শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের তথ্যে গরমিল হলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের তথ্যে গরমিল হলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ২০০৫-২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে নিয়োগ পাওয়া এসব নিবন্ধিত শিক্ষকদের সনদের বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে এ নিয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসেছে জালসনদধারী শিক্ষকরা। নিজেদের এমপিও রক্ষায় তারা মড়িয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ উঠেছে জালসনদধারী শিক্ষকদের তথ্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠানো হচ্ছে না। দৈনিক শিক্ষাডটকমকে ই-মেইল ও টেলিফোন করে অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন।

এ অভিযোগ পৌঁছেছে এনটিআরসিএতেও। জালসনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এনটিআরসিএ। কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা তালিকা ও মহাপরিচালকের দপ্তরের এমপিও শিটের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। কোন শিক্ষকের তথ্যে গরমিল থাকলে তালিকা পাঠানোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। একইসাথে নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকদের তথ্য পাঠানোর সময় বাড়িয়েছে এনটিআরসিএ। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকদের তথ্য পাঠানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের। এনটিআরসিএ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সব জেলা শিক্ষা অফিস  ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে।   

জানা গেছে, আগামী ১০ নভেম্বর নিবন্ধন পরীক্ষায় পাসের সাল, রোল নম্বর, বিষয় ইত্যাদি উল্লেখ করে শিক্ষকদের সুস্পষ্ট তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

সারাদেশে জালসনদধারী শত শত শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শত শত শিক্ষক জালসনদ নিয়ে কমিটির মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত আছেন। বছরের পর বছর তারা এমপিও বাবদ অবৈধভাবে ভোগ করছেন সরকারের কোটি কোটি টাকা। অপরদিকে নিবন্ধিত প্রার্থীরা শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন। কালেভদ্রে প্রতিষ্ঠান সরকারি হলে জাল সনদধারী শিক্ষকদের কু-কর্মের কথা নজরে আসে। 
আর তা না হলে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ঘাপটি মেরে থেকে এমপিওভোগ করছেন তারা। জালিয়াত শিক্ষকরা সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সাথে সাথে জাতির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছেন। যদিও জালসনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বারবারই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 'জাল সনদে ও ভুয়া ইনডেক্স দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা?-তা দৈনিক শিক্ষাডটকমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষকদের জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

এনটিআরসিএ সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কতজন শিক্ষক কর্মরত আছেন-তাদের নিবন্ধন সনদেরর বিস্তারিত পাঠাতে বলা হয়েছিল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, ইআইআইএন নম্বর, শিক্ষকদের নিয়োগের তারিখ, যোগদানের তারিখ, পদের নাম, বিষয়, নিবন্ধন পরীক্ষার রোল নম্বর, ব্যাচ, নিবন্ধনের সাল, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নিবন্ধিত শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখ করে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। যেসব কর্মকর্তা তথ্য দিচ্ছিলেন না তাদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য ছক যাচাই করে দেখা হবে মহাপরিচালকের দপ্তরে সংরক্ষিত তথ্যের সাথে। তথ্যে গরমিল থাকলে তালিকা পাঠানোর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।

তথ্য পাঠাতে কর্মকর্তাদের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে এনটিআরসিএতে এসব তথ্য পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ২২ অক্টোবর এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে এনটিআরসিএকে জানাতে বলেছেন কর্মকর্তারা। তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বরাবরেই এনটিআরসিএ কঠোর অবস্থানে আছে। জাল সনদধারী কোন শিক্ষকের তথ্য এনটিআরসিএর হাতে আসলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জালিয়াত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। জালসনদধারী শিক্ষকদের বিষয় সুস্পষ্ট অভিযোগ যথাযথভাবে এনটিআরসিএকে জানান।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল  SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার গাইড লাইন প্রকাশ, তিন ফুট দূরত্বে ক্লাসরুমের বেঞ্চ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার গাইড লাইন প্রকাশ, তিন ফুট দূরত্বে ক্লাসরুমের বেঞ্চ স্কুল-কলেজ খোলার দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা নয় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খোলার দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা নয় ক্লাসরুমে সর্বোচ্চ ১৫ শিক্ষার্থী, প্রতি বেঞ্চে ১ জন - dainik shiksha ক্লাসরুমে সর্বোচ্চ ১৫ শিক্ষার্থী, প্রতি বেঞ্চে ১ জন প্রধান তিন পদ খালি থাকায় বেহাল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় - dainik shiksha প্রধান তিন পদ খালি থাকায় বেহাল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের স্মরণসভা মঙ্গলবার - dainik shiksha সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের স্মরণসভা মঙ্গলবার আলিম পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু ২৬ জানুয়ারি - dainik shiksha আলিম পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু ২৬ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলে ফিরবে না করোনাকালে কাজে যুক্ত হওয়া অনেক শিক্ষার্থী - dainik shiksha স্কুলে ফিরবে না করোনাকালে কাজে যুক্ত হওয়া অনেক শিক্ষার্থী জেডিসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু মঙ্গলবার - dainik shiksha জেডিসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু মঙ্গলবার দাখিলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ - dainik shiksha দাখিলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ পদোন্নতির সংশোধিত খসড়া তালিকায় সরকারি স্কুলের সাত হাজার শিক্ষক - dainik shiksha পদোন্নতির সংশোধিত খসড়া তালিকায় সরকারি স্কুলের সাত হাজার শিক্ষক জেডিসির খাতা দেখার সম্মানী চান শিক্ষকরা - dainik shiksha জেডিসির খাতা দেখার সম্মানী চান শিক্ষকরা ভুয়া পেইজ: পুলিশি অ্যাকশন নিতে কারিগরি বোর্ডের চিঠি - dainik shiksha ভুয়া পেইজ: পুলিশি অ্যাকশন নিতে কারিগরি বোর্ডের চিঠি প্রভাষক-সহকারী অধ্যাপকদের বদলির আবেদনের সুযোগ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত - dainik shiksha প্রভাষক-সহকারী অধ্যাপকদের বদলির আবেদনের সুযোগ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত please click here to view dainikshiksha website