৫২ লটে তিন কোটি ৭৭ লাখ বই প্রথমে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ২০ মে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থে ক্রয়কার্যক্রম সম্পাদন করতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়।

আরও পড়ুন : দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিবারের প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ৮৫টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৯৮টি লটের জন্য ৫২২টি দরপত্র নির্দেশিকা ক্রয় করা হয় এবং ২৭৪টি দরপত্র দাখিল করা হয়। প্রতিটি দরপত্র নির্দেশিকায় ৯৮টি লটের যেকোনো একটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ক এক সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, দরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। কমিটিকে মূল্যায়ন বিষয়ক সহায়তা করার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কারিগরি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটির কাছে দরপত্র পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে উপকমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। কারিগরি উপকমিটি ভৌত-অবকাঠামো সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং দরপত্র নির্দেশিকার শর্ত অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারার ডিক্লারেশন অব প্রডাকশন ক্যাপাসিটির ভিত্তিতে মেশিনের উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করে। মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি উপকমিটির প্রতিবেদন ও দরপত্র নির্দেশিকার শর্ত পর্যালোচনা করে মেশিনের উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে এনসিটিবি কর্তৃক গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র জানায়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নে দাখিলকৃত ২৭৪টি দরপত্রের মধ্যে শিডিউলে সন্নিবেশিত শর্তগুলো পূরণ করায় কারিগরি ও আর্থিক বিবেচনায় ২৬৫টি দরপত্র রেসপনসিভ এবং ৯টি দরপত্র নন-রেসপনসিভ বলে বিবেচিত হয়। দাখিলকৃত দরপত্রের মূল্যায়নকালে ৫২টি লটে সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতার দর গ্রহণ এবং ৪৬টি লটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়।

৯৮টি লটে ৭,১০,৮৬,৮০৬ কপি পাঠ্যপুস্তকের সুপারিশকৃত ৫২টি লটের মধ্যে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের ৪৬টি লটে ৩,৩১,০৮,১১৮ কপি পাঠ্যপুস্তকের উদ্ধৃত দর ১০১,৫৪,৪৫,৪৯২.৩৭ টাকা। যার প্রাক্কলিত দর ১০২,১৪,৪৭,৪৪৭.১৫ এবং কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের ছয়টি লটে ৪৬,৫৭,৪৯৮ কপি পাঠ্যপুস্তকের উদ্ধৃত দর ১৪,২৮,০৯,৮৪৭.৪৩ টাকা; যার প্রাক্কলিত দর ১৪,৩৬,৫৫,৮৪৮.২১ টাকা। ৩,৭৭,৬৫,৬১৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে প্রাক্কলিত দর ১১৬,৫১,০৩,২৯৫.৩৬ টাকা; যা সর্বমোট প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ০.৫৯ শতাংশ কম বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই দুই প্রেসকেই বই ছাপানোর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

তবে, অগ্রনীর মালিক পক্ষ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেছেন, লিখিতভাবে কাজের আদেশ পাওয়ার  আগে কিছুই বলা যায় না। 

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন

সূত্র জানায়, বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর স্বার্থে পিপিআর ২০০৮ এর ৩১ ধারায় বিবৃত পণ্য, কার্য ইত্যাদি ক্রয়ে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ সংক্রান্ত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ (সংশোধন-আগস্ট ১, ২০১৬) এর ৭ দফায় বিবৃত ৩ উপধারার বিধান মতে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরদাতার দর গ্রহণ করার সুপারিশ করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সার্বিক পর্যবেক্ষণ যাচাই, পর্যালোচনা ও মূল্যায়নে আহ্বানকৃত ৯৮টি লটের মধ্যে ৫২টি লটের ৩,৭৭,৬৫,৬১৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের লক্ষ্যে সর্বমোট উদ্ধৃত দর ১১৫,৮২,৫৫,৩৩৯.৮০ টাকার (পাঠ্যপুস্তক প্রতি গড়ে মুদ্রণ কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহের খরচ ৩০.৬৭ টাকা) ক্রয় প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করে।

প্রসঙ্গত, দরদাতাদের দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে উত্তীর্ণ হবে। এ জন্য আজ ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনে জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে।

অ্যাসাইনমেন্টের সঙ্গে স্কুলের বেতনের সম্পর্ক নেই : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha অ্যাসাইনমেন্টের সঙ্গে স্কুলের বেতনের সম্পর্ক নেই : শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষকদের একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক : শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তদবিরে : সেতুমন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তদবিরে : সেতুমন্ত্রী ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা - dainik shiksha ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা এ সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু - dainik shiksha এ সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু অষ্টম-নবম শ্রেণির ক্লাস দুই দিন : নতুন রুটিন প্রকাশ - dainik shiksha অষ্টম-নবম শ্রেণির ক্লাস দুই দিন : নতুন রুটিন প্রকাশ করোনার বন্ধে এক স্কুলেই অর্ধশতাধিক বাল্যবিবাহ - dainik shiksha করোনার বন্ধে এক স্কুলেই অর্ধশতাধিক বাল্যবিবাহ please click here to view dainikshiksha website