শিক্ষা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে বিভাজন চায় না শিক্ষা ক্যাডার - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে বিভাজন চায় না শিক্ষা ক্যাডার

দৈনিকশিক্ষা প্রতিবেদক |

স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসন ক্যাডার-শাসিত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) বিভক্ত করার উদ্যোগ রহিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার এই দুটি অধিদপ্তর প্রধান বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের অধ্যাপকরা। শিক্ষার বাকীসব অধিদপ্তরের প্রধান পদে আছেন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা।  

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষা ক্যাডারের সব বদলির ক্ষমতা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের হাতে দেয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পদে শিক্ষা ক্যাডারদের পদায়ন দেয়া, শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি চালু, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি বাতিল, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করাসহ মোট ২৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খানের কাছে সমিতির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা বলছেন, সচিব যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। 

পদোন্নতি চালুর দাবি : 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিবের কাছে শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পদোন্নতি চালুর দাবি জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। সব স্তরে পদোন্নতিযোগ্য সব কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করা, প্রতিবছরে অন্তত একবার সব স্তরে পদোন্নতি প্রদান নিশ্চিত করা ও প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাকরির ৫ বছর পূর্তিতে ষষ্ঠ গ্রেড দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষা ক্যাডারের ১২ হাজার পদ সৃষ্টির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি :

শিক্ষা ক্যাডারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তাবিত ১২ সহস্রাধিক পদ সৃষ্টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছে সমিতি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দপ্তর স্থাপন করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃষ্টি করা এবং ইতোমধ্যে নায়েম ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে সৃষ্ট পদগুলো নিয়োগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে। 

পদ ও স্কেল আপগ্রেডেশন :
অধ্যাপক পদের শতভাগ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে সমিতি। জরুরি ভিত্তিতে ক্যাডার স্ট্রেন্থ অনুযায়ী ১ম ও ২য় গ্রেডে পদ আপগ্রেডেশন ও শিক্ষা ক্যাডারে ছয় স্তরের পদসোপান তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অখণ্ডতা রক্ষা :
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাকে আলাদা করা চেষ্টা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সমিতি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে সব স্তরে বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের বিভক্তিকরণ চেষ্টা বন্ধ করা এবং প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদ সৃষ্টি করে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পদে শিক্ষা ক্যাডার পদায়ন :
মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সমিতি। 

কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত চান শিক্ষা ক্যাডাররা :
পাবলিক পরীক্ষা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছে সমিতি। একইসঙ্গে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে শিক্ষকদের নিরাপত্তাবিধানে বিধি সংযোজন করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় বদলি নীতিমালা ও ননভ্যাকেশন বিভাগ ঘোষণার দাবি :

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য প্রতি তিন বছর পরপর স্বয়ংক্রিয় বদলি নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। শিক্ষা ক্যাডারকে ননভ্যাকেশন বিভাগ ঘোষণা করা এবং শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পূর্ণগড় বেতনে অর্জিত ছুটি দেয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 

সিডিউলভুক্ত পদে শিক্ষা ক্যাডার পদায়ন :

বিসিএস সাধারণ শিক্ষ সমিতি বলছে, দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রশাসনিক দায়িত্বপালন, ব্যবস্থাপনা, গবেষণা, পরিকল্পনা ও পরিচালনার জন্য সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউলভুক্ত পদগুলো শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূতদের পদায়নের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউলভুক্ত পদগুলোতে অন্যদের পদায়নের উদ্দেশে অ্যালোকেশন অব বিজনেস পরিবর্তনের চেষ্টা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আর শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউলভুক্ত পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চত করা ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। 

অধ্যক্ষদের জন্য গাড়ি ও নতুনদের কেন্দ্রীয় যোগদান দাবি :

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের প্রাধিকার ভিত্তিতে গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে সমিতি। আর শিক্ষা ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয়ভাবে যোগদান ও ওরিয়েন্টশনের ব্যবস্থা করা ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদানের সাথে সাথে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে সমন্বিত বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের ইনসিটু ও ওএসডি কর্মকর্তাদের বাড়িভাড়া ফেরত দেয়ার আদেশ বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তর বিভাজন না করার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বিভক্ত হলে সেখানে শিক্ষা ক্যাডারদের পদ কমিয়ে দেয়া হয়। ফলে প্রশাসন ক্যাডারদের হাতে ক্ষমতা চলে যায়। এতে শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সে কারণে এ দুই অধিদপ্তর বিভক্ত না করে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে পরে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সচিব মহোদয় আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আর শিক্ষা ক্যাডারের ১২ হাজারের অধিক পদ সৃজন কাজ অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী, মহাসচিব মো. শওকত হোসেন মোল্যা, সহসভাপতি মো. মামুন উল হক, বিপুল চন্দ্র সরকার, কামরুন নাহার, যুগ্ম মহাসচিব রাশিদা আক্তার ও মোহাম্মদ নাসির হোসেনসহ ২৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

 

দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর যুগপূর্তির ম্যাগাজিনে লেখা আহ্বান ৫০ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি - dainik shiksha ৫০ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি ১ হাজার ৩৩০ প্রতিষ্ঠানে সবাই পাস - dainik shiksha ১ হাজার ৩৩০ প্রতিষ্ঠানে সবাই পাস পৌনে দুই লাখ জিপিএ-৫ - dainik shiksha পৌনে দুই লাখ জিপিএ-৫ এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে - dainik shiksha এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৯৪ শতাংশের বেশি, ৭ হাজার ১০৪ জিপিএ-৫ - dainik shiksha এইচএসসি বিএম-ভোকেশনালে পাসের হার ৯৪ শতাংশের বেশি, ৭ হাজার ১০৪ জিপিএ-৫ আলিমে পাসের হার ৯২ শতাংশের বেশি, সাড়ে ৯ হাজার জিপিএ-৫ - dainik shiksha আলিমে পাসের হার ৯২ শতাংশের বেশি, সাড়ে ৯ হাজার জিপিএ-৫ শুধু এইচএসসিতে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ - dainik shiksha শুধু এইচএসসিতে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0047891139984131