শিক্ষার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে

শ্যামল দাশ |

পৃথিবীতে যে, যত মহৎ হোক না কেন, সে কোন না কোন শিক্ষকের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছে। যতগুলো সম্মানজনক পেশা আছে তার মধ্যে শিক্ষকতা পেশা হলো 'চিন্তাশীলতা এবং সৃজনশীলতার দিক থেকে সর্বোচ্চ সম্মানিত পেশা'। সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও শিক্ষকতা পেশা একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

শিক্ষা যদি জাতীর মেরুদণ্ড হয় তবে শিক্ষকেরা সেই মেরুদণ্ডের স্রষ্টা। নৈতিক বিচারে শিক্ষকদের চেয়ে সম্মানিত এবং শিক্ষকতার চেয়ে মর্যাদা পূর্ণ পেশা আরেকটিও নেই। শিক্ষা ব্যাক্তির অন্তর্নিহিত সত্তাকে জাগ্রত, বিকশিত ও শানিত করে। শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে মানবিক গুণাবলির উৎকর্ষ সাধন,গণতান্ত্রিক চেতনা ও দেশাত্ববোধ সম্পন্ন উন্নত জীবন উপযোগী সুনাগরিক গড়ে তোলা। উন্নত ও মর্যাদাশীল জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

আমাদের দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষকসমাজ তথা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতিকে দিক নির্দেশনামূলক নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। যেমন, '১৯৫২র ভাষা আন্দোলনে', '৬২এর শিক্ষা আন্দোলন', '৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন', '৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান', '৭০ এর নির্বাচন' এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ও নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষকেরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজুদ্দিন আহমেদের ব্যাক্তিগত সহকারী হিসেবে ড. আনিসুজ্জামান স্যার বিশেষ দায়ীত্ব পালন করেছেন। আবার, ৯০ দশক এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষক এবং ডা. শামসুল আলম খান মিলন নেতৃত্ব দিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেন।

বর্তমানে 'কোভিড -১৯' এর কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকরা যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে- টিভি,রেডিও,মোবাইল ফোন,অনলাইন,ইন্টারনেট প্লাটফর্ম ,জুম ইত্যাদি ব্যবহার করে দূরবর্তী শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক মহামারির বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য শিক্ষকেরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে  ও জ্ঞান বিনিময় ও সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যত মহামারি মোকাবেলার জন্য সমাজকে তৈরি করছেন। 

বাংলাদেশে শিক্ষকরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে ১১ ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৪ ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বেড়েছে বিভিন্ন মাধ্যমের শিক্ষা। অন্যদিকে বর্তমানে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রায় ১৪৫টির মত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-কার্যক্রম চালাচ্ছে। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

কিন্তু এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার মত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে সব জায়গায় শিক্ষাদানের কাজটা যথাযথভাবে হচ্ছেনা। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে ব্যার্থ হচ্ছে। দেশে ৯০ শতাংশ শিক্ষাকার্যক্রম এখনো বেসরকারি উদ্যেগে পরিচালিত হচ্ছে। এ সেক্টরের দশ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে পাচঁ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী এমপিওভুক্ত হলেও এখনো বিরাট একটি অংশ এমপিওভূক্ত নয়। সাড়ে সাত হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময়ে সরকার একাডেমিক স্বীকৃতি দিলেও তাদেরকে এমপিওভূক্ত করা হচ্ছেনা। ফলে শিক্ষায় দিন দিন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক দেয়া হচ্ছেনা। অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষককে এমপিওভূক্ত করা হচ্ছেনা। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূলবেতনের শতভাগ পেলেও এখনো ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা। শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ উৎসবভাতা পান। এ ভাতা আর বাড়ানো হচ্ছে না।

পদোন্নতিতে রয়েছে সমস্যা। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের কুখ্যাত জনবল কাঠামোর কারণে কলেজের শিক্ষকেরা সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেননা। আগে ৮ বছর পর একটি সিলেকশন গ্রেড পেতেন; এখন সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ১২ বছরের ও ১৬ বছরের সিলেকশন গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। যা শিক্ষকদের জন্য খুবই অপমানজনক ও অসম্মানজনক। পদোন্নতি না দিয়ে শিক্ষকদেরকে পদ অবনতি করা হয়েছে। এটা শিক্ষক সমাজের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে জনবল কাঠামোতে বিদ্যমান অনুপাত প্রথার কারণে একজন ২৫ বছর চাকুরি করে প্রভাষক থাকেন, আবার প্রভাষক থেকে কেউ কেউ অবসর নেন। অন্যদিকে তারই ছাত্র নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক হচ্ছেন। এখানে আর্থিক বিষয়টির চাইতে মর্যাদার ক্ষেত্রে বিরাট বৈষম্য। যা বিশ্বশিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্যের সংগে বেমানান। কিন্তু আগের জনবল কাঠামোতে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টির কথা উল্লেখ ছিল যা ২০১৮ তে এসে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খুব দুঃখজনক। 

আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত বেসরকারি কলেজগুলোতে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকেরা সরকার নিবন্ধিত নিবন্ধন পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর এমপিওভূক্ত হতে পারছেন না। এর ফলে তারা লেখাপড়া ও শ্রেণি কার্যক্রম বাদ দিয়ে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ব্যস্ত আছেন। ফলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশ বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষকেরা সরকার নির্ধারিত নিবন্ধন পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করে,স্কুল বা কলেজের নিয়োগ কমিটি কতৃক নির্ধারিত পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করার পর স্কুল বা কলেজে শিক্ষক ও প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কিন্তু এসমস্ত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা কোনো ধরণের সরকারি টাকা বা এমপিও পাননা। 

বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যত সরকার এসেছে তারা এক বা একাধিক 'শিক্ষা কমিশন' গঠন করেছেন। সেই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার আগেই সরকার বিদায় নিয়েছেন। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণার পর ১০ বছর বর্তমান সরকার সময় পেয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলো এই দীর্ঘ সময় সরকার শিক্ষানীতির মৌলিক কোনো ধারাই বাস্তবায়ন করেননি। কাঠামোগত সংস্কার হয়নি; স্থায়ী কোনো শিক্ষাকমিশন হয়নি; নীতি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা আইন হয়নি। সরকার নতুন করে আবার শিক্ষানীতি সংশোধনের উদ্যেগ নিয়েছেন। আসলে শিক্ষা নিয়ে কাজের চেয়ে কথাই বেশি হচ্ছে। এই অবস্থা শিক্ষকদের জন্য কাম্য হতে পারে না।

বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে 'শিক্ষানীতি ২০১০' প্রনয়ণ করেছেন। ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারশতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনশতাধিক বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরণ করেছেন। দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন স্থানে নতুন করে মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও সৃষ্টি করেছেন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষদের জন্য ২০ শতংশ বৈশাখীভাতা ও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বই ,মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য কল্যাণট্রাস্ট ও অবসরভাতা বোর্ডে বিশেষ ভাতা বরাদ্দ করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকরণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এ ডিজিটাল ল্যাব,অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন যা উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি করোনার সময়ে নন-এমপিও শিক্ষকদেরকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আমরা ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত কর‍তে রাস্ট্রীয়ভাবে অংগীকারবদ্ধ। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন স্বীকার করেছেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দের অপ্রতুলতার জন্য শিক্ষায় আকাংখিত উন্নতি হচ্ছেনা। যেখানে শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবী ছিলো বাজেটের ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেয়া হোক। সেখানে বাজেটে বরাদ্দ ২ দশমিক ২ শতাংশের ওপর উঠেনি। অথচ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে বাংলাদেশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করার অঙ্গীকার করেছিলো। তবে তা, রক্ষা করা হয়নি।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য অবদান সত্ত্বেও সরকারি বেসরকারি শিক্ষায় এখনো বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান। মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক। মানসম্মত শিক্ষক পেতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, চাকুরির নিশ্চয়তা,অবকাঠামো উন্নয়ন। বেসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে (গভর্নিং বডি) স্থানীয় প্রভাবশালীদের অন্তর্ভুক্ত করায় শিক্ষকেরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে। 

এসব বৈষম্য ও সমস্যা দূর করতে না পারলে শিক্ষাক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমতা রক্ষাকারী সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব যেমন সরকার গ্রহণ করেছেন তেমনি শিক্ষার দায়-দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। সরকার যদি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়ে ফেলে অর্থাৎ 'শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণ' করেন তাহলে শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষকদের প্রত্যাশা মান মর্যাদা নিয়ে বেচেঁ থাকা। তাই শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি, সম্মানজনক বেতনভাতা,বেসরকারি শিক্ষকদেরকে অবসর ও কল্যাণট্রাস্টের পরিবর্তে পেনশনের ব্যবস্থা ও পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন নিশ্চিতসহ শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনতে হবে। তাতেই যথাযথভাবে শিক্ষক দিবস পালিত হবে।

লেখক : শ্যামল দাশ, সহকারী অধ্যাপক, নাজিরহাট কলেজ

জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্তকরণ শুরু - dainik shiksha জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্তকরণ শুরু এমপিও নীতিমালা সংশোধনের চূড়ান্ত সভার যত আলোচনা - dainik shiksha এমপিও নীতিমালা সংশোধনের চূড়ান্ত সভার যত আলোচনা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন - dainik shiksha নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন - dainik shiksha এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বন্টন যেভাবে - dainik shiksha ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বন্টন যেভাবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস রুটিন ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন please click here to view dainikshiksha website