শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে এন আই খানের পাঁচ পরামর্শ - সরকারিকরণ - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে এন আই খানের পাঁচ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সরকারের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি আদায় করার পরামর্শ দিয়েছেন দৈনিক শিক্ষার প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষাসচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। শুধু সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় নয়,  সরকারিকরণ হলে সরকারকেও যে শিক্ষকরা আরও উপযুক্ত গ্র্যাজুয়েট উপহার দেবেন, স্কুল-কলেজের যদি আয় থাকে তাহলে সেটাও কোষাগারে দেবেন, ইত্যাদি বিষয় শিক্ষকদেরকেই তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষার লাইভে এসব পরামর্শ দেন তিনি। ১৪ জুলাই দুপুরে অনুষ্ঠিত লাাইভটির সঞ্চালক  ছিলেন দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক ও প্রকাশক সিদ্দিকুর রহমান খান।

শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের জন্য সব শিক্ষক নেতা ও শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটু কৌশল অবলম্বন ও সরকারকে শিক্ষকরা কি দেবেন তার হিসেব-নিকেষ করে সম্মিলিতভাবে দাবি উত্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গক্রমে এন আই খান আরও বলেন, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের অর্থসংশ্লেষের হিসেব চাইলেন তখন আমি অনুরোধ করলাম বেসরকারি শিক্ষক সংগঠনগুলোকে উদ্যোগী হতে। কিন্ত তারা তা না করে মিছিল-সমাবেশসহ নানা বৈরী মনোভাব দেখালেন। ‍ফলে সরকারের কাছে একটা নেতিবাচক ধারণা চলে গেলো।

প্রাথমিকের মতোই মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষা সরকারিকরণের দাবি আদায়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিকরণ করা না হলে মানসম্মত এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। চাকরির সিকিউরিটি থাকলে বা পেনশন পাবেন একথা জানলে শিক্ষকরা স্ব-প্রণোদিত হয়ে  আরও অনেক কাজ করবেন। সরকারিকরণের পর অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের চাপ দেয়াও যাবে। তাই সরকারিকরণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন এন আই খান।

সরকারিকরণের দাবি আদায়ে রাজনৈতিক নেতাদের মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করে শিক্ষক নেতাদের কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সরকারিকরণের দাবিটা একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেই এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদের আগ্রহ সৃষ্টি করা সম্ভব। যদি সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করা হয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের মনোভাব উল্লেখ করে, তাহলে রাজনৈতিক নেতাদের এটা বোঝানো সম্ভব যে- সরকারিকরণ করা হলে তাদের আপন লোকেরাই লাভবান হবেন। সরকারিকরণের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ পুরো দেশ লাভবান হবে।

সরকারিকরণের দাবি আদায় কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশ্যে এন আই খান বলেন, আপনারা সকলে একই প্ল্যাটফর্মে আসুন। নিজেদের ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া সরকারিকরণের প্ল্যাটফর্মের সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না। একইসাথে সরকারিকরণের দাবি আদায়ে সকল শিক্ষক নেতাদের সমন্বয়ে একটি যোগাযোগ কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। লাইভের আলোচনায় সারাদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করার বিষয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলোর কাজের প্রধান পরামর্শক হিসেবে থাকার জন্য এন  আই খানকে অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষক নেতাদের সার্বিক সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন সাবেক শিক্ষা সচিব। তিনি বলেন, ‘আপনাদের যখন যেই সহযোগিতা প্রয়োজন তা করার চেষ্টা আমি করব।’

সঞ্চালক সিদ্দিকুর রহমান খানের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শিক্ষাসচিব হিসেবে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ নভেম্বর মাসের নিজের একটা অভিজ্ঞতা লাইভে শেয়ার করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি কি চাই? আমি উত্তর দিয়েছিলাম, শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা দিতে পনেরশো কোটি টাকা আর প্রাথমিকের মতোই মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার কাছে সরকারিকরণের আর্থিক সংশ্লেষসহ ফাইল চেয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব কতটা ইতিবাচক। বলে রাখা ভালো, আমার অনুরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দেয়ার জন্য দিয়েছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের সেই কথোপকথনটি পরদিন শুধু দৈনিক শিক্ষায় প্রকাশিত হয়। 

এন আই খান বলেন, ‘দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খান এসব বিষয় জানেন এবং ঢাকায় শিক্ষকদের দুটি সম্মেলন করিয়ে সেখানে তাদেরকে প্রাথমিকের মতোই হিসেব কষে ফাইল তৈরি করে দিতে বলেছিলাম। তারা তা করতে পারলেন না। নিজেদের মধ্যে বনিবনা হলো না। এছাড়াও কোনও কোনও শিক্ষক সংগঠন প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন। এভাবে হবে না। জাতীয়করণের দাবি আদায় করতে হলে সরকারের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।    

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দু’একমাস পেছাতে পারে - dainik shiksha এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দু’একমাস পেছাতে পারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশে এইচএসসির ফল - dainik shiksha এসএসসির ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশে এইচএসসির ফল অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দেবে শিক্ষাবোর্ডগুলোই - dainik shiksha অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দেবে শিক্ষাবোর্ডগুলোই অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা - dainik shiksha অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা মাদরাসায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ - dainik shiksha মাদরাসায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ - dainik shiksha এমপিওর অর্ধেক টাকা পাওয়ার শর্তে জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ please click here to view dainikshiksha website