ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন

নওগাঁ প্রতিনিধি |

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির তালিকায় পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সরকার ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সরকারের দাবি, ‘প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে এরকম একটু করতেই হয়’। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহাদাত হুসেইন।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসারে দরিদ্র ও মেধাবি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য সরকারিভাবে উপবৃত্তি পাবেন। এতে ওই শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির হার, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আর অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে গড়ে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে ও ভর্তির পর থেকে বিরতিহীনভাবে অধ্যয়ন করতে হবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের হাতে থাকা কাগজপত্রে দেখা যায়, শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী (গত অক্টোবর মাসে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ভোটার লিস্ট অনুযায়ী) ২২৪ জন অথচ উপবৃত্তির চাহিদার লিস্টে প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সরকার ৪৩৮ জন শিক্ষার্থী দেখান। এরমধ্যে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পেয়েছেন। অথচ প্রাপ্যতা অনুসারে ওই প্রতিষ্ঠানের ৬৯ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে। উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়াই করে না। তারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাদের নামে যে উপবৃত্তির টাকা আসে এটাও তারা জানেন না।

অভিভাবক ভোটার লিস্ট অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আছে ৫৩ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৫০ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৩৯ জন, নবম শ্রেণিতে ৪১ জন, দশম শ্রেণিতে ৪১ জন। তাদের মধ্যে উপবৃত্তি পান ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৫২ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ২৫ জন, নবম শ্রেণিতে ২৩ জন, দশম শ্রেণিতে ১৮ জন। এরমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের কোন কাগজপত্রে নাম নেই ষষ্ঠ শ্রেণির ১০ জনের, সপ্তম শ্রেণির ২১ জনের, অষ্টম শ্রেণির ৫ জনের, নবম শ্রেণির ২ জনের ও দশম শ্রেণির ৬ জনেরসহ মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থীর। কিন্তু প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণিতে  ১৩০ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১০০ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৭৮ জন, নবম শ্রেণিতে ৭০ জন ও দশম শ্রেণিতে ৬০ জনসহ মোট ৪৩৮ জন।

চাপাপুর ইব্রাহীম মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী নাদিয়ার অভিভাবক আঞ্জুমান আরা, জয় চন্দ্রের বাবা প্রবীণ কুমারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের কখনো শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়নি। তারা কেউ সেই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, উপবৃত্তির কাজে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অফিস সহকারী নূরুল ইসলাম জড়িত। তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাসিক বেতন আদায় করে আসছে।

জানতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী নূরুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, উপবৃত্তি দেয়ার নামে অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়ার যে কথা সঠিক নয়। তবে, অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সরকার দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে এসব একটু করতেই হয়। প্রতিষ্ঠানে আপনার চায়ের দাওয়াত রইলো আপনি আসেন সামনাসামনি কথা বলবো।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আপনার মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রথম জানলাম। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহাদাত হুসেইন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমি এই প্রথম ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। সেখানে আমি যথেষ্ট অনিয়ম পাওয়ার পর সবার সামনে আমি সেগুলো পরিদর্শন বইতে লিখে তাদের পড়ে শুনিয়েছি। তখন তারা কেউ মিথ্যে বলেনি। আর অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তি উঠানোর বিষয়ে জানতাম না। সরকার শিক্ষার জন্য অনেক কিছু করছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তার বই গছানোয় ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের অসন্তোষ - dainik shiksha শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তার বই গছানোয় ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের অসন্তোষ পাঠ্যবইয়ে চুরি করা প্রবন্ধ, সচেতন মহলে শোরগোল - dainik shiksha পাঠ্যবইয়ে চুরি করা প্রবন্ধ, সচেতন মহলে শোরগোল ভুয়া সনদে এমপিও ভোগ : দুদকের জালে ধরা সেই শিক্ষক - dainik shiksha ভুয়া সনদে এমপিও ভোগ : দুদকের জালে ধরা সেই শিক্ষক আইডিয়াল কলেজ শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন - dainik shiksha আইডিয়াল কলেজ শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন আইডিয়াল কলেজ শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন - dainik shiksha আইডিয়াল কলেজ শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0050251483917236