লোকসানে থাকলেও বিকাশ-নগদের ওপর বাড়তি করের বোঝা - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

লোকসানে থাকলেও বিকাশ-নগদের ওপর বাড়তি করের বোঝা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বিকাশ-নগদ কিংবা রকেটের মত দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার দেখা পাচ্ছে না। মোটা দাগে গোটা খাতটিই এখন চলছে লোকসানে। এর মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য উত্থাপিত বাজেটে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট করহার বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণত কর দিতে হয় না। অন্যদিকে নিত্যনতুন সেবা ও প্রযুক্তির প্রচলনের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফার বদলে গ্রাহক বাড়ানোর দিকেই নজর দিতে হচ্ছে বেশি। এ অবস্থায় খাতটিতে করহার বাড়ানোর ঘোষণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিকাশ ও নগদের লোগো।

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমএফএসের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ করপোরেট কর বাড়ানো হয়েছে। দেশে এমএফএস সেবার পরিধি বাড়লেও এ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি বিকাশ দুই বছর ধরে লোকসান গুনছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার অবস্থাও সুবিধাজনক নয়।

আরও পড়ুন : দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিবারের প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’

বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর করহার বর্তমানের সাড়ে ৩২ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৩৭ শতাংশে। তালিকাবহির্ভূত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান করপোরেট করহার সাড়ে ৩২ শতাংশ। বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে কার্যরত ১৫টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে এ খাতের সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই ৪০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। এছাড়া যেসব এমএফএস সেবা প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনো ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হিসেবে সেবা দিচ্ছে, সেগুলোর করপোরেট কর বাড়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মুনাফায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া করহার বাড়ানোর ফলে এমএফএসে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, লোকসানে থাকার কারণে এমএফএস থেকে এমনিতেই কোনো করপোরেট কর আহরণ করতে পারছে না সরকার। এ অবস্থায় কেন এ খাতে কর হার বাড়ানো হয়েছে, সেটি বোধগম্য নয়। এমএফএসের করপোরেট করহার বাড়ানো একেবারেই অযৌক্তিক। এতে ভবিষ্যতে এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। খাতটির উন্নয়নে করপোরেট কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, দেশে কার্যরত ১৫টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা এ বছরের এপ্রিল শেষে ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৭৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। মাসটিতে এমএফএসের মাধ্যমে ৬৩ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৫ কোটিতে। ওই মাসে এমএফএসের মাধ্যমে ২১২ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। এমএফএসের মাধ্যমে ইউটিলিটি বিল, বৃত্তির টাকা, বিভিন্ন ধরনের ভাতার অর্থ দেয়া হয়।

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন

মানুষের মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সরকারও এমএফএসকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর বাড়ানোর বিষয়টি যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, খাতটি বর্তমানে বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় নিত্যনতুন সেবা ও প্রযুক্তির প্রচলনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। ফলে মুনাফার চেয়ে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছে সবাই। এ সময় এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা উচিত। তাছাড়া কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে সংক্রমণ এড়াতে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। এক্ষেত্রে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশের এমএফএস খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি। গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ৩৩ কোটি, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ৪৮ কোটি ও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৮ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল বিকাশ। কিন্তু দুই বছর ধরেই বড় অংকের লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে ৬২ কোটি ও ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে ৮১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিকাশের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরো উন্নত সেবা দেয়াই বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য। এতে বড় অংকের অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে দুই বছর ধরে কোম্পানিটি লোকসান গুনছে। এ অবস্থায় করপোরেট করহার বাড়ানোর বিষয়টি এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গ্রাহক সংখ্যায় বিকাশের পরই রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ। এর বাইরে বাকি ১২ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা যৎসামান্য। তবে এসব প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে মুনাফা করার মতো অবস্থায় নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাজেট প্রস্তাবে এমএফএসের ওপর করপোরেট কর বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, এমএফএসের ওপর বিদ্যমান করপোরেট কর সাড়ে ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি কার্যকর হলে এখনই হয়তো গ্রাহক পর্যায়ে প্রভাব পড়বে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে খাতটিতে বিনিয়োগ ও সার্বিকভাবে আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। আমরা মনে করি, আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন করতে না পারলে ডিজিটালাইজেশনের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তাছাড়া দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ক্যাশলেস সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এ ধরনের লেনদেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখে।

প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে যেমন এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ব্যাংক ট্রান্সফারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে পরিশোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার বেশি পরিশোধ হলে সেটি ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার কিংবা এমএফএসের মাধ্যমে সম্পাদন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। সরবরাহ ও ঠিকাদারির বিল ব্যাংকিং বা এমএফএসের মাধ্যমে গ্রহণ করা না হলে সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য উৎসে করহারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ কর্তনের বিধান করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে একটি আধুনিক প্রযুক্তিকে আইনি ভিত্তি দেয়া হয়েছে। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত - dainik shiksha সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত - dainik shiksha ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত লকডাউন বাড়লে পেছাতে পারে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা - dainik shiksha লকডাউন বাড়লে পেছাতে পারে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ পেলেই অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ - dainik shiksha সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ পেলেই অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে যা ভাবছে শিক্ষা প্রশাসন - dainik shiksha এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে যা ভাবছে শিক্ষা প্রশাসন অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া ‘অসম্ভব’ - dainik shiksha অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া ‘অসম্ভব’ তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব, জরিমানা ৫ লাখ টাকা - dainik shiksha তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব, জরিমানা ৫ লাখ টাকা করোনার চেয়ে নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ : সিইসি - dainik shiksha করোনার চেয়ে নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ : সিইসি please click here to view dainikshiksha website