শারদীয় দুর্গাপূজা : মহাসপ্তমী আজ - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

শারদীয় দুর্গাপূজা : মহাসপ্তমী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

‘ষষ্ঠীতে হলো মায়ের বোধন/সপ্তমীতে সমাগম/অষ্টমী দিনের অঞ্জলিতে/চলবে প্রতিমা দর্শন/নবমী আসলে ভোরে/ভোজে দিনটা চলে/দশমীর বাদ্যি বাজে/বিদায় সুরের তালে।’- পূজার্চনা, দেবীর পায়ে অঞ্জলি, খাওয়া দাওয়া আর মণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিন কাটবে। দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছর পূজার আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি ভক্তরা। এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংক্রমণ কম থাকায় গতবারের অপূর্ণতা এ বছর পুষিয়ে নিতে চাইছেন তারা।

ষষ্ঠী তিথিতে গতকাল সোমবার সকালে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং বেলতলায় হয়েছে বিহিতপূজা। সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে হয়েছে দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা- পূজা বা বোধন। এছাড়া ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে হয়েছে মূল দুর্গোৎসবের সূচনা। সকাল থেকে ঢাকের বাদ্যি, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত ছিল মন্দির ও মণ্ডপপ্রাঙ্গণ। মূল প্রতিমায় দেবীর রূপ কল্পনা করে আট উপাচারে সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠী পূজায় ভক্তরা দেবীর বন্দনা করেন। সংকটতারিণী, বিপত্তারিণী, দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছেন করোনা মুক্ত, সুন্দর ও স্বাভাবিক পৃথিবীর। এছাড়া অশুভ শক্তির বিনাশ চেয়ে প্রার্থনা করা হয়।

ভক্তদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি যাই হোক, দেবী দুর্গা মমতাময়ী। মঙ্গলময়ী। ভক্তের কল্যাণেই কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে নেমে আসেন তিনি। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। ভক্তরা ভক্তি ভরে তাকে ডাকলেই তিনি সেই কষ্ট দূর করেন। তিনি জগজ্জননী। সন্তানের কাতর ডাকে তিনি নিশ্চয়ই সারা দেবেন। এই বিশ্ব করোনা মুক্ত হবেই।

সৃষ্টির সূচনালগ্নে যখন অসুররা স্বর্গরাজ্য দখল করে দেবতাদের সেখান থেকে বিতারিত করছিলেন; তখন অসুর বিনাশ করে দেবতাদের স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। তারও অনেক পরে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবন যখন সীতাকে হরণ করে নিয়ে যান তার রাজ্যে, তখন স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য দশরথ পুত্র শ্রীরাম চন্দ্র বন্দনা করেছিলেন দেবী দুর্গার।

যুগ যুগ ধরে সব অশুভ শক্তি, রোগ, শোক ও বিপদ থেকে মুক্তি পেতে দেবতা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত- সবাই আরাধনা করেছেন দেবী দুর্গার। কারণ পুরাণ মতে, ‘দুর্গা’ শব্দটি বিভিন্ন অর্থের দ্যোতক। ‘দ’ অক্ষরটি দৈত্য নাশক। ‘উ’ কার বিঘ্ন নাশক। ‘রেফ’ রোগ নাশক। ‘গ’ অক্ষরটি পাপ নাশক এবং ‘অ’ কার ভয় নাশক ও শত্রু নাশক। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ, ভয় ও শত্রু হতে যিনি রক্ষা করেন তিনিই দুর্গা। 

মহাসপ্তমীতে আজ মঙ্গলবার সকালে হবে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলোটি উপাদানে দেবীর পূজা। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। সকালে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দ্বীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। আজ থেকে ভক্তরা প্রতিমা দর্শন করতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবেন। তবে আয়োজকদের দৃষ্টি থাকবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহসম্পাদক স্বামী শান্তিকরানন্দ বলেন, করোনার সংক্রমণ থাকায় এ বছরও মঠে কুমারী পূজা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। আশ্রমে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মন্দিরে ও আশ্রম অঙ্গনে স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। মন্দিরে প্রবেশের আগে হাত ধোয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে সাবান ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ভালোভাবে হাত ধুয়ে মন্দিরে ঢোকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল জানান, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বছর পূজায় কোনো আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা মন্দিরের আশপাশে মেলা থাকছে না। মন্দিরের প্রবেশ পথে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা লাইন রাখা হচ্ছে।

please click here to view dainikshiksha website