লেনদেন না করায় সাড়ে ৬ কোটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব বন্ধ - ব্যাংক ও বীমা - দৈনিকশিক্ষা

লেনদেন না করায় সাড়ে ৬ কোটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

লেনদেন সহজ বলে দিন দিন বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা। কিন্তু বেশিরভাগ গ্রাহক নিবন্ধন করে কোন রকম লেনদেন করছেন না। আর এ কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে অসংখ্য হিসাব। এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরের নবেম্বর শেষে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার। এরমধ্যে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭৪ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের নবেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার। যা তার আগের মাস অক্টোবরে ছিল ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১৪ লাখ ২১ হাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিক বাড়লেও সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা উল্টো কমেছে। টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে নবেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭৪ হাজার, যা মোট গ্রাহকের ৩২ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার।

জানা গেছে, ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারী খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এদিকে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন গ্রাহকের কাছে মোবাইলের লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। নবেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে নবেম্বরে লেনদেন হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই মাসে রেকর্ড ৬৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় ডিজিটাল এ মাধ্যমে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুত, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিটেন্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

নবেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১৬ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এ সময়ে উত্তোলন করেছে ১৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। যা আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে টাকা জমা পরিমাণ বেড়েছে ৩ শতাংশ এবং উত্তোলন বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। অক্টোবর মাসে এমএফএসে রেমিটেন্স সংগ্রহ করেছে ১১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। অক্টোবর মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ১১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নবেম্বর মাসে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩ কোটি টাকা।

নবেম্বরে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। সরকারী পরিশোধ মাসের ব্যবধানে ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

অনুদানের টাকা পেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন শুরু ১ ফেব্রুয়ারি - dainik shiksha অনুদানের টাকা পেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন শুরু ১ ফেব্রুয়ারি উপবৃ্ত্তি পেতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক - dainik shiksha উপবৃ্ত্তি পেতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক পিকে হালদার কাণ্ডে এন আই খানের নাম ভুলভাবে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন - dainik shiksha পিকে হালদার কাণ্ডে এন আই খানের নাম ভুলভাবে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ফি নেয়ার সিদ্ধান্ত - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ফি নেয়ার সিদ্ধান্ত সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি - dainik shiksha সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি সব সহকারী শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি - dainik shiksha সব সহকারী শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি - dainik shiksha প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি please click here to view dainikshiksha website